- পরিচয়
একদিন দেখিলাম উলঙ্গ সে ছেলে ধুলি-’পরে বসে আছে পা দুখানি মেলে। ঘাটে বসে মাটি ঢেলা লইয়া কুড়ায়ে দিদি মাজিতেছে...
- মৌন
যাহা-কিছু বলি আজি সব বৃথা হয়, মন বলে মাথা নাড়ি—এ নয়, এ নয়। যে কথায় প্রাণ মোর পরিপূর্ণতম সে কথা বাজে না কে...
- কাব্য
তবু কি ছিল না তব সুখদুঃখ যত, আশানৈরাশ্যের দ্বন্দ্ব আমাদেরি মতো, হে অমর কবি! ছিল না কি অনুক্ষণ রাজসভা-ষড়চক্র,...
- প্রাচীন ভারত
দিকে দিকে দেখা যায় বিদর্ভ, বিরাট, অযোধ্যা, পাঞ্চাল, কাঞ্চী উদ্ধতললাট— স্পর্ধিছে অম্বরতল অপাঙ্গ-ইঙ্গিতে, অশ্বে...
- বনে ও রাজ্যে
সারাদিন কাটাইয়া সিংহাসন-’পরে সন্ধ্যায় পশিলা রাম শয়নের ঘরে। শয্যার আধেক অংশ শূন্য বহুকাল, তারি ’পরে রাখিলেন...
- মিলনদৃশ্য
হেসো না, হেসো না তুমি বুদ্ধি-অভিমানী। একবার মনে আনো ওগো ভেদজ্ঞানী, সে মহাদিনের কথা যবে শকুন্তলা বিদায় লইতেছিল...
- বঙ্গমাতা
পূণ্যে পাপে দুঃখে সুখে পতনে উত্থানে মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানে হে স্নেহার্ত বঙ্গভূমি— তব গৃহক্রোড়ে চিরশিশু...
- পুঁটু
চৈত্রের মধ্যাহ্নবেলা কাটিতে না চাহে। তৃষাতুরা বসুন্ধরা দিবসের দাহে। হেনকালে শুনিলাম বাহিরে কোথায় কে ডাকিল দূর...
- দুই উপমা
যে নদী হারায়ে স্রোত চলিতে না পারে সহস্র শৈবালদাম বাঁধে আসি তারে; যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড় পদে পদে বাঁধে তার...
- শুশ্রূষা
ব্যথাক্ষত মোর প্রাণ লয়ে তব ঘরে অতিথিবৎসলা নদী কত স্নেহভরে শুশ্রূষা করিলে আজি— স্নিগ্ধ হস্তখানি দগ্ধ হৃদয়ের ম...
- মধ্যাহ্ন
বেলা দ্বিপ্রহর। ক্ষুদ্র শীর্ণ নদীখানি শৈবালে জর্জর স্থির স্রোতোহীন। অর্ধমগ্ন তরী-’পরে মাছরাঙা বসি, তীরে দুটি গ...
- স্বার্থ
কে রে তুই, ওরে স্বার্থ, তুই কতটুকু— তোর স্পর্শে ঢেকে যায় ব্রহ্মাণ্ডের মুখ, লুকায় অনন্ত সত্য; স্নেহ সখ্য প্রী...
- সঙ্গী
আরেক দিনের কথা পড়ি গেল মনে। একদা মাঠের ধারে শ্যাম তৃণাসনে একটি বেদের মেয়ে অপরাহ্নবেলা কবরী বাঁধিতেছিল বসিয়া...
- প্রভাত
নির্মল তরুণ উষা, শীতল সমীর, শিহরি শিহরি উঠে শান্ত নদীনীর। এখনো নামে নি জলে রাজহাঁসগুলি, এখনো ছাড়ে নি নৌকা সাদ...
- শান্তিমন্ত্র
কাল আমি তরী খুলি লোকালয়-মাঝে আবার ফিরিয়া যাব আপনার কাজে— হে অন্তর্যামিনী দেবী, ছেড়ো না আমারে, যেয়ো না একেল...
- অভিমান
কারে দিব দোষ বন্ধু, কারে দিব দোষ! বৃথা কর আস্ফালন, বৃথা কর রোষ। যারা শুধু মরে কিন্তু নাহি দেয় প্রাণ, কেহ কভু...
- মানসলোক
মানসকৈলাসশৃঙ্গে নির্জন ভুবনে ছিলে তুমি মহেশের মন্দিরপ্রাঙ্গণে তাঁহার আপন কবি, কবি কালিদাস, নীলকণ্ঠদ্যুতিসম স্ন...
- বর্ষশেষ
নির্মল প্রত্যুষে আজি যত ছিল পাখি বনে বনে শাখে শাখে উঠিয়াছে ডাকি। দোয়েল শ্যামার কণ্ঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাস, গেয়ে গ...
- বন
শ্যামল সুন্দর সৌম্য, হে অরণ্যভূমি, মানবের পুরাতন বাসগৃহ তুমি। নিশ্চল নির্জীব নহ সৌধের মতন— তোমার মুখশ্রীখানি ন...
- শেষ কথা
মাঝে মাঝে মনে হয়, শতকথাভারে হৃদয় পড়েছে যেন নুয়ে একেবারে। যেন কোন্ ভাবযজ্ঞ বহু আয়োজনে চলিতেছে অন্তরের সুদ...
