ব্যথাক্ষত মোর প্রাণ লয়ে তব ঘরে অতিথিবৎসলা নদী কত স্নেহভরে শুশ্রূষা করিলে আজি— স্নিগ্ধ হস্তখানি দগ্ধ হৃদয়ের মাঝে সুধা দিল আনি। সায়াহ্ন আসিল নামি, পশ্চিমের তীরে ধান্যক্ষেত্রে রক্তরবি অস্ত গেল ধীরে। পূর্বতীরে গ্রাম বন নাহি যায় দেখা, জ্বলন্ত দিগন্তে শুধু মসীপুঞ্জরেখা; সেথা অন্ধকার হতে আনিছে সমীর কর্ম-অবসান-ধ্বনি অজ্ঞাত পল্লীর। দুই তীর হতে তুলি দুই শান্তিপাখা আমারে বুকের মাঝে দিলে তুমি ঢাকা। চুপি চুপি বলি দিলে, ‘বৎস, জেনো সার, সুখ দুঃখ বাহিরের, শান্তি সে আত্মার।’ ১৪ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)