Results for “#সদ্ভাব কুসুম”
পুরন্দর ও বেচারাম
আহম্মদগঞ্জ এক প্রশস্ত বন্দর, তথায় দোকান করে সাহা পুরন্দর। কিছুমাত্র মূলধন ছিলনা তাহার; কেবল সততা মাত্র সম্বল সাহার। ছিল সে কর্ত্তব্য-নিষ্ঠ, সত্যপরায়ণ, ধারে তারে টাকা দিত, যত মহাজন। বাকি ক’রে ধান চা’ল কিনিয়া বেচিত, চৈত...
রাম ও ভূতো
মিথ্যাবাদী ভূতনাথ, সত্যবাদী রাম, দুই ভাই বসতি করিত বেদগ্রাম। দুজনা প্রবেশি’ এক মালীর বাগানে, রাত্রি কালে পাকা আম চুরি ক’রে আনে। প্রাতে টের পে’য়ে পিতা, ডাকি’ দুজনায়, জিজ্ঞাসেন, “পাকা আম পাইলি কোথায়?” ভূতো বলে, “কোথা হ’...
ঠাকুরদাদা ও নাতি
প্রবল-প্রতাপ রাজা ছত্রধর রায়, ছিলনা দয়ার লেশ, কৃপণের একশেষ, কেঁদে মরে দুঃখী প্রজা, বিচার না পায়। গিরি-উচ্চ অট্টালিকা, শত পুষ্পোদ্যান; সুনির্ম্মল সরোবর, শোভিতেছে মনোহর, চতুর্দ্দিকে স্তরে স্তরে প্রস্তর সোপান। নৃপতির বৃদ...
পিতা ও পুত্র
রামদাস প্রতিদিন গিয়া পাঠশালে, পড়া হইতনা ব’লে, চড় খে’ত গালে। বিশেষতঃ ঠে’কে যে’ত কড়ায় গণ্ডায়, প্রমাদে পড়িত বড়, অঙ্কের ঘণ্টায়। নিত্য হারাইত তার অঙ্ক-কসা খাতা; অঙ্কের সময়, নিত্য ধরে তার মাথা। শিক্ষকেরে মাঝে মাঝে মি...
কৃষ্ণদাস ও দেবদূত
পরম বৈষ্ণব এক কৃষ্ণদাস নামে, বসতি করিত নবকৃষ্ণপুর গ্রামে। প্রতিদিন ন্যূন-কল্পে একটি অতিথি, ভোজন করা’ত, তার ছিল চির রীতি। অভুক্ত রহিত নিজে অতিথি না পে’লে, নিজে খে’ত, অতিথি আহার ক’রে গেলে। এই ব্যবহার তার ছিল আজীবন, ভ্রমেও...
গুরু ও শিষ্য
গুরুগৃহে করি শাস্ত্রপাঠ সমাপন, বন্দিয়া বণিকপুত্র গুরুর চরণ। ধীরে ধীরে, সবিনয়ে কহে মৃদুভাষে, “অনুমতি হয় যদি যাই নিজ বাসে; কিন্তু এক ভিক্ষা আছে, চরণের দাস সামান্য দক্ষিণা দিতে করে অভিলাষ।” গুরু হাসি’ কহে, “বৎস দক্ষিণা ক...
রাজপুত্র ও ঋষিপুত্র
পুরাকালে ছিল এক রাজার নন্দন, মহিষীর একমাত্র আনন্দবর্দ্ধন। অতি আদরের ছেলে, শিশুকাল হ’তে, অঙ্গঢে’লে দিয়েছিল বিলাসের স্রোতে। কখন ছিলনা কোন সুখের অভাব, যেমন ঐশ্বর্য্য তার, তেমনি প্রতাপ। একদা প্রত্যূষে, পরি মৃগয়ার সাজ, সৈন্...
অশ্ব ও গাভী
হরিদত্ত নামে ধনী, নবগ্রামবাসী, গোশালা ও অশ্বশালা গড়ে পাশাপাশি। প্রত্যহ সায়াহ্নে সেই ধনীর নন্দন, অশ্বশালে অশ্ব আনি করিত বন্ধন। গোশালায় গাভী ছিল পরম যতনে, বসিয়া থাকিত সাঁঝে, রত রোমন্থনে। একনিশা দ্বিপ্রহরে অশ্ববর ধীরে,...
চন্দ্র ও সূর্য্য
পূর্ণিমার সন্ধ্যাকালে চাঁদ উঠে পূবে, পশ্চিমের আকাশেতে সূর্য্য যায় ডুবে। উঁকি মেরে চাঁদ কয় সূর্য্য পানে চেয়ে, “ওগো সূয্যি মামা! কোথা চলিয়াছ ধেয়ে? এতক্ষণ জীবগণে পোড়াইয়া ধীরে, শরীরের জ্বালা বুঝি নিভাইতে নীরে, সাগরে ড...