- নারী
তুমি এ মনের সৃষ্টি, তাই মনোমাঝে এমন সহজে তব প্রতিমা বিরাজে। যখন তোমারে হেরি জগতের তীরে মনে হয় মন হতে এসেছ বাহ...
- তত্ত্বজ্ঞানহীন
যার খুশি রুদ্ধচক্ষে করো বসি ধ্যান, বিশ্ব সত্য কিম্বা ফাঁকি লভ সেই জ্ঞান। আমি ততক্ষণ বসি তৃপ্তিহীন চোখে বিশ্বের...
- হৃদয়ধর্ম
হৃদয় পাষাণভেদী নির্ঝরের প্রায়, জড়জন্তু সবা-পানে নামিবারে চায়। মাঝে মাঝে ভেদচিহ্ন আছে যত যার সে চাহে করিতে...
- স্বপ্ন
কাল রাতে দেখিনু স্বপন— দেবতা-আশিস-সম শিয়রে সে বসি মম মুখে রাখি করুণ নয়ন কোমল অঙ্গুলি শিরে বুলাইছে ধীরে ধীরে...
- প্রেয়সী
হে প্রেয়সী, হে শ্রেয়সী, হে বীণাবাদিনী, আজি মোর চিত্তপদ্মে বসি একাকিনী ঢালিতেছ স্বর্গসুধা; মাথার উপর সদ্যস্না...
- আশার সীমা
সকল আকাশ, সকল বাতাস, সকল শ্যামল ধরা, সকল কান্তি, সকল শান্তি সন্ধ্যাগগন-ভরা, যত-কিছু সুখ, যত সুধামুখ, যত মধুমাখ...
- বৈরাগ্য
কহিল গভীর রাত্রে সংসারে বিরাগী, ‘গৃহ তেয়াগিব আজি ইষ্টদেব লাগি। কে আমারে ভুলাইয়া রেখেছে এখানে।’ দেবতা কহিল, ‘...
- ভক্তের প্রতি
সরল সরস স্নিগ্ধ তরুণ হৃদয়, কী গুণে তোমারে আমি করিয়াছি জয় তাই ভাবি মনে। উৎফুল্ল উত্তান চোখে চেয়ে আছ মুখ-পান...
- ঐশ্বর্য
ক্ষুদ্র এই তৃণদল ব্রহ্মাণ্ডের মাঝে সরল মাহাত্ম্য লয়ে সহজে বিরাজে। পূরবের নবসূর্য, নিশীথের শশী, তৃণটি তাদেরি স...
- প্রেম
নিবিড়তিমির নিশা, অসীম কান্তার লক্ষ দিকে লক্ষ জন হইতেছে পার। অন্ধকারে অভিসার, কোন্ পথ-পানে কার তরে, পান্থ তাহ...
- প্রথম চুম্বন
স্তব্ধ হল দশ দিক নত করি আঁখি— বন্ধ করি দিল গান যত ছিল পাখি। শান্ত হয়ে গেল বায়ু— জলকলস্বর মুহূর্তে থামিয়া গে...
- অসময়
বৃথা চেষ্টা রাখি দাও। স্তব্ধ নীরবতা আপনি গড়িবে তুলি আপনার কথা। আজি সে রয়েছে ধ্যানে—এ হৃদয় মম তপোভঙ্গভয়ভীত...
- স্নেহগ্রাস
অন্ধ মোহবন্ধ তব দাও মুক্ত করি। রেখো না বসায়ে দ্বারে জাগ্রত প্রহরী হে জননী, আপনার স্নেহকারাগারে সন্তানেরে চিরজ...
- অজ্ঞাত বিশ্ব
জন্মেছি তোমার মাঝে ক্ষণিকের তরে অসীম প্রকৃতি! সরল বিশ্বাসভরে তবু তোরে গৃহ ব’লে, মাতা ব’লে মানি। আজ সন্ধ্যাবেলা...
- খেয়া
খেয়া নৌকা পারাপার করে নদীস্রোতে— কেহ যায় ঘরে, কেহ আসে ঘর হতে। দুই তীরে দুই গ্রাম আছে জানাশোনা, সকাল হইতে সন্...
- যাত্রী
ওরে যাত্রী, যেতে হবে বহুদূর দেশে। কিসের করিস চিন্তা বসি পথশেষে— কোন্ দুঃখে কাঁদে প্রাণ! কার পানে চাহি বসে বসে...
- ঋতুসংহার
হে কবীন্দ্র কালিদাস, কল্পকুঞ্জবনে নিভৃতে বসিয়া আছ প্রেয়সীর সনে যৌবনের যৌবরাজ্যসিংহাসন-’পরে। মরকতপাদপীঠ বহনের...
- আশিস্গ্রহণ
আশিস্গ্রহণ চলিয়াছি রণক্ষেত্রে সংগ্রামের পথে। সংসারবিপ্লবধ্বনি আসে দূর হতে। বিদায় নেবার আগে, পারি যতক্ষণ, পরি...
- ক্ষণমিলন
পরম আত্মীয় ব’লে যারে মনে মানি তারে আমি কতদিন কতটুকু জানি। অসীম কালের মাঝে তিলেক মিলনে পরশে জীবন তার আমার জীবন...
- অভয়
আজি বর্ষশেষ-দিনে, গুরুমহাশয়, কারে দেখাইছ বসে অন্তিমের ভয়! অনন্ত আশ্বাস আজি জাগিছে আকাশে, অনন্ত জীবনধারা বহিছ...