আমি হেথায় থাকি শুধু
আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান, দিয়ো তোমার জগৎ সভায় এইটুকু মোর স্থান আমি তোমার ভুবন মাঝে লাগিনি নাথ কোন কাজে, শুধু কেবল সুরে বাজে অকাজের এই প্রাণ। নিশায় নীরব দেবালয়ে তোমার আরাধন, তখন মোরে আদেশ কোরো গাইতে হে রাজ...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
আমি হেথায় থাকি শুধু গাইতে তোমার গান, দিয়ো তোমার জগৎ সভায় এইটুকু মোর স্থান আমি তোমার ভুবন মাঝে লাগিনি নাথ কোন কাজে, শুধু কেবল সুরে বাজে অকাজের এই প্রাণ। নিশায় নীরব দেবালয়ে তোমার আরাধন, তখন মোরে আদেশ কোরো গাইতে হে রাজ...
আমার বাণী আমার প্রাণে লাগে। যত তোমায় ডাকি, আমার আপন হৃদয় জাগে। শুধু তোমায় চাওয়া। সেও আমার পাওয়াতাই তত পরান পরান-পণে হাত বাড়িয়ে মাগে॥ হায় অশক্ত, ভয়ে থাকিস পিছে। লাগলে সেবায় অশক্তি তোর আপনি হবে মিছে। পথ দেখাবার ত...
হে মোর দুর্ভাগা দেশ যাদের কারেছ অপমান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে, সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান, অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান। মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া...
আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার পরাণসখা বন্ধু হে আমার। আকাশ কাঁদে হতাশ সম, নাই যে ঘুম নয়নে মম, দুয়ার খুলি, হে প্রিয়তম, চাই যে বারে বার। পরাণসখা বন্ধু হে আমার! বাহিরে কিছু দেখিতে নাহি পাই, তোমার পথ কোথায় ভাবি তাই। সুদূর ক...
ঘুমায়ে পড়িব আমি একদিন তোমাদের নক্ষত্রের রাতে শিয়রে বৈশাখ মেঘ—শাদা শাদা যেন কড়ি-শঙ্খের পাহাড় নদীর ওপার থেকে চেয়ে র’বে—কোনো এক শঙ্খবালিকার ধূসর রূপের কথা মনে হবে—এই আম জামের ছায়াতে কবে যেন তারে আমি দেখিয়াছি—কবে যে...
হেলাভরে ধুলার ’পরে ছড়াই কথাগুলো। পায়ের তলে পলে পলে গুঁড়িয়ে সে হয় ধুলো। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আরো চাই যে, আমরা চাই গো- আরো যে চাই। ভাণ্ডারী যে সুধা আমায়। বিতরে নাই। সকালবেলার আলোয় ভরা এই যে আকাশ-বসুন্ধরা এরে আমার জীবন-মাঝে কুড়ানো চাই- সকল ধন যে বাইরে, আমার ভিতরে নাই। ভাণ্ডারী যে সুধা আমায় বিতরে নাই॥ প্রাণের ব...
এই জল ভালো লাগে;—বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে ধুয়েছে আমার দেহ—বুলায়ে দিয়েছে চুল—চোখের উপরে তার শান্ত স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে,—আবেগের ভরে ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চ’লে গেছে কুমারীর মতো ভালোবেসে; এই জল ভালো লাগে;—নীল...
ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী, লুব্ধ বাহু বাড়াইয়া উচ্ছ্বসি’ উল্লসি’ আমারে কি পেতে চাস চির আলিঙ্গনে? শুধু এক মুহূর্ত্তের উন্মত্ত মিলনে তোর বক্ষমাঝে চাস করিতে বিলয় আমার বক্ষের যত সুখ দুঃখ ভয়? আমিও তো কতদিন ভাবিয়...
প্রভাতে যখন শঙ্খ উঠেছিল বাজি তোমার প্রাঙ্গনতলে, ভরি লয়ে সাজি চলেছিল নরনারী তেয়াগিয়া ঘর নবীন শিশিরসিক্ত গুঞ্জনমুখর স্নিগ্ধ বনপথ দিয়ে। আমি অন্যমনে সঘনপল্লবপুঞ্জ ছায়াকুঞ্জবনে ছিনু শুয়ে তৃণাস্তীর্ণ তরঙ্গিণীতীরে বিহঙ্গে...
কহিল তারা, “জ্বালিব আলোখানি। আঁধার দূর হবে না হবে, সে আমি নাহি জানি।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যে ফুল এখনো কুঁড়ি তারি জন্মশাখে রবি নিজ আশীর্বাদ প্রতিদিন রাখে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
এ কথা মানিব আমি, এক হতে দুই কেমনে যে হতে পারে জানি না কিছুই। কেমনে যে কিছু হয়, কেহ হয় কেহ, কিছু থাকে কোনোরূপে, কারে বলে দেহ, কারে বলে আত্মা মন, বুঝিতে না পেরে চিরকাল নিরখিব বিশ্বজগতেরে নিস্তব্ধ নির্বাক্ চিত্তে...