এস
বিবেকবিমলজ্যোতিঃ জ্বেলেছিলে তুমি হৃদয়-কুটীরে; তোমারি আলোকে তোমারে দেখেছি। তোমারি চরণ ধ’রেছি শিরে। যৌবনে, হরি, ছাইল ভীষণ অবিশ্বাস-ঘনমেঘে; বহিল প্রবল পাপ-পবন; ডুবাইল ঘোর অন্ধ-তিমিরে। আরো একবার এস, প্রভু এস, দীপ্ত মিহির-রূ...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
বিবেকবিমলজ্যোতিঃ জ্বেলেছিলে তুমি হৃদয়-কুটীরে; তোমারি আলোকে তোমারে দেখেছি। তোমারি চরণ ধ’রেছি শিরে। যৌবনে, হরি, ছাইল ভীষণ অবিশ্বাস-ঘনমেঘে; বহিল প্রবল পাপ-পবন; ডুবাইল ঘোর অন্ধ-তিমিরে। আরো একবার এস, প্রভু এস, দীপ্ত মিহির-রূ...
কোন্ শুভগ্রহালোকে, কি মঙ্গল যোগে, চকিতে যেন গো, পাই দরশন! সেই, ক্ষুদ্র একপল, কৃতার্থ, সফল, রোমাঞ্চিত তনু, ঝরে দুনয়ন। আয়ুঃ যদি হ’ত সেই এক বিন্দু, কে চাহিত দীর্ঘ-বিষাদের সিন্ধু? তোমায় দেখিতে দেখিতে, ফুরা’ত চকিতে, ভবের ব...
যেমন, তীব্র জ্যোতির আধার রবিরে, প্রভাতে তুলিয়া ধর;— আর, কিরণ ছটায় ভাসাইয়া দিয়া, এ ধরণী আলো কর; নিশার আঁধারে হইয়া আবৃত, লুকায় ধরায় বঞ্চনা, তানৃত, প্রভাতে তাদের নগ্নতা প্রকাশি, লাজে কর জড়সর; তেমনি, নিবিড় মোহের আঁধ...
যে দিন তোমারে হৃদয় ভরিয়া ডাকি, শাসন-বাকা মাথায় করিয়া রাখি;— কে যেন সেদিন আঁখি-তারকায়, মোহন-তুলিকা বুলাইয়া যায়, সুন্দর, তব সুন্দর সব, যে দিকে ফিরাই আঁখি! স্ফুটতর ঐ নভো-নীলিমায়, উজ্জ্বলতর শশধর ভায়, সুমধুরতর পঞ্চমে...
তার, মঙ্গল আরতির বে’জে উঠে শাঁক! সেই, প্রেম-অরুণের হেম-কিরণে ফু’টে থাক্। দেখে শোভা, পিয়ে সুধা, মিটে যাক্ নিখিলের ক্ষুধা, আপনা বিলিয়ে দে রে, সব তৃষাতুর (সে সুধা) লু’টে খাক্। স্নিগ্ধ মলয় ব’য়ে মন্দ, ছড়িয়ে দিক্ তোর বিম...
(আমি) দেখেছি জীবন ভ’রে চাহিয়া কত; (তুমি) আমারে যা’ দাও, সবই তোমারি মত। আকুল হইয়ে মিছে, চেয়ে মরি কত কি যে, (কাঁদে) পদতলে নিম্ফল বাসনা শত। কিসে মোর ভাল হয়, তুমি জান, দয়াময়, (তবু) নির্ভর জানে না, এ অবিনত। আমি কেন চেয়...
তব, শাস্তি-অরুণ-শান্ত-করুণ- -কনক-কিরণ-পরশে, জাগে প্রভাত হৃদি-মন্দিরে, চরণে নমিয়া হরষে। আরতি উঠে বাজিয়া ধীরে, সৌরভ ছুটে মৃদু সমীরে, প্রেম-কমল হাসে, ভাসে শান্ত-মরম-সরসে। সংশয়, দ্বিধা, তর্ক, দ্বন্দ্ব, দূরে যায়, বিমলানন্...
যবে, সৃজনবাসনা-কণা, ল’য়ে কৃপা-আঁথি-কোণে, চাহিলে, হে রাজ-অধিরাজ! অমনি, নিমেষে বিরাট বিশ্ব, চরণে করিয়া নতি, মহাশূন্যে করিল বিরাজ! মহালোক-সিন্ধু হ’তে এক বিন্দু ল’য়ে করে, প্রক্ষেপ করিলে, বিভু, অন্ধকার চরাচরে; অমনি চরণতলে,...
(সে যে) পরম-প্রেম-সুন্দর, জ্ঞান নয়ন-নন্দন; পুণ্য-মধুর-নিরমল, জ্যোতিঃ জগত-বন্দন। নিত্য-পুলক-চেতন, শান্তি-চির-নিকেতন, ঢাল চরণে, রে মন, ভকতি-কুসুম-চন্দন। সুরট মল্লার—সুরফাঁক।
কার কোলে ধরা লভে পরিণতি? (সেই) অপার কারণসিন্ধু। কার জ্যোতিঃ-কণা ব্রহ্মাণ্ড উজলে? (সেই) চিরনির্ম্মল ইন্দু। কার পানে ছোটে রবি-শশি-তারা? নাহি পথ ভ্রান্তি, স্থির আঁখিতারা? ভ্রমে মেঘ বায়ু হ’য়ে আত্মহারা? (সে) সচ্চিদানন্দবিন্...
