- মাটিতে মিশিল মাটি
মাটিতে মিশিল মাটি, যাহা চিরন্তন রহিল প্রেমের স্বর্গে অন্তরের ধন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- নববর্ষ এল আজি
নববর্ষ এল আজি দুর্যোগের ঘন অন্ধকারে; আনে নি আশার বাণী, দেবে না সে করুণ প্রশ্রয়; প্রতিকূল ভাগ্য আসে হিংস্র বিভ...
- আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে
আপনি ফুল লুকায়ে বনছায়ে গন্ধ তার ঢালে দখিনবায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- ভজনমন্দিরে তব
ভজনমন্দিরে তব পূজা যেন নাহি রয় থেমে, মানুষে কোরো না অপমান। যে-ঈশ্বরে ভক্তি কর, হে সাধক, মানুষের প্রেমে তাঁরি...
- হিমাদ্রির ধ্যানে যাহা
হিমাদ্রির ধ্যানে যাহা স্তব্ধ হয়ে ছিল রাত্রিদিন, সপ্তর্ষির দৃষ্টিতলে বাক্যহীন শুভ্রতায় লীন, সে তুষারনির্ঝরিণী...
- পুরানো কালের কলম লইয়া হাতে
পুরানো কালের কলম লইয়া হাতে লিখি নিজ নাম নূতন কালের পাতে। নবীন লেখক তারি ’পরে দিনরাতি লেখে নানামতে আপন নামের প...
- শ্যামল ঘন বকুলবন
শ্যামল ঘন বকুলবন- ছায়ে ছায়ে যেন কী সুর বাজে মধুর পায়ে পায়ে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- শরতে শিশিরবাতাস লেগে
শরতে শিশিরবাতাস লেগে জল ভ’রে আসে উদাসি মেঘে। বরষন তবু হয় না কেন, ব্যথা নিয়ে চেয়ে রয়েছে যেন। — স্ফুলিঙ্গ (1...
- আলো তার পদচিহ্ন
আলো তার পদচিহ্ন আকাশে না রাখে; চলে যেতে জানে, তাই চিরদিন থাকে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- সন্ধ্যারবি মেঘে দেয়
সন্ধ্যারবি মেঘে দেয় নাম সই করে। লেখা তার মুছে যায়, মেঘ যায় সরে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- দুঃখশিখার প্রদীপ জ্বেলে
দুঃখশিখার প্রদীপ জ্বেলে খোঁজো আপন মন, হয়তো সেথা হঠাৎ পাবে চিরকালের ধন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- আগুন জ্বলিত যবে
আগুন জ্বলিত যবে আপন আলোতে সাবধান করেছিলে মোরে দূর হতে। নিবে গিয়ে ছাইচাপা আছে মৃতপ্রায়, তাহারি বিপদ হতে বাঁচা...
- তুমি বসন্তের পাখি বনের ছায়ারে
তুমি বসন্তের পাখি বনের ছায়ারে করো ভাষা দান। আকাশ তোমার কণ্ঠে চাহে গাহিবারে আপনারি গান। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- আমি অতি পুরাতন
আমি অতি পুরাতন, এ খাতা হালের হিসাব রাখিতে চাহে নূতন কালের। তবুও ভরসা পাই— আছে কোনো গুণ, ভিতরে নবীন থাকে অমর ফা...
- অনেক তিয়াষে করেছি ভ্রমণ
অনেক তিয়াষে করেছি ভ্রমণ জীবন কেবলি খোঁজা। অনেক বচন করেছি রচন, জমেছে অনেক বোঝা। যা পাই নি তারি লইয়া সাধনা যাব...
- তুমি যে তুমিই, ওগো
তুমি যে তুমিই, ওগো সেই তব ঋণ আমি মোর প্রেম দিয়ে শুধি চিরদিন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
-
বেদনা দিবে যত অবিরত দিয়ো গো। তবু এ ম্লান হিয়া কুড়াইয়া নিয়ো গো। যে ফুল আনমনে উপবনে তুলিলে কেন গো হেলাভরে...
- কী পাই, কী জমা করি
কী পাই, কী জমা করি, কী দেবে, কে দেবে, দিন মিছে কেটে যায় এই ভেবে ভেবে। চ’লে তো যেতেই হবে— কী যে দিয়ে যাব বিদা...
- অনিত্যের যত আবর্জনা
অনিত্যের যত আবর্জনা পূজার প্রাঙ্গণ হতে প্রতি ক্ষণে করিয়ো মার্জনা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- পাখি যবে গাহে গান
পাখি যবে গাহে গান, জানে না, প্রভাতরবিরে সে তার প্রাণের অর্ঘ্যদান। ফুল ফুটে বন-মাঝে— সেই তো তাহার পূজানিবেদন, আ...
