বিশ্ব যখন নিদ্রাগমন
বিশ্ব যখন নিদ্রাগমন গগন অন্ধকার; কে দেয় আমার বীণার তারে এমন ঝঙ্কার। নয়নে ঘুম নিল কেড়ে, উঠে বসি শয়ন ছেড়ে, মেলে আঁখি চেয়ে থাকি পাইনে দেখা তার। গুঞ্জরিয়া গুঞ্জরিয়া প্রাণ উঠিল পূরে জানিনে কোন বিপুল বাণী বাজে ব্যাকুল...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
বিশ্ব যখন নিদ্রাগমন গগন অন্ধকার; কে দেয় আমার বীণার তারে এমন ঝঙ্কার। নয়নে ঘুম নিল কেড়ে, উঠে বসি শয়ন ছেড়ে, মেলে আঁখি চেয়ে থাকি পাইনে দেখা তার। গুঞ্জরিয়া গুঞ্জরিয়া প্রাণ উঠিল পূরে জানিনে কোন বিপুল বাণী বাজে ব্যাকুল...
সবুজ দ্বীপের ছায়া—উতরোল তরঙ্গের ভিড় মোর চোখে জেগে-জেগে ধীরে-ধীরে হ’লো অপহত কুয়াশায় ঝ’রে পড়া আতসের মতো। দিকে-দিকে ডুবে গেল কোলাহল, সহসা উজানজলে ভাটা গেল ভাসি, অতিদূর আকাশের মুখখানা আসি বুকে মোর তুলে গেল যেন হাহাকার।...
হেরি অহরহ তোমারি বিরহ ভুবনে ভুবনে রাজে হে। কত রূপ ধরে কাননে ভূধরে আকাশে সাগরে সাজে হে। সারা নিশি ধরি তারায় তারায় অনিমেষ চোখে নীরবে দাঁড়ায়, পল্লবদলে শ্রাবণ ধারায় তোমার বিরহ বাজে হে। ঘরে ঘরে আজি কত বেদনায় তোমারি গভীর...
কারা যেন আজ দুহাতে খুলেছে, ভেঙেছে খিল, মিছিলে আমরা নিমগ্ন তাই দোলে মিছিল। দুঃখ-যুগের ধারায় ধারায় যারা আনে প্রাণ, যারা তা হারায় তারাই ভরিয়ে তুলেছে সাড়ায় হৃদয়-বিল। তারাই এসেছে মিছিলে, আজকে চলে মিছিল॥ কে যেন ক্ষুব্ধ...
যে আঁধারে ভাইকে দেখিতে নাহি পায় সে আঁধারে অন্ধ নাহি দেখে আপনায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বাতাস শুধায়, “বলে তো, কমল, তব রহস্য কী যে।” কমল কহিল, “আমার মাঝারে আমি রহস্য নিজে।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
“তোমার বীণায় সব তার বাজে, ওহে বীণ্-কার, তারি মাঝে কেন নীরব কেবল একখানি তার”? “ভব-নদীতীরে হৃদি মন্দিরে দেবতা বিরাজে, পুজা সমাপিয়া এসেছি ফিরিয়া আপনার কাজে। বিদায়ের ক্ষণে শুধাল পূজারী,— দেবীরে কি দিলে? তব জুনমের শ্রেষ্...
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে সুদূর-আকাশে-আঁকা, আমি ভালোবাসি, মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
শতাব্দীর সূর্য আজি রক্তমেঘ-মাঝে অস্ত গেল; হিংসার উৎসবে আজি বাজে অস্ত্রে অস্ত্রে মরণের উন্মাদ রাগিনী ভয়ংকরী। দয়াহীন সভ্যতানাগিনী তুলেছে কুটিল ফণা চক্ষের নিমেষে গুপ্ত বিষদন্ত তার ভরি তীব্র বিষে। স্বার্থে স্বার্থে বেধেছে...
দিলবদলের পালা আর এক যুদ্ধ শেষ, পৃথিবীতে তবু কিছু জিজ্ঞাসা উন্মুখ। উদ্দাম ঢাকের শব্দে সে প্রশ্নের উত্তর কোথায়? বিজয়ী বিশ্বের চোখ মুদে আসে, নামে এক ক্লান্তির জড়তা। রক্তাক্ত প্রান্তর তার অদৃশ্য দুহাতে নাড়া দেয় পৃথিবীক...
অকস্মাৎ মধ্যদিনে গান বন্ধ ক’রে দিল পাখি, ছিন্নভিন্ন সন্ধ্যাবেলা প্রাত্যহিক মিলনের রাখী; ঘরে ঘরে অনেকেই নিঃসঙ্গ একাকী। ক্লাব উঠে গিয়েছে সফরে, শূন্য ঘর, শূন্য মাঠ, ফুল ফোটা মালঞ্চ প’ড়ে ত্যক্ত এ ক্লাবের কক্ষে নিষ্প্রদীপ অ...
অল্প লইয়া থাকি তাই মোর যাহা যায় তাহা যায়। কণাটুকু যদি হারায় তা লয়ে প্রাণ করে হায়-হায়। নদীতটসম কেবলি বৃথাই প্রবাহ আঁকড়ি রাখিবারে চাই, একে একে বুকে আঘাত করিয়া ঢেউগুলি কোথা ধায়। অল্প লইয়া থাকি তাই মোর যাহা যায় ত...
ধান কাটা হ’য়ে গেছে কবে যেন— খেতে মাঠে প’ড়ে আছে খড় পাতা কুটো ভাঙা ডিম— সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ— কেমন নিবিড়। ওইখানে একজন শুয়ে আছে— দিনরাত দেখা হ’তো কতো কতো দ...