বাহিরে বস্তুর বোঝা
বাহিরে বস্তুর বোঝা, ধন বলে তায়। কল্যাণ সে অন্তরের পরিপূর্ণতায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
বাহিরে বস্তুর বোঝা, ধন বলে তায়। কল্যাণ সে অন্তরের পরিপূর্ণতায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কমরেড, তুমি পাঠালে ঘোষণা দেশান্তরে, কুটিরে কুটিরে প্রতিধ্বনি,— তুলেছে মুক্তি দারুণ তুফান প্রাণের ঝড়ে তুমি শক্তির অটুট খনি। কমরেড, আজ কিষাণ শ্রমিক তোমার পাশে তুমি যে মুক্তি রটনা করো, তারাই সৈন্য: হাজারে হাজারে এগিয়ে আসে...
স্তব্ধ হল দশ দিক নত করি আঁখি— বন্ধ করি দিল গান যত ছিল পাখি। শান্ত হয়ে গেল বায়ু— জলকলস্বর মুহূর্তে থামিয়া গেল, বনের মর্মর বনের মর্মের মাঝে মিলাইল ধীরে। নিস্তরঙ্গ তটিনীর জনশূন্য তীরে নিঃশব্দে নামিল আসি সায়াহ্নচ্ছায়ায়...
আমার খেলা যখন ছিল তোমার সনে তখন কে তুমি তা কে জানত! তখন ছিলনা ভয় ছিলনা লাজ মনে জীবন বহে যেত অশান্ত। তুমি ভোরের বেলা ডাক দিয়েছ কত, যেন আমার আপন সখার মত, হেসে তোমার সাথে ফিরেছিলেম ছুটে সেদিন কতনা বন-বনান্ত। ওগো সেদিন তুম...
মেয়েদের পদবীতে গোলমাল ভারী, অনেকের নামে তাই দেখি বাড়াবাড়ি; ‘আ’কার অন্ত দিয়ে মহিলা করার চেষ্টা হাসির। তাই ভূমিকা ছড়ার। ‘গুপ্ত’ ‘গুপ্তা’ হয় মেয়েদের নামে, দেখেছি অনেক চিঠি, পোস্টকার্ড, খামে। সে নিয়মে যদি আজ ‘ঘোষ’ হয...
কে গো তুমি বিদেশী। সাপ-খেলানো বাঁশি তোমার বাজালো সুর কী দেশী। নৃত্য তোমার দুলে দুলে, কুন্তলপাশ পড়ছে খুলে, কাঁপছে ধরা চরণে, ঘুরে ঘুরে আকাশ জুড়ে উত্তরী যে যাচ্ছে উড়ে ইন্দ্রধনুর বরনে। আজকে তো আর ঘুমায় না কেউ, জলের ’পরে...
যুগে যুগে জলে রৌদ্রে বায়ুতে গিরি হয়ে যায় ঢিবি। মরণে মরণে নুতন আয়ুতে তৃণ রহে চিরজীবী। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যদি জানতেম আমার কিসের ব্যথা তোমায় জানাতাম। কে যে আমায় কাঁদায়, আমি কী জানি তার নাম। কোথায় যে হাত বাড়াই মিছে, ফিরি আমি কাহার পিছে, সব যেন মোর বিকিয়েছে পাই নি তাহার দাম॥ এই বেদনার ধন সে কোথায় ভাবি জনম ধ’রে। ভুবন ভ’রে...
তোমরা দুটি পাখী, মিলন বেলায় গান কেন আজ মুখে মুখে নীরব হোলো। আতসবাজির বক্ষ থেকে চতুর্দ্দিকে স্ফুলিঙ্গ সব ছিটকে পড়ে, তেমনি তোমাদের বিরহতাপ ছড়িয়ে গিয়েছিল সারারাত্রি সুরে সুরে বনের থেকে বনে। গানের মূর্ত্তি নিয়ে তারা পড...
তুমি কেন বহু দূরে—ঢের দূরে—আরো দূরে—নক্ষত্রের অস্পষ্ট আকাশ, তুমি কেন কোনোদিন পৃথিবীর ভিড়ে এসে বল নাকো একটিও কথা; আমরা মিনার গড়ি—ভেঙে পড়ে দু’-দিনেই—স্বপনের ডানা ছিঁড়ে ব্যথা রক্ত হয়ে ঝরে শুধু এইখানে—ক্ষুধা হয়ে ব্যথা...
এ কি তবে সবই সত্য হে আমার চিরভক্ত? আমার চোখের বিজুলি-উজ্বল আলোকে হৃদয়ে তোমার ঝঙ্কার মেঘ ঝলকে, এ কি সত্য? আমার মধুর অধর, বধূর নবলাজসম রক্ত, হে আমার চিরভক্ত, এ কি সত্য? চিরমন্দার ফুটেছে আমার মাঝে কি? চরণে আমার বীণাঝঙ্কার...
শ্মশানের দেশে তুমি আসিয়াছ—বহুকাল গেয়ে গেছ গান সোনালি চিলের মতো উড়ে উড়ে আকাশের রৌদ্র আর মেঘে,— লক্ষ্মীর বাহন যেই স্নিগ্ধ পাখি আশ্বিনের জ্যোৎস্নার আবেগে গান গায়—শুনিয়াছি রাখিপূর্ণিমার রাতে তোমার আহ্বান তার মতো; আম...
জানি গো দিন যাবে এ দিন যাবে। একদা কোন্ বেলাশেষে মলিন রবি করুণ হেসে শেষ বিদায়ের চাওয়া আমার মুখের পানে চাবে। পথের ধারে বাজবে বেণু, নদীর কূলে চরবে ধেনু, আঙিনাতে খেলবে শিশু, পাখিরা গান গাবে। তবুও দিন যাবে এ দিন যাবে॥ তোমার...
বসন্ত যে লেখা লেখে বনে বনান্তরে নামুক তাহারি মন্ত্র লেখনীর ‘পরে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে— কে তুমি আমারে ডাকিলে শ্রাবণ বাতাসে? তোমার আহ্বান ধ্বনি— পরশিয়া মোরে গরজিল দূর আকাশে। বেদনা বিভোল আমি ক্ষণেক দুয়ারে থামি বাহিরে ধূসর দিনে— ছুটে চলি পথে মদির-বিবশ নিশাসে। মেঘে মেঘে ছাওয়া মলিন গগনে,...