- আকাশে ছড়ায়ে বাণী
আকাশে ছড়ায়ে বাণী অজানার বাঁশি বাজে বুঝি। শুনিতে না পায় জন্তু, মানুষ চলেছে সুর খুঁজি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- কাছের রাতি দেখিতে পাই
কাছের রাতি দেখিতে পাই মানা। দূরের চাঁদ চিরদিনের জানা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- গাছ দেয় ফল
গাছ দেয় ফল ঋণ ব’লে তাহা নহে। নিজের সে দান নিজেরি জীবনে বহে। পথিক আসিয়া লয় যদি ফলভার প্রাপ্যের বেশি সে সৌভাগ...
- কালো মেঘ আকাশের তারাদের ঢেকে
কালো মেঘ আকাশের তারাদের ঢেকে মনে ভাবে, জিত হল তার। মেঘ কোথা মিলে যায় চিহ্ন নাহি রেখে, তারাগুলি রহে নির্বিকার।...
- তোমারে হেরিয়া চোখে
তোমারে হেরিয়া চোখে, মনে পড়ে শুধু, এই মুখখানি দেখেছি স্বপ্নলোকে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- জীবনরহস্য যায়
জীবনরহস্য যায় মরণরহস্য-মাঝে নামি, মুখর দিনের আলো নীরব নক্ষত্রে যায় থামি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- শিকড় ভাবে, “সেয়ানা আমি
শিকড় ভাবে, “সেয়ানা আমি, অবোধ যত শাখা। ধূলি ও মাটি সেই তো খাঁটি, আলোকলোক ফাঁকা।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- চলিতে চলিতে চরণে উছলে
চলিতে চলিতে চরণে উছলে চলিবার ব্যাকুলতা— নূপুরে নূপুরে বাজে বনতলে মনের অধীর কথা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও
মান অপমান উপেক্ষা করি দাঁড়াও, কণ্টকপথ অকুণ্ঠপদে মাড়াও, ছিন্ন পতাকা ধূলি হতে লও তুলি। রুদ্রের হাতে লাভ করো শে...
- বসন্তের আসরে ঝড়
বসন্তের আসরে ঝড় যখন ছুটে আসে মুকুলগুলি না পায় ডর, কচি পাতারা হাসে। কেবল জানে জীর্ণ পাতা ঝড়ের পরিচয়— ঝড় তো...
- প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে
প্রেমের আদিম জ্যোতি আকাশে সঞ্চরে শুভ্রতম তেজে, পৃথিবীতে নামে সেই নানা রূপে রূপে নানা বর্ণে সেজে। — স্ফুলিঙ্গ (...
- আকাশে সোনার মেঘ
আকাশে সোনার মেঘ কত ছবি আঁকে, আপনার নাম তবু লিখে নাহি রাখে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- ভোলানাথের খেলার তরে
ভোলানাথের খেলার তরে খেলনা বানাই আমি। এই বেলাকার খেলাটি তার ওই বেলা যায় থামি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- এসেছিনু নিয়ে শুধু আশা
এসেছিনু নিয়ে শুধু আশা, চলে গেনু দিয়ে ভালোবাসা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- আশার আলোকে
আশার আলোকে জ্বলুক প্রাণের তারা, আগামী কালের প্রদোষ-আঁধারে ফেলুক কিরণধারা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- আপনারে নিবেদন
আপনারে নিবেদন সত্য হয়ে পূর্ণ হয় যবে সুন্দর তখনি মূর্তি লভে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- জীবনদেবতা তব
জীবনদেবতা তব দেহে মনে অন্তরে বাহিরে আপন পূজার ফুল আপনি ফুটান ধীরে ধীরে মাধুর্যে সৌরভে তারি অহোরাত্র রহে যেন ভর...
- ফুলের কলিকা প্রভাতরবির
ফুলের কলিকা প্রভাতরবির প্রসাদ করিছে লাভ, কবে হবে তার হৃদয় ভরিয়া ফলের আবির্ভাব। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- কোন্ খ’সে-পড়া তারা
কোন্ খ’সে-পড়া তারা মোর প্রাণে এসে খুলে দিল আজি সুরের অশ্রুধারা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- ফাগুন এল দ্বারে
ফাগুন এল দ্বারে, কেহ যে ঘরে নাই— পরান ডাকে কারে ভাবিয়া নাহি পাই। — স্ফুলিঙ্গ (1945)