Where words blossom.
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
বৃষ্টির দিনে
Write
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Be read
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Earn
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
হাব্সী নারীর গান
বাতাস গরজায়, বৃষ্টি পড়ে; পথিক দরজায়, বিদেশী অসহায়, কাতর সে যে হায় বিষম ঝড়ে। কাছে মা নাই তা’র দুধ কে দেবে আর? গরম ক’রে আর আদর ক’রে? বধূ সে কাছে নাই, গম কে ভাঙে ভাই, রুটি কে গড়ে বল্ তাহার তরে? বিদেশী অসহায়, কোথা সে...
রাজা ও রাণী
“ওই শোনো গো কাক কোকিলে ডাকে, সভায় তব লোক দেখ না কত!” “না, না, কোথায় কাক কোকিলে ডাকে? শব্দ হ’ল ঝিঁঝির ডাকের মত। “ওই দেখ গো ভোরের আলো পেয়ে, সভা তোমার উঠ্ছে যেন হেসে!” “না—না, ও নয় দিনের আলো, প্রিয়ে, উদয় চাঁদের রশ্মি...
বিদায় ক্ষণে
মাঝিরা বলিল ‘গেল বেলা গেল, আর বিলম্ব নয়।’ সেই ক্ষণে প্রিয়া শিখা’ল হিয়ায় আঁখি কত কি যে কয়! উদ্বেল হিয়া কাছে এল প্রিয়া কহিতে বিদায় বাণী; মনের যে কথা মুখে মিলাল তা’ আধেক চেতনা মানি’। মুগ্ধ নয়ন জল-ভার-নত, মেলি’ দুই...
সাগরে প্রেম
আমরা এখন প্রেমের দেশে, তবে, বল, এখন কোথায় যাব আর? থাক্বে হেথা?—যেতে কোথাও হ’বে? পাল তুলে দিই?—ধরি তবে দাঁড়? নানান্ দিকে বহে নানান্ বায়, ফাগুন চিরদিনই ফাগুন হায়, প্রেমের পাশে বন্দী মোরা তায়, এখন বল, কোথায় যা’ব আর?...
সাকীর প্রতি (২)
সাকীর প্রতি। ওগো সাকী মদিরা বিলাও, পেয়ালা ভরিয়া বারেবার; মধুপান বিনা মধু যা’বে? বলিয়ো না—দোহাই তোমার। আর কবে ফুলদলে পা’ব, ফুল্লমুখী সুন্দরী সঙ্গিনী? কোন বাধা বাঁধে মোরে আজি?— হেন দিনে,—বল ত’ রঙ্গিনী! দেখ, কি বলিছে ওরা...
প্রিয়া যবে পাশে
প্রিয়া যবে পাশে, হস্তে পেয়ালা, গোলাপের মালা গলে;— কেবা সুল্তান্? তখন আমার গোলাম সে পদতলে। ব’লে দাও বাতি না জ্বালায় আজি আমোদের নাহি সীমা, আজ প্রেয়সীর মুখ-চন্দ্রের আনন্দ পূর্ণিমা! আমাদের দলে সরাব যা’চলে তাহে কারো নাহি...
সাকীর প্রতি
এস সাকী! দেহ পাত্র ভরিয়া রঙ্গিল মদিরায়; আর কারো হাতে এমন করিয়া পাত্র কি লওয়া যায়? সে রস ধরে না আঙুরের ফল,— নাহি সে মর্ত্ত্য-লোকে, সে যে রাঙিয়াছে তোমারি কপোল, উজ্জ্বল করেছে চোখে। আব্দল্ সালম্ বিন্ রাগোয়ান্।
মেঘের প্রতি
আরো গম্ভীরে ডাক তুমি মেঘ, ডাক গম্ভীর স্বরে, তোমার প্রসাদে পরাণ আমার অনুরাগ-রসে ভরে; নিবিড় পরশ-হরষ-আবেশে ঘন রোমাঞ্চ হয়, নব-বিকশিত নীপের পুলক জাগে সারা তনুময়। শূদ্রক।
মারাঠি গাথা
কানাই। আবার কিনিলে মোরে, হে সুন্দরী! গোপী। আমি ত’ আসিনি; টেনে আনে বাঁশরী; লহরিয়া উঠে হিয়া ঘনঘটাতে— কানাই। বালিকা কেমনে এলে আঁধার রাতে? কেমনে চিনিলে পথ? গভীর নিশা! গোপী। চমকে বিজলী মুহু—পাইনু দিশা। কানাই। পিছল সে বাঁকা...
