গোলাপ বলে, ওগো বাতাস, প্রলাপ তোমার বুঝ্‌তে কেবা পারে,       কেন এসে ঘা দিলে মোর দ্বারে? বাতাস বলে, ওগো গোলাপ, আমার ভাষা বোঝো বা নাই বোঝো,      আমি জানি কাহার পরশ খোঁজো; সেই প্রভাতের আলো এলো, আমি কেবল ভাঙিয়ে দিলাম ঘুম          হে মোর কুসুম॥ পাখী বলে, ওগো বাতাস, কী তুমি চাও বুঝিয়ে বলো মোরে,      কুলায় আমার দুলাও কেন ভোরে? বাতাস বলে,ওগো পাখী, আমার ভাষা বোঝো বা নাই বোঝো,      আমি জানি তুমি কারে খোঁজো; সেই আকাশে জাগ্‌লো আলো, আমি কেবল দিনু তোমায় আনি’         সীমাহীনের বাণী॥ নদী বলে, ওগো বাতাস, বুঝ্‌তে নারি কী যে তোমার কথা,       কিসের লাগি’ এতই চঞ্চলতা। বাতাস বলে, ওগো নদী, আমার ভাষা বোঝো বা নাই বোঝো,      জানি তোমার বিলয় যেথা খোঁজো; সেই সাগরের ছন্দ আমি এনে দিলাম তোমার বুকের কাছে,        তোমার ঢেউয়ের নাচে॥ অরণ্য কয়, ওগো বাতাস, নাহি জানি বুঝি কি নাই বুঝি     তোমার ভাষায় কাহার চরণ পূজি। বাতাস বলে, হে অরণ্য, আমার ভাষা বোঝো বা নাই বোঝো,     আমি জানি কাহার মিলন খোঁজো; সেই বসন্ত এলো পথে, আমি কেবল সুর জাগাতে পারি       তাহার পূর্ণতারি॥ শুধায় সবে, ওগো বাতাস, তবে তোমার আপন কথা কী যে     বলো মোদের, কী চাও তুমি নিজে? বাতাস বলে, আমি পথিক, আমার ভাষা বোঝো বা নাই বোঝো,     আমি বুঝি তোমরা কারে খোঁজো,— আমি শুধু যাই চ’লে আর সেই অজানার আভাস করি দান,       আমার শুধু গান॥ আণ্ডেস্ জাহাজ, ২০ অক্টোবর, ১৯২৪। — পূরবী (1925)