সূর্যতামসী
কোথাও পাখির শব্দ শুনি; কোনো দিকে সমুদ্রের সুর; কোথাও ভোরের বেলা র’য়ে গেছে— তবে। অগণন মানুষের মৃত্যু হ’লে— অন্ধকারে জীবিত ও মৃতের হৃদয় বিস্মিতের মতো চেয়ে আছে; এ কোন্ সিন্ধুর স্বর: মরণের— জীবনের? এ কি ভোর? অনন্ত রাত্রির...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
কোথাও পাখির শব্দ শুনি; কোনো দিকে সমুদ্রের সুর; কোথাও ভোরের বেলা র’য়ে গেছে— তবে। অগণন মানুষের মৃত্যু হ’লে— অন্ধকারে জীবিত ও মৃতের হৃদয় বিস্মিতের মতো চেয়ে আছে; এ কোন্ সিন্ধুর স্বর: মরণের— জীবনের? এ কি ভোর? অনন্ত রাত্রির...
আর নাই রে বেলা, নামল ছায়া ধরণীতে, এখন চলরে ঘাটে কলসখানি ভরে নিতে। জলধারার কলস্বরে সন্ধ্যাগগন আকুল করে, ওরে ডাকে আমায় পথের পরে সেই ধ্বনিতে। চল্রে ঘাটে কলসখানি ভরে নিতে। এখন বিজন পথে করে না কেউ আসা-যাওয়া, ওরে প্রেম-নদী...
দৃষ্টিহীন সন্ধ্যাবেলা শীতল কোমল অন্ধকার স্পর্শ ক’রে গেল মোরে। স্বপনের গভীর চুম্বন, ছন্দ-ভাঙা স্তব্ধতায় ভ্রান্তি এনে দিল চিরন্তন, অহর্নিশি চিন্তা মোর বিক্ষুব্ধ হয়েছে; প্রতিবার স্নায়ুতে স্নায়ুতে দেখি অন্ধকারে মৃত্যুর ব...
হেথা যে গান গাইতে আসা আমার হয়নি সে গান গাওয়া, আজো কেবলি সুর সাধা, আমার কেবল গাইতে চাওয়া। আমার লাগে নাই সে সুর, আমার বাঁধে নাই সে কথা, শুধু প্রাণেরই মাঝখানে আছে গানের ব্যাকুলতা। আজো ফোটে নাই সে ফুল, শুধু বহেছে এক হাওয়...
সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে অরুণ বরণ পারিজাত লয়ে হাতে। নিদ্রিত পুরী, পথিক ছিল না পথে, একা চলি গেলে তোমার সোনার রথে, বারেক থামিয়া, মোর বাতায়ন পানে চেয়েছিলে তব করুণ নয়নপাতে। সুন্দর, তুমি এসেছিলে আজ প্রাতে। স্বপন আম...
আরবার ফিরে এল বাইশে শ্রাবণ। আজ বর্ষশেষে হে অতীত, কোন সম্ভাষণ জানাব অলক্ষ্য পানে? ব্যথাক্ষুব্ধ গানে, ঝরাব শ্রাবণ বরিষণ। দিনে দিনে, তিলে তিলে যে বেদনা উদাস মধুর হয়েছে নিঃশব্দ প্রাণে ভরেছে বিপুল টানে, তারে আজ দেব কোন সুর?...
দুঃখ এড়াবার আশা নাই এ জীবনে। দুঃখ সহিবার শক্তি যেন পাই মনে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মৃত্তিকা খোরাকি দিয়ে বাঁধে বৃক্ষটারে, আকাশ আলোক দিয়ে মুক্ত রাখে তারে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
অনলস মধ্যাহ্ন বেলায় যাহায় অক্ষয় মূর্তি পেয়েছিনু খুঁজে তারি পানে আছি চক্ষু বুজে। আমি সেই ধনুর্ধর যার শরাসনে অস্ত্র নাই, দীপ্তি মনে মনে, দিগন্তের স্তিমিত আলোকে পূজা চলে অনিত্যের বহ্নিময় স্রোতে। চলমান নির্বিরোধ ডাক, আজ...
হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ কি অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান! আমার নয়নে তোমার বিশ্ব ছবি দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি! আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান! হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ, কি অমৃত তুম...
যা পায় সকলই জমা করে, প্রাণের এ লীলা রাত্রিদিন। কালের তাণ্ডবলীলাভরে সকলই শূন্যেতে হয় লীন। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী: আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে বজ্রের কানাকানি। সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে শান্তি পালাল আজ। দিন ও রাত্রি হল অস্থির কাজ, আর শুধু কাজ! জনসিংহের ক্ষুব্ধ নখর হয়েছে তীক...
দাও হে আমার ভয় ভেঙে দাও। আমার দিকে ও মুখ ফিরাও। পাশে থেকে চিনতে নারি, কোন্ দিকে যে কি নেহারি, তুমি আমার হৃদ্বিহারী হৃদয় পানে হাসিয়া চাও। বল আমায় বল কথা গায়ে আমার পরশ কর। দক্ষিণ হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমায় তুমি তুলে ধ...
জীবনে যত পূজা হল না সারা, জানিহে জানি তাও হয়নি হারা, যে ফুল না ফুটিতে ঝরেছে ধরণীতে, যে নদী মরুপথে হারাল ধরা জানিহে জানি তাও হয়নি হারা॥ জীবনে আজো যারা রয়েছে পিছে, জানিহে জানি তাও হয়নি মিছে আমার অনাগত, আমার অনাহত তোমার...