আমারে ছাড়িও না। ভবানি। সুশীলা হইয়া শিলায় জন্মিয়া শিলাময় হিয়া হইও না এবার পাথারে ফেলিয়া আমারে দোষ বারেবারে লইও না শিশুগণ মিলা যেন খেলা দিলা তেমন এখানে খেলিও না তবমায়াছান্দে বিশ্বপড়িকান্দে ভারতে এফেরে ফেলিও না আনন্দ সাগরে হর মগন হইলা। বিনয়ে দেবীর প্রতি কহিতে লাগিলা॥ তুমি মূল প্রকৃতি সকল বিশ্বসার। কৃপা করি আমারে করিলে অঙ্গীকার॥ দক্ষযজ্ঞে আমার নিন্দায় দেহ ছাড়ি। এত দিন ছিলা গিয়া হেমন্তের বাড়ি ॥ ভাগ্যে সে তোমার দেখা পানু আরবার। সত্য করি কহ মোরে না ছাড়িবে আর॥ হাসিয়া কহেন দেবী তোমা ছাড়া নই। শঙ্কর কহেন তবে এস এক হই॥ অঙ্গে অঙ্গে তোমার আমার অঙ্গে অঙ্গে। হরগৌরী এক তনু হয়ে থাকি রঙ্গে॥ হাসিয়া কহেন দেবী এমন কি হয়। সোহাগে এমন কথা পুরুষেরা কয়॥ নারীর পতির প্রতি বাসনা যেমন। পতির নারীর প্রতি মন কি তেমন ॥ পাইতে পতির অঙ্গ নারী সাদ করে। তার সাক্ষী মৃতপতিসঙ্গে পুড়ে মরে॥ পুরুষেরা দেখ যদি নারী মরি যায়। অন্য নারী ঘরে আনে নাহি স্মরে তায়॥ নিজ অঙ্গ যদি মোর অঙ্গে মিলাইবা। কুচনীর বাড়ী তবে কেমনে যাইবা॥ শুনিয়া কহেন শিব পাইয়া সরম। তোমার সহিত নহে এমন মরম॥ তোমার শরীর আমি মাথায় করিয়া। দেখিয়াছ ফিরিয়াছি পৃথিবী ঘুরিয়া॥ চক্র করি চক্রপাণি চক্রেতে কাটিয়া। মোর মাথা হৈতে তোমা দিলা ছাড়াইয়া॥ অঙ্গ প্রতিঅঙ্গ তর পড়িল যেখানে। ভৈরব হইয়া আমি রয়েছি সেখানে॥ তবে মোরে হেন কথা কহ কি লাগিয়া। আরবার যাবে বুঝি আমারে ছাড়িয়া॥ শুনিয়া কহেন দেবী সহাস বদনে। সমভাবে দোহে এক হইবে কেমনে॥ পাঁচ মুখ তোমার আমার এক মুখ। সমভাগে অর্দ্ধভাগে তুমি পাবে দুখ। . দশ হাত তোমার আমার দুটি হাত। সমভাগে অর্দ্ধভাগে হইরে উৎপাত॥ শঙ্কর কহেন শুন পূর্ব্ব সমাচার। এক মুখ দুই হাত আছিল আমার॥ ঊর্দ্ধ মুখে আগমে তোমার গুণ গাই। দুই ভুজ ঊর্দ্ধ করি তোমারে ধেয়াই॥ চারি বেদে তব গুণ গান করিবারে। চারি মুখ দিলা তুমি অধিক আমারে॥ চারি তাল ধরিতে অধিক আট হাত। দিয়াছ আপনি পূর্ব্বে নিন্দহ পশ্চাত॥ এত বলি একমুখ দ্বিভুজ হইলা। সাক্ষি করি এক মুখ রুদ্রাক্ষে রাখিলা॥ হাসিয়া কহেন দেবী হইলা সমান। হরগৌরী এক হই ইথে নাহি আন॥ দুই জনে সহাস বদনে রসরঙ্গে। হয়গৌরী এক হৈলা দুই অর্দ্ধ অঙ্গে॥ এই রূপে হরগৌরী করেন বিহার। গজানন ষড়ানন হইল কুমার॥ আজ্ঞা দিলা কৃষ্ণচন্দ্র ধরণী ঈশ্বর। রচিল ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর॥