হে প্রেয়সী, হে শ্রেয়সী, হে বীণাবাদিনী, আজি মোর চিত্তপদ্মে বসি একাকিনী ঢালিতেছ স্বর্গসুধা; মাথার উপর সদ্যস্নাত বরষার স্বচ্ছ নীলাম্বর রাখিয়াছে স্নিগ্ধ হস্ত আশীর্বাদে ভরা; সম্মুখেতে শষ্যপূর্ণ হিল্লোলিত ধরা বুলায় নয়নে মোর অমৃতচুম্বন; উতলা বাতাস আসি করে আলিঙ্গন; অন্তরে সঞ্চার করি আনন্দের বেগ বহে যায় ভরা নদী; মধ্যাহ্নের মেঘ স্বপ্নমালা গাঁথি দেয় দিগন্তের ভালে। তুমি আজি মুগ্ধমুখী আমারে ভুলালে, ভুলাইলে সংসারের শতলক্ষ কথা— বীণাস্বরে রচি দিলে মহা নীরবতা। ১১ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)