হৃদয় পাষাণভেদী নির্ঝরের প্রায়, জড়জন্তু সবা-পানে নামিবারে চায়। মাঝে মাঝে ভেদচিহ্ন আছে যত যার সে চাহে করিতে মগ্ন লুপ্ত একাকার। মধ্যদিনে দগ্ধদেহে ঝাঁপ দিয়ে নীরে ‘মা’ বলে সে ডেকে ওঠে স্নিগ্ধ তটিনীরে। যে চাঁদ ঘরের মাঝে হেসে দেয় উঁকি সে যেন ঘরেরই মেয়ে শিশু—সুধামুখী। যে-সকল তরুলতা রচি উপবন গৃহপার্শ্বে বাড়িয়াছে, তারা ভাইবোন। যে পশুরে জন্ম হতে আপনার জানি, হৃদয় আপনি তারে ডাকে ‘পুঁটুরানী’। বুদ্ধি শুনে হেসে ওঠে; বলে, কী মূঢ়তা! হৃদয় লজ্জায় ঢাকে হৃদয়ের কথা। ১ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)