Where words blossom.
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
বৃষ্টির দিনে
Write
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Be read
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Earn
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
ভাগ্যে আমি পথ হারালেম
ভাগ্যে আমি পথ হারালেম কাজের পথে। নইলে অভাবিতের দেখা ঘটত না তো কোনমতে। এই কোণে মোর ছিল বাসা, এইখানে মোর যাওয়া-আসা, সূর্য উঠে অস্তে মিলায় এই রাঙা পর্বতে, প্রতিদিনের ভার বহে যাই এই কাজেরই পথে॥ জেনেছিলেম কিছুই আমার নাই অজা...
সাধারণ মেয়ে
আমি অন্তঃপুরের মেয়ে, চিনবে না আমাকে। তোমার শেষ গল্পের বইটি পড়েচি, শরৎবাবু, “বাসি ফুলের মালা।”— তোমার নায়িকা এলোকেশীর মরণদশা ধরেছিল পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে। পঁচিশ বছর বয়সের সঙ্গে ছিল তার রেশারেশি, দেখলেম, তুমি মহদাশয় বটে...
প্রতিদিন তব গাথা
প্রতিদিন তব গাথা গাব আমি সুমধুর— তুমি মোরে দাও কথা, তুমি মোরে দাও সুর। তুমি যদি থাক মনে বিকচ কমলাসনে, তুমি যদি কর প্রাণ তব প্রেমে পরিপূর — প্রতিদিন তব গাথা গাব আমি সুমধুর। তুমি যদি শোন গান আমার সমুখে থাকি, সুধা যদি করে দ...
তব পূজা না আনিলে দণ্ড দিবে তারে
তব পূজা না আনিলে দণ্ড দিবে তারে, যমদূত লয়ে যাবে নরকের দ্বারে, ভক্তিহীনে এই বলি যে দেখায় ভয় তোমার নিন্দুক সে যে, ভক্ত কভু নয়। হে বিশ্বভুবনরাজ, এ বিশ্বভুবনে আপনারে সব চেয়ে রেখেছ গোপনে আপন মহিমা-মাঝে। তোমার সৃষ্টির ক্ষ...
অবসরের গান
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের খেতে; মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার—চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ, তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান, দেহের স্বাদের কথা কয়; বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ...
আকাশের আলো মাটির তলায়
আকাশের আলো মাটির তলায় লুকায় চুপে, ফাগুনের ডাকে বাহিরিতে চায় কুসুমরূপে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
যা দিয়েছ আমায় এ প্রাণ ভরি
যা দিয়েছ আমায় এ প্রাণ ভরি খেদ রবেনা এখন যদি মরি। রজনীদিন কত দুঃখে সুখে কত যে সুর বেজেছে এই বুকে, কত বেশে আমার ঘরে ঢুকে কতরূপে নিয়েছ মন হরি’ খেদ রবেনা এখন যদি মরি॥ জানি তোমায় নিইনি প্রাণে বরি, পাইনি আমার সকল পূর্ণ করি...
"এসে মোর কাছে"
"এসে মোর কাছে" শুকতারা গাহে গান। প্রদীপের শিখা নিবে চ’লে গেল, মানিল সে আহ্বান। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
আয় রে বসন্ত, হেথা
আয় রে বসন্ত, হেথা কুসুমের সুষমা জাগা রে শান্তিস্নিগ্ধ মুকুলের হৃদয়ের গোপন আগারে। ফলেরে আনিবে ডেকে সেই লিপি যাস রেখে, সুবর্ণের তুলিখানি পর্ণে পর্ণে যতনে লাগা রে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
বিয়ে বাড়ির মজা
বিয়ে বাড়ি: বাজছে সানাই, বাজছে নানান বাদ্য একটি ধারে তৈরি হচ্ছে নানা রকম খাদ্য; হৈ-চৈ আর চেঁচামেচি, আসছে লুচির গন্ধ, আলোয় আলোয় খুশি সবাই, কান্নাকাটি বন্ধ, বাসরঘরে সাজছে ক’নে, সকলে উৎফুল্ল, লোকজনকে আসতে দেখে কর্তার মুখ...
তখন করি নি নাথ, কোনো আয়োজন
তখন করি নি নাথ, কোনো আয়োজন; বিশ্বের সবার সাথে হে বিশ্বরাজন্, অজ্ঞাতে আসিতে হাসি আমার অন্তরে কত শুভদিনে, কত মুহূর্তের ’পরে অসীমের চিহ্ন লিখে গেছ। লই তুলি তোমার স্বাক্ষর-আঁকা সেই ক্ষণগুলি— দেখি তারা স্মৃতি-মাঝে আছিল ছড়ায...
জীবনে আমার যত আনন্দ
জীবনে আমার যত আনন্দ পেয়েছি দিবসরাত সবার মাঝারে তোমায় আজিকে স্মরিব, জীবননাথ। যে দিন তোমার জগৎ নিরখি হরষে পরান উঠছে পুলকি সে দিন আমার নয়নে হয়েছে তোমারি নয়নপাত। সব আনন্দ-মাঝারে তোমারে স্মরিব, জীবননাথ। বার বার তুমি আপনা...
আকাশে যুগল তারা
আকাশে যুগল তারা চলে সাথে সাথে অনন্তের মন্দিরেতে আলোক মেলাতে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কোলাহল তো বারণ হল
কোলাহল তো বারণ হল, এবার কথা কানে কানে। এখন হবে প্রাণের আলাপ কেবলমাত্র গানে গানে। রাজার পথে লোক ছুটেছে, বেচাকেনার হাঁক উঠেছে, আমার ছুটি অবেলাতেই দিনদুপুরের মধ্যখানে—— কাজের মাঝে ডাক পড়েছে কেন যে তা কেই বা জানে॥ মোর কাননে...
শূন্য পাতার অন্তরালে
শূন্য পাতার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে বাণী, কেমন করে আমি তারে বাইরে ডেকে আনি। যখন থাকি অন্যমনে দেখি তারে হৃদয়কোণে, যখন ডাকি দেয় সে ফাঁকি— পালায় ঘোমটা টানি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
লঘু মুহূর্ত
এখন দিনের শেষে তিনজন আধো আইবুড়ো ভিখিরীর অত্যন্ত প্রশান্ত হ’লো মন; ধূসর বাতাস খেয়ে এক গাল— রাস্তার পাশে ধূসর বাতাস দিয়ে ক’রে নিলো মুখ আচমন। কেননা এখন তা’রা যেই দেশে যাবে তাকে রাঙা নদী বলে; সেইখানে ধোপা আর গাধা এসে জলে...