কোথাও পাখির শব্দ শুনি; কোনো দিকে সমুদ্রের সুর; কোথাও ভোরের বেলা র’য়ে গেছে— তবে। অগণন মানুষের মৃত্যু হ’লে— অন্ধকারে জীবিত ও মৃতের হৃদয় বিস্মিতের মতো চেয়ে আছে; এ কোন্ সিন্ধুর স্বর: মরণের— জীবনের? এ কি ভোর? অনন্ত রাত্রির মতো মনে হয় তবু। একটি রাত্রির ব্যথা স’য়ে— সময় কি অবশেষে এ-রকম ভোরবেলা হ’য়ে আগামী রাতের কালপুরুষের শস্য বুকে ক’রে জেগে ওঠে। কোথাও ডানার শব্দ শুনি; কোনো দিকে সমুদ্রের সুর— দক্ষিণের দিকে, উত্তরের দিকে, পশ্চিমের পানে। সৃজনের ভয়াবহ মানে; তবু জীবনের বসন্তের মতন কল্যাণে সূর্যালোকিত সব সিন্ধু-পাখিদের শব্দ শুনি; ভোরের বদলে তবু সেইখানে রাত্রি-করোজ্জ্বল হ্বিয়েনা, টোকিও, রোম, মিউনিখ— তুমি? সার্থবাহ, সার্থবাহ, ওই দিকে নীল সমুদ্রের পরিবর্তে আটলাণ্টিক চার্টার নিখিল মরুভূমি! বিলীন হয় না মায়ামৃগ— নিত্য দিকদৰ্শিন; অনুভব ক’রে নিয়ে মানুষের ক্লান্ত ইতিহাস যা জেনেছে— যা শেখেনি— সেই মহাশ্মশানের গর্ভাঙ্কে ধূপের মতো জ্ব’লে জাগে না কি হে জীবন— হে সাগর— শকুন্ত-ক্রান্তির কলরোলে।  — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)