প্রতিষ্ঠানপুরী-রাজতোরণ। (কতিপয় নাগরিক দণ্ডায়মান।) প্রথ। আহা! কি সমারোহ! মহাশয়, ঐ দেখুন,— দ্বিতী। আমার দৃষ্টিপথে সকল বস্তুই যেন ধূসরমর বোধ হচ্যে। তাই হে, সর্ব্বচোর কাল সময় পেয়ে আমার দৃষ্টিপ্রসর প্রায়ই অপহরণ করেছে! প...
মনোরমা মাধবীর বাল্যকালের সখী, তাহাকে বহুদিন পত্র লেখা হয় নাই, উত্তর না পাইয়া সে বিষম চটিয়া গিয়াছিল। আজ দ্বিপ্রহরের পর একটু সময় করিয়া, মাধবী তাহাকে পত্র লিখিতে বসিয়াছিল। এমন সময় প্রমীলা আসিয়া ডাকিল, “বড়দিদি!” মা...
দ্বিতীয়াঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক প্রতিষ্ঠানপুরী—রাজপথ। (দুই জন নাগরিকের প্রবেশ।) প্রথম। ভাল, মহাশয়, আপনার কি এ কথাটা বিশ্বাস হয়? দ্বিতীয়। বিশ্বাস না করেই বা করি কি?—ফলে মহারাজ যে উন্মাদপ্রায় হয়েছেন, তার আর সংশয় নাই। প্র...
আজি চারি বৎসর হইল, ব্রজরাজবাবুর পত্নীবিয়োগ হইয়াছে— বুড়া বয়সের এ দুঃখ বুড়াতেই বোঝে। কিন্তু সে কথা যাউক— তাঁহার আদরের কন্যা মাধবী দেবী যে এই তার ষোল বৎসর বয়সেই স্বামী হারাইয়াছে— ইহাই ব্রজরাজের শরীরের অর্দ্ধেক রক্ত শ...
দৈত্য-দেশ—গুরু শুক্রাচার্য্যের আশ্রম। (শর্ম্মিষ্ঠার সখী দেবিকার প্রবেশ।) দেবি। (আকাশ প্রতি দৃষ্টিপাত করিয়া স্বগত) সূর্য্যদেব ত প্রায় অস্তগত হলেন। এই যে আশ্রমে পক্ষিসকল কুজনধ্বনি করে চারি দিক্ হতে আপন আপন বাসায় ফিরে আ...
প্রথমাঙ্ক প্রথম গর্ভাঙ্ক হিমালয় পর্ব্বত—দূরে ইন্দ্রপুরী অমরাবতী (এক জন দৈত্য যুদ্ধবেশে।) দৈত্য। (স্বগত) আমি প্রতাপশালী দৈত্যরাজের আদেশানুসারে এই পর্ব্বতপ্রদেশে অনেক দিন অবধি ত বাস কচ্যি; দিবারাত্রের মধ্যে ক্ষণকালও স্বচ...
এ পৃথিবীতে এক সম্প্রদায়ের লোক আছে, তাহারা যেন খড়ের আগুন। দপ্ করিয়া জ্বলিয়া উঠিতেও পারে, আবার খপ্ করিয়া নিবিয়া যাইতেও পারে। তাহাদিগের পিছনে সদা-সর্ব্বদা একজন লোক থাকা প্রয়োজন,– সে যেন আবশ্যক অনুসারে, খড় যোগাইয়া দ...
তোমার অসীমে প্রাণমন লয়ে যত দূবে আমি যাই কোথাও দুঃখ, কোথাও মৃত্যু, কোথা বিচ্ছেদ নাই। মৃত্যু সে সবে মৃত্যুর রূপ, দুঃখ সে হয় দুঃখের কূপ, তোমা হাতে যবে স্বতন্ত্র হয়ে আপনার পানে চাই। হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে যাহা কিছু সব আছ...
আমরা সবাই প্রস্তুত আজ, ভীরু পলাতক। লুপ্ত অধুনা এদেশে তোমার গুপ্তঘাতক, হাজার জীবন বিকশিত এক রক্ত-ফুলে, পথে-প্রান্তরে নতুন স্বপ্ন উঠেছে তুলে। অভিজ্ঞতার আগুনে শুদ্ধ অতীত পাতক, এখানে সবাই সংঘবদ্ধ, যে নবজাতক। ক্রমশ এদেশে গুচ্...
সে অনেক রাজনীতি রুগ্ন নীতি মারী মন্বন্তর যুদ্ধ ঋণ সময়ের থেকে উঠে এসে এই পৃথিবীর পথে আড়াই হাজার বছরে বয়সী আমি; বুদ্ধকে স্বচক্ষে মহানির্বাণের আশ্চর্য শান্তিতে চ’লে যেতে দেখে— তবু— আবিরল অশান্তির দীপ্তি ভিক্ষা ক’রে এখানে...
আজ তারা কই সব? ওখানে হিজল গাছ ছিল এক—পুকুরের জলে বহুদিন মুখ দেখে গেছে তার; তারপর কি যে তার মনে হ’ল কবে কখন সে ঝ’রে গেল, কখন ফুরাল, আহা,—চ’লে গেল কবে যে নীরবে, তাও আর জানি নাকো;—ঠোঁট-ভাঙা দাঁড়কাক ঐ বেলগাছটির তলে রোজ ভোরে...
আমার মুখের কথা তোমার নাম দিয়ে দাও ধুয়ে, আমার নীরবতায় তোমার নামটি রাখো থুয়ে। রক্তধারার ছন্দে আমার দেহবীণার তার বাজাক আনন্দে তোমার নামেরি ঝংকার। ঘুমের ’পরে জেগে থাকুক নামের তারা তব, জাগরণের ভালে আঁকুক অরুণ-লেখা নব। সব...