ওরে পদ্মা, ওরে মোর রাক্ষসী প্রেয়সী, লুব্ধ বাহু বাড়াইয়া উচ্ছ্বসি’ উল্লসি’ আমারে কি পেতে চাস চির আলিঙ্গনে? শুধু এক মুহূর্ত্তের উন্মত্ত মিলনে তোর বক্ষমাঝে চাস করিতে বিলয় আমার বক্ষের যত সুখ দুঃখ ভয়? আমিও তো কতদিন ভাবিয়াছি মনে বসি’ তোর তটোপান্তে প্রশান্ত নির্জ্জনে, বাহিরে চঞ্চলা তুই প্রমত্ত মুখরা শাণিত অসির মতো ভীষণ প্রখরা, অন্তরে নিভৃত স্নিগ্ধ শান্ত সুগম্ভীর,— দীপহীন রুদ্ধদ্বার অর্দ্ধ রজনীর বাসর-ঘরের মতো নিসুপ্ত নির্জ্জন;- সেথা কার তরে পাতা সুচির শয়ন? (প্র—১৩০৩) — পূরবী (1925)