তোমারি স্বপন-সুখে জাগিয়া উঠি, কাঁচা মিঠে ঘুমটুকু পড়ে গো টুটি’; মৃদু নিশ্বাসে যবে সমীর চলে, রশ্মি-উজল তারা আঁধারে জ্বলে, তোমারি স্বপন-সুখে জাগিয়া উঠি, তোমারি জানালা-তলে এসেছি ছুটি’; চরণ কে যেন মোর আনে গো টানি’, কে জানে কেমনে?—আমি জানি নে রাণী! নিথর নিবিড় কালো নদীর‘পরে চলিতে চলিতে বায়ু মূরছি’ পড়ে,— মিলায় চাঁপার বাস—নিবিয়া আসে, ভাবের ভুবন যেন স্বপন-দেশে; পাপিয়ার অনুযোগ ফুটিতে নারি’ মরমে মরিয়া হায় গেল গো তা’রি, আমিও মরিয়া যাব অমনি ক’রে, আদরিণি! ও তোমার হৃদয় প‘রে! এ তৃণ-শয়ন হ’তে তোলো আমারে, মরি গো, মূরছি, ডুবে যাই আঁধারে। পাণ্ডু অধরে আর নয়ন-পাতে, বৃষ্টি কর গো প্রেম চুমার সাথে! কপোল হ’য়েছে হিম, হায় গো প্রিয়, দ্রুত তালে দুরু দুরু কাঁপিছে হিয়া; ধর গে। চাপিয়া বুকে, এস গো ছুটি’ তোমারি বুকের ’পরে যাক্ সে টুটি’। শেলি।