ভ্রষ্ট লগ্ন
শয়নশিয়রে প্রদীপ নিবেছে সবে, জাগিয়া উঠেছি ভোরের কোকিলরবে। অলসরণে বসি বাতায়নে এসে নূতন মালিকা পরেছি শিথিল কেশে। এমন সময়ে অরুণধূসর পথে তরুণ পথিক দেখা দিল রাজরথে। সোনার মুকুটে পড়েছে উষার আলো, মুকুতার মালা গলায় সেজেছে...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
শয়নশিয়রে প্রদীপ নিবেছে সবে, জাগিয়া উঠেছি ভোরের কোকিলরবে। অলসরণে বসি বাতায়নে এসে নূতন মালিকা পরেছি শিথিল কেশে। এমন সময়ে অরুণধূসর পথে তরুণ পথিক দেখা দিল রাজরথে। সোনার মুকুটে পড়েছে উষার আলো, মুকুতার মালা গলায় সেজেছে...
দিবসরজনী তন্দ্রাবিহীন মহাকাল আছে জাগি— যাহা নাই কোনোখানে, যারে কেহ নাহি জানে, সে অপরিচিত কল্পনাতীত কোন আগামীর লাগি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
অন্ধকার গর্তে থাকে অন্ধ সরীসৃপ— আপনার ললাটের রতনপ্রদীপ নাহি জানে, নাহি জানে সূর্যালোকলেশ। তেমনি আঁধারে আছে এই অন্ধ দেশ হে দণ্ডবিধাতা রাজা— যে দীপ্ত রতন পরায়ে দিয়েছ ভালে তাহার যতন নাহি জানে, নাহি জানে তোমার আলোক। নিত্য...
চলার পথের যত বাধা পথবিপথের যত ধাঁধা পদে পদে ফিরে ফিরে মারে, পথের বীণার তারে তারে তারি টানে সুর হয় বাঁধা। রচে যদি দুঃখের ছন্দ দুঃখের-অতীত আনন্দ তবেই রাগিণী হবে সাধা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
সোনায় রাঙায় মাখামাখি, রঙের বাঁধন কে দেয় রাখি পথিক রবির স্বপন ঘিরে। পেরোয় যখন তিমিরনদী তখন সে রঙ মিলায় যদি প্রভাতে পায় আবার ফিরে। অস্ত-উদয়-রথে রথে যাওয়া-আসার পথে পথে দেয় সে আপন আলো ঢালি। পায় সে ফিরে মেঘের কোণে,...
গান গেয়ে কে জানায় আপন বেদনা। কোন্ সে তাপস আমার মাঝে করে তোমার সাধনা। চিনি নাই তো আমি তারে, আঘাত করি বারে বারে, তার বাণীরে হাহাকারে ডুবায় আমার কাঁদনা॥ তারি পূজার মালঞ্চে ফুল ফুটে যে। দিনে রাতে চুরি করে। এনেছি তাই লুটে...
সন্ধ্যা হয়—চারিদিকে শান্ত নীরবতা; খড় মুখে নিয়ে এক শালিখ যেতেছে উড়ে চুপে; গোরুর গাড়িটি যায় মেঠো পথ বেয়ে ধীরে ধীরে; আঙিনা ভরিয়া আছে সোনালি খড়ের ঘন স্তূপে; পৃথিবীর সব ঘুঘু ডাকিতেছে হিজলের বনে; পৃথিবীর সব রূপ লেগে আ...
রাজপুরীতে বাজায় বাঁশি বেলাশেষের তান। পথে চলি, শুধায় পথিক, “কী নিলি তোর দান।” দেখাব যে সবার কাছে এমন আমার কী বা আছে। সঙ্গে আমার আছে শুধু এই কখানি গান॥ ঘরে আমার রাখতে যে হয়। বহু লোকের মন। অনেক বাঁশি, অনেক কাঁসি, অনেক আয...
জন্মেছি তোমার মাঝে ক্ষণিকের তরে অসীম প্রকৃতি! সরল বিশ্বাসভরে তবু তোরে গৃহ ব’লে, মাতা ব’লে মানি। আজ সন্ধ্যাবেলা তোর নখদন্ত হানি প্রচণ্ড পিশাচীরূপে ছুটিয়া গর্জিয়া, আপনার মাতৃবেশ শূন্যে বিসর্জিয়া কুটি কুটি ছিন্ন করি বৈশা...
কাহারে পরাবে রাখী যৌবনের রাখী-পূর্ণিমায়, হে মোর ভাগ্যের দেব! লগ্ন যেন ব’হে নাহি যায়। মেঘে আজি আবিষ্ট অম্বর, ঘন বৃষ্টি আচ্ছাদনে অস্পষ্ট আলোর মন্ত্র আকাশ নিবিষ্ট হ’য়ে শোনে, বুঝিতে পারে না ভালো। আমি ভাবিতেছি একা ব’সে আমা...
বর্ষামঙ্গল ঐ আসে ঐ অতি ভৈরব হরষে জলসিঞ্চিত ক্ষিতিসৌরভ-রভসে ঘনগৌরবে নবযৌবন বরষা শ্যামগম্ভীর-সরসা। গুরুগর্জনে নীল অরণ্য শিহরে, উতলা কলাপী কেকাকলরবে বিহরে। নিখিলচিত্তহরষা ঘনগৌরবে আসিছে মত্ত বরষা। কোথা তোরা অয়ি তরুণী পথিক...
তারা দিনের বেলা এসেছিল আমার ঘরে,- বলেছিল, একটি পাশে রইব পড়ে। বলেছিল, দেবতা সেবায় আমরা হব তোমার সহায়,- যা কিছু পাই প্রসাদ লব পূজার পরে। এমনি করে দরিদ্র ক্ষীণ মলিন বেশে সঙ্কোচেতে একটি কোণে রৈল এসে। রাতে দেখি প্রবল হয়ে...
আত্মসমর্পণ। তোমার আনন্দগানে আমি দিব সুর যাহা জানি দুয়েকটি প্রীতি-সুমধুর অন্তরের গাথা; দুঃখের ক্রন্দনে বাজিবে আমার কণ্ঠ বিষাদ-বিধুর তোমার কণ্ঠের সনে; কুসুমে চন্দনে তোমারে পূজিব আমি; পরাব সিন্দুর তোমার সীমন্তে ভালে; বিচি...
নদীপারের এই আষাঢ়ের প্রভাত খানি নেরে, ও মন, নেরে আপন প্রাণে টানি। সবুজ নীলে সোনায় মিলে যে সুধা এই ছড়িয়ে দিলে, জাগিয়ে দিলে আকাশ তলে গভীর বাণী- নেরে, ও মন, নেরে আপন প্রাণে টাণি। এমনি করে চলতে পথে ভবের কূলে দুই ধারে যা...