মহাদেবের আঁখি ঢুলু ঢুল। সিদ্ধিতে মগন বুদ্ধি শুদ্ধি হৈল ভুল॥ নয়নে ধরিল রঙ্গ অলসে অবশ অঙ্গ লট পট জটাজূট গঙ্গা হুল থুল॥ খসিল বাঘের ছাল আলু থালু হাড়মাল ভুলিল ডমরু শিঙ্গা পিনাক ত্রিশূল॥ হাসি হাসি উত্তরোল আধ আধ আধ বোল ন ন্ন নন্দি নন্দি আ আ ন্ন নকুল॥ ভারতের অনুভবে ভাঙ্গে কি ভুলাবে ভবে ভবানী ভাবেন ভব ভাবভরাকুল॥ সিদ্ধি ঘুটি আনি নন্দী অন্তরে দাঁড়ায়। বেতাল ভৈরব গণ নাচিয়া বেড়ায়॥ সমুখে থুইয়া সিদ্ধি মুদিয়া নয়ন। বিজয়ার বীজমন্ত্র জপি পঞ্চানন॥ অঙ্গুলির অগ্রভাগে অগ্র ভাগ লয়ে। ভবানীর নামে দিলা একভাব হয়ে॥ ছোয়াইয়া চক্ষে মন্ত্র পড়িয়া বিশেষ। একই নিশ্বাসে পিয়া করিলা নিঃশেষ॥ হুঙ্কার ছাড়িয়া বসে মগন হইয়া। আকুল হইলা বড় নকুল লাগিয়া ॥ নকুল করিব কি রে কহেন নন্দিরে। ভৃঙ্গী কহে মহাপ্রভু কি আছে মন্দিরে॥ তাল বলে আজি ঘরে মাতা উপস্থিত। মেনকা মেলানী তার দিয়াছে কিঞ্চিত॥ হাসিয়া কহেন হর ভালা মোর ভাই। বড় কথা মনে কৈলি আন দেখি তাই॥ অসঙ্খ্য মেলানী তার নকুলে উড়িল। সহচর গণ সবে ভাবিতে লাগিল॥ শঙ্কর কহেন নন্দি সবারে ডাকাও। সকলে সিদ্ধির শেষ পরসাদ পাও॥ সকলে বাঁটিয়া লও কিঞ্চিত কিঞ্চিত। সাবধান কেহ যে, না হয় বঞ্চিত॥ আজ্ঞামত পূর্ণ করি সকলে পাইলা। নকুলের শেষ নাহি ভাবিতে লাগিলা॥ ভবানীর কাছে গিয়া নন্দী দেয় লাজ। অগো মাতা তোমার মায়ের দেখ কাজ॥ এমন মেলানীভার দিল আই বুড়ী। জামাইর সিদ্ধির নকুলে গেল উড়ি॥ আমরা নকুল করি এমন কি আছে। তুমি আজ্ঞা দিলে যাই মেনকার কাছে॥ হাসিয়া কহেন দেবী অরে বাছা সব। তোমা সবাকার কেবা সহে উপদ্রব॥ আই বলি যাহ যদি মোর মার ঠাঁই। যে বুঝি তাঁহার চালে খড় রবে নাই॥ তোমরা আমার মায়ে কি দোষ পাইলে। ফুরাইবে নাহি দ্রব্য বৎসর খাইলে॥ কে বলে মেলানীভারে নাহি আয়োজন। আন রে মেলানীভার দেখিব