তোমারি দেওয়া প্রাণে, তোমারি দেওয়া দুখ, তোমারি দেওয়া বুকে, তোমারি অনুভব। তোমারি দুনয়নে, তোমারি শোকবারি, তোমারি ব্যাকুলতা, তোমারি হা হা রব। তোমারি দেওয়া নিধি, তোমারি কেড়ে নেওয়া, তোমারি শঙ্কিত আকুল পথ-চাওয়া, তোমারি...
সম্পদের কোলে বসাইয়ে, হরি, সুখ দিয়ে এ পরীক্ষে! (আমি) সুখের মাঝে তোমায় ভুলে থাকি, (অমনি) দুখ দিয়ে দাও শিক্ষে। মত্ত হ’য়ে সদা পুত্র-পরিবারে, ধন-রত্ন-মণি-মাণিক্যে, (আমি) ধুয়ে মু’ছে ফেলি তোমার নামগন্ধ, ম’জে তার চাক্চিক্...
(ওরা) —চাহিতে জানে না, দয়াময়! চাহে ধন, জন, আয়ুঃ, আরোগ্য, বিজয়! করুণার সিন্ধু-কূলে, বসিয়া, মনের ভুলে এক বিন্দু বারি তু’লে, মুখে নাহি লয়; তীরে করি’ ছুটাছুটি, ধূলি বাঁধে মুঠি মুঠি, পিয়াসে আকুল হিয়া, আরো ক্লিষ্ট হয়।...
লোকে বলিত তুমি আছ, ভে’বে দেখিনি আছ কিনা, তখন আমি বুঝিনি, প্রভু, নাস্তি গতি তোম। বিনা। তোমারি গৃহে বসতি করি খেয়েছি তোমারি অন্ন, তোমারি বায়ু দিতেছে আয়ু, বেঁচে আছি তোমারি জন্য; ক্ষুধা হরেছে তব ফলে, পিপাসা গেছে তব জলে; সে...
(আমি) অকৃতী অধম বলে’ও তো, কিছু কম ক’রে মোরে দাওনি! যা’ দিয়েছ তারি অযোগ্য ভাবিয়া, কেড়েও তো কিছু নাওনি! (তব) আশীষ কুসুম ধরি নাই শিরে, পায়ে দ’লে গেছি, চাহি নাই ফিরে; তবু দয়া ক’রে কেবলি দিয়েছ, প্রতিদান কিছু চাওনি। (আমি...
তব, করুণা-অমিয় করি’ পান, যত, পাপ, তাপ, দুঃখ, মোহ, বিষণ্ণতা, নিরাশা, নিরুদ্যম, পায় অবসান। এই, পাপ-চিত্ত, সদা তাপ-লিপ্ত রহি’, এনেছে দুরপনেয় মৃত্যুবিকার বহি, দিতেছে দারুণ দাহ হৃদয়-দেহ দহি’, দেবতা গো, দয়া করি’ কর পরিত্র...
ওই, বধির যবনিকা তুলিয়া, মোরে প্রভু, দেখাও তব চির-আলোক-লোক। ওপারে সবই ভাল, কেবল সুখ-আলো, এ পারে সবই ব্যথা, আঁধার, শোক! মাঝে দুস্তর কঠিন অন্তর, শ্রান্ত পথিকেরে বলিছে ‘সর সর’, ওই, তোরণপাদদেশে, পিপাসাতুর এসে, ফিরে কি যাবে,...
আমি তো তোমারে চাহিনি জীবনে, তুমি অভাগারে চেয়েছ; আমি না ডাকিতে, হৃদয়-মাঝারে নিজে এসে দেখা দিয়েছ! চির-আদরের বিনিময়ে, সখা, চির-অবহেলা পেয়েছ; (আমি)—দূরে ছু’টে যেতে, দু’হাত পসারি, ধ’রে টে’নে কোলে নিয়েছ! “ওপথে যে’ওনা ফির...
তুমি, নির্ম্মল কর, মঙ্গলকরে মলিন মর্ম্ম মুছা’য়ে; তব. গুণাকিরণ দিয়ে যাক্, মোর মোহকালিমা ঘুচা’য়ে। লক্ষ্যশূন্য লক্ষ বাসনা ছুটিছে গভীর আঁধারে, জানিন; কখন ডুবে যাবে কোন্ অকূল-গরল-পাথারে! প্রভু, বিশ্ববিপদহন্তা, তুমি, দাঁড়া...
ধ’রে তোল, কোথা আছ কে আমার! একি বিভীষিকাময় অন্ধকার! কি এক রাক্ষসী মায়া, নয়নমোহন রূপে, ভুলায়ে আনিয়া মোরে ফে’লে গেল মহাকূপে! শ্রমে অবসন্ন কায়, কণ্টক বিঁধিছে তায়, বৃশ্চিক দংশিছে, অনিবার। পিপাসায় শুষ্ক কণ্ঠ, শরীর কর্দ...