চোদ্দো       ওগো তরুণী, ছিল অনেক দিনের পুরোনো বছরে   এমনি একখানি নতুন কাল,     দক্ষিণ হাওয়ায় দোলায়িত,       সেই কালেরই আমি। মুছে-আসা ঝাপ্‌সা পথ বেয়ে     এসে পড়েছি বনগন্ধের সংকেতে   তোমাদের এই আজকে-দিনের নতুন কালে। পারো যদি মেনে নিয়ো আমায় সখা ব’লে,   আর কিছু নয়, আমি গান জোগাতে পারি     তোমাদের মিলনরাতে   আমার সেই নিদ্রাহারা সুদূর রাতের গান; তা’র সুরে পাবে দূরের নতুনকে,       তোমার লাগবে ভালো,     পাবে আপনাকেই         আপনার সীমানার অতীত পারে।   সেদিনকার বসন্তের বাঁশিতে     লেগেছিল যে প্রিয়-বন্দনার তান,       আজ সঙ্গে এনেছি তাই, সে নিয়ো তোমার অর্ধনিমীলিত চোখের পাতায়,     তোমার দীর্ঘনিঃশ্বাসে।   আমার বিস্মৃত বেদনার আভাসটুকু     ঝরা ফুলের মৃদু গন্ধের মতো রেখে দিয়ে যাব তোমার নব বসন্তের হাওয়ায়।     সেদিনকার ব্যথা     অকারণে বাজবে তোমার বুকে;   মনে বুঝবে, সেদিন তুমি ছিলে না তবু ছিলে, নিখিল যৌবনের রঙ্গভূমির নেপথ্যে           যবনিকার ওপারে।           ওগো চিরন্তনী,    আজ আমার বাঁশি তোমাকে বলতে এল,—   যখন তুমি থাকবে না তখন তুমি থাকবে আমার গানে    ডাকতে এলেম আমার হারিয়ে-যাওয়া পুরোনোকে     তা’র খুঁজে-পাওয়া নতুন নামে।   হে তরুণী, আমাকে মেনে নিয়ে তোমার সখা ব’লে,         তোমার অন্যযুগের সখা॥ শান্তিনিকেতন ১৯ বৈশাখ, ১৩৪৩ — পত্রপুট (1936)