আশিস্গ্রহণ চলিয়াছি রণক্ষেত্রে সংগ্রামের পথে। সংসারবিপ্লবধ্বনি আসে দূর হতে। বিদায় নেবার আগে, পারি যতক্ষণ, পরিপূর্ণ করি লই মোর প্রাণমন নিত্য-উচ্চারিত তব কলকণ্ঠস্বরে উদার মঙ্গলমন্ত্রে— হৃদয়ের ’পরে লই তব শুভস্পর্শ, কল্যাণসঞ্চয়। এই আশীর্বাদ করো, জয়পরাজয় ধরি যেন নম্রচিত্তে করি শির নত দেবতার আশীর্বাদী কুসুমের মতো। বিশ্বস্ত স্নেহের মূর্তি দুঃস্বপ্নের প্রায় সহসা বিরূপ হয়— তবু যেন তায় আমার হৃদয়সুধা না পায় বিকার, আমি যেন আমি থাকি নিত্য আপনার। ১৪ শ্রাবণ, ১৩০৩ — চৈতালি (1896)