প্রেমের নেশা
ধন্য সে,—প্রভাতে জাগি’ সতৃষ্ণ নয়নে প্রতিদিন যেইজন দেখে ও বয়ান;— মাতাল চেতনা পায় নিশা অবসানে, প্রেমের কাটে না নেশা না গেলে পরাণ! সাদি।
সন্ধির আনন্দ
কমল, গোলাপ আন ভরিয়া অঞ্জলি, আন বেলা, ফুল্লযূথী ছড়াও পবনে; আমার ব্যথায় যা’রা ব্যথা পেলে মনে,— এস আজ! আনন্দের অংশী হ’তে বলি। আন গো অরুণ ফুল, আন শুভ্র কলি, যে ফুল সাজিবে ভাল এ আনন্দ দিনে; সুগন্ধ সলিল-ধারা ঢাল গো ভবনে, আম...
প্রেমের সুখ দুঃখ
প্রেম রাখিল মাথাটি তা’র কাঁটায় ভরা গোলাপ শেষে;— ঠোঁট দু’টি তার শুকিয়ে এল, আঁখির পাতা উঠ্ল ভিজে। সঙ্গীহারা শিথানে তা’র ভয় ভাবনা রইল ঘিরে; তিলে তিলে পোহায় নিশি, ঊষায় ধরা হাসে ফিরে; ঊষার সাথে হরষ এসে চুমিল সেই মুখটি ধ...
মিলন-সঙ্কেত
তোমারি স্বপন-সুখে জাগিয়া উঠি, কাঁচা মিঠে ঘুমটুকু পড়ে গো টুটি’; মৃদু নিশ্বাসে যবে সমীর চলে, রশ্মি-উজল তারা আঁধারে জ্বলে, তোমারি স্বপন-সুখে জাগিয়া উঠি, তোমারি জানালা-তলে এসেছি ছুটি’; চরণ কে যেন মোর আনে গো টানি’, কে জানে...
গোলাপ গুচ্ছ
গোলাপ-গুচ্ছ। সারাদিন আমি বেঁধেছি গোলাপ গুচ্ছ করি’, এবে একে একে দলগুলি তা’র নিতেছি হরি’; দিতেছি ছড়ায়ে যে পথে আমার সে জন যায়, একবার সেকি চাহিবে না ফিরি’? চা’বে না? হায়! তবে পড়ে থাক্,— তবে পড়ে থাক্,— মরিয়া যা’বে? আমি...
নারী বন্দনা (আরব)
নারী-বন্দনা। (আরব) বেতসী জিনিয়া নমনীয় তনু,—কিশলয় জিনি’ কচি; বদন-ইন্দু ঘিরি’ কুন্তল রেখেছে যামিনী রচি’! কজ্জল-হীন কাজল-নয়ন রেশমী পক্ষ্মে ঘেরা, কান্ত কোমল ক্লান্ত সে দিঠি সকল দিঠির সেরা; অধর অরুণ দশন তরুণ প্রবালে মুকুত...
কবির প্রেম
গোলাপ যাহা প্রণয় যদি হ’ত তাই, আমি তা’রি হ’তাম পাতার মত;— দোঁহার তনু বাড়িত একই সাথে, গানের দিনে কিম্বা দুখের রাতে ফুলের বনে কিম্বা মাঠের মাঝে ভাই, হর্ষে বিভোর কিম্বা শোকে হত! গোলাপ যাহা প্রণয় যদি হ’ত তাই, আমি তা’রি হ’ত...
নারী বন্দনা (পারস্য)
নারী-বন্দনা। (পারস্য) ঘন কুন্তল শত তরঙ্গে সতত রঙ্গ করে, ভুরু ধনু কে গো ক’রেছ যোজনা নয়ন-পক্ষ্ম-শরে! গুম্ফ-বিহীন ওষ্ঠে চিবুকে নীল সুষমার লেখা, দীঘল সরল তনু নির্ম্মল, চোখে কজ্জল-রেখা; কালো তিল—খুঁটে কুড়ায়ে তুলেছে,—ফুটায়...