ওগো মোর না-পাওয়া গো, তোরের অরুণ-আভাসনে, ঘুমে ছুঁয়ে যাও মোর পাওয়ার পাখীরে ক্ষণে ক্ষণে।      সহসা স্বপন টুটে      তাই সে যে গেয়ে উঠে,        কিছু তা’র বুঝি নাহি বুঝি।      তাই সে যে পাখা মেলে      উড়ে যায় ঘর ফেলে,        ফিরে আসে কারে খুঁজি’ খুঁজি’॥ ওগো মোর না-পাওয়া গো, সায়াহ্নের করুণ কিরণে পূরবীতে ডাক দাও আমার পাওয়ারে ক্ষণে ক্ষণে।      হিয়া তাই ওঠে কেঁদে,      রাখিতে পারিনা বেঁধে,        অকারণে দূরে থাকে চেয়ে,—      মলিন আকাশ তলে      যেন কোন খেয়া চলে,        কে যে যায় সারি গান গেয়ে॥ ওগো মোর না-পাওয়া গো, বসন্ত নিশীথ সমীরণে অভিসারে আসিতেছ আমার পাওয়ার কুঞ্জবনে।      কে জানালো সে কথা যে      গোপন হৃদয় মাঝে        আজো তাহা বুঝিতে পারিনি।      মনে হয় পলে পলে      দূর পথে বেজে চলে        ঝিল্লিরবে তাহার কিঙ্কিণী॥ ওগো মোর না-পাওয়া গো, কখন আসিয়া সঙ্গোপনে আমার পাওয়ার বীণা কাঁপাও অঙ্গুলি পরশনে।      কার গানে কার সুর      মিলে গেছে সুমধুর        ভাগ ক’রে কে লইবে চিনে।      ওরা এসে বলে, “এ কী,      বুঝাইয়া বলো দেখি,”        আমি বলি বুঝাতে পারিনে। ওগো মোর না-পাওয়া গো, শ্রাবণের অশান্ত পবনে কদম্ব - বনের গন্ধে জড়িত বৃষ্টির বরিষণে      আমার পাওয়ার কানে      জানিনে তো মোর গানে        কার কথা বলি আমি কারে।      “কি কহ,” সে যবে পুছে      তখন সন্দেহ ঘুচে,        আমার বন্দনা না-পাওয়ারে। বুয়েনোস্ এয়ারিস্, ২৪ ডিসেম্বর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)