তুমি কেন বহু দূরে—ঢের দূরে—আরো দূরে—নক্ষত্রের অস্পষ্ট আকাশ, তুমি কেন কোনোদিন পৃথিবীর ভিড়ে এসে বল নাকো একটিও কথা; আমরা মিনার গড়ি—ভেঙে পড়ে দু’-দিনেই—স্বপনের ডানা ছিঁড়ে ব্যথা রক্ত হয়ে ঝরে শুধু এইখানে—ক্ষুধা হয়ে ব্যথা দেয়—নীল নাভিশ্বাস ফেনায়ে তুলিছে শুধু পৃথিবীতে পিরামিড্-যুগ থেকে আজো বারোমাস; আমাদের সত্য, আহা, রক্ত হয়ে ঝরে শুধু;—আমাদের প্রাণের মমতা ফড়িঙের ডানা নিয়ে ওড়ে, আহা: চেয়ে দেখে অন্ধকার কঠিন ক্ষমতা ক্ষমাহীন—বার বার পথ আটকায়ে ফেলে—বার বার করে তারে গ্রাস; তারপরে চোখ তুলে দেখি অই কোন্ দূর নক্ষত্রের ক্লান্ত আয়োজন ক্লান্তিরে ভুলিতে বলে—ঘিয়ের সোনার-দীপে লাল নীল শিখা জ্বলিতেছে যেন দূরে রহস্যের কুয়াশায়,— আবার স্বপ্নের গন্ধে মন কেঁদে ওঠে;—তবু জানি আমাদের স্বপ্ন হতে অশ্রু, ক্লান্তি রক্তের কণিকা ঝরে শুধু—স্বপ্ন কি দেখেনি বুদ্ধ—নিউসিডিয়ায় বসে দেখেনি মণিকা? স্বপ্ন কি দেখেনি রোম, এশিরিয়া, উজ্জয়িনী, গৌড়-বাংলা, দিল্লী, বেবিলন? — রূপসী বাংলা (1957)