কাল রাতে দেখিনু স্বপন— দেবতা-আশিস-সম শিয়রে সে বসি মম     মুখে রাখি করুণ নয়ন কোমল অঙ্গুলি শিরে বুলাইছে ধীরে ধীরে     সুধামাখা প্রিয়পরশন—     কাল রাতে হেরিনু স্বপন। হেরি সেই মুখ-পানে বেদনা ভরিল প্রাণে     দুই চক্ষু জলে ছলছলি— বুক-ভরা অভিমান আলোড়িয়া মর্মস্থান     কণ্ঠে যেন উঠিল উছলি। সে শুধু আকুল চোখে নীরবে গভীর শোকে     শুধাইল, ‘কী হয়েছে তোর!’ কী বলিতে গিয়ে প্রাণ ফেটে হল শতখান,     তখনি ভাঙিল ঘুমঘোর। অন্ধকার নিশীথিনী ঘুমাইছে একাকিনী,     অরণ্যে উঠিছে ঝিল্লিম্বর— বাতায়নে ধ্রুবতারা চেয়ে আছে নিদ্রাহারা,     নতনেত্রে গনিছে প্রহর। দীপনির্বাপিত ঘরে শুয়ে শূন্য শয্যা-’পরে     ভাবিতে লাগিনু কতক্ষণ— শিথানে মাথাটি থুয়ে সেও একা শুয়ে শুয়ে     কী জানি কী হেরিছে স্বপন,     দ্বিপ্রহরা যামিনী যখন। ১৪ চৈত্র ১৩০২ — চৈতালি (1896)