কমরেড, তুমি পাঠালে ঘোষণা দেশান্তরে, কুটিরে কুটিরে প্রতিধ্বনি,— তুলেছে মুক্তি দারুণ তুফান প্রাণের ঝড়ে তুমি শক্তির অটুট খনি। কমরেড, আজ কিষাণ শ্রমিক তোমার পাশে তুমি যে মুক্তি রটনা করো, তারাই সৈন্য: হাজারে হাজারে এগিয়ে আসে তোমার দু’পাশে সকলে জড়ো। হে বন্ধু আজ তুমি বিদ্যুৎ অন্ধকারে সে আলোয় দ্রুত পথকে চেনা: সহসা জনতা দৃপ্ত গেরিলা—অত্যাচারে, দৃঢ় শত্র‌ুর মেটায় দেনা। তোমার মন্ত্র কোণে কোণে ফেরে সংগোপনে পথচারীদের ক্ষিপ্রগতি: মেতেছে জনতা মুক্তির দ্বার উদ্ঘাটনে: —ভীরু প্রস্তাবে অসম্মতি। ফসলের ক্ষেতে শত্র‌ু রক্ত-সেচন করে, মৃত্যুর ঢেউ কারখানাতে— তবুও আকাশ ভরে আচমকা আর্তস্বরে: শত্রু নিহত স্তব্ধ রাতে। প্রবল পাহাড়ে গোপনে যুদ্ধ সঞ্চারিত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা মুখর গানে, বিপ্লবী পথে মিলেছে এবার বন্ধু তিতো: মুক্তির ফৌজ আঘাত হানে। শত্র‌ু শিবিরে লাগানো আগুনে বাঁধন পোড়ে —অগ্নি ইসারা জনান্তিকে! ধ্বংসস্তূপে আজ মুক্তির পতাকা ওড়ে ভাঙার বন্যা চতুর্দিকে। নামে বসন্ত, পাইন বনের শাখায় শাখায় গাঢ়-সংগীত তুষারপাতে, অযুত জীবন ঘনিষ্ঠ দেহে সামনে তাকায়: মারণ-অস্ত্র সবল হাতে। লক্ষ জনতা রক্তে শপথ রচনা করে— ‘আমরা নই তো মৃত্যুভীত, তৈরী আমরা; যুগোশ্লাভের প্রতিটি ঘরে তুমি আছ জানি বন্ধু তিতো।’ তোমার সেনানী পথে প্রান্তরে দোসর খোঁজে: ‘কোথায় কে আছ মুক্তিকামী?’ ক্ষিপ্ত করেছে তোমার সে ডাক আমাকেও যে তাইতো তোমার পেছনে আমি॥ — অপ্রচলিত রচনা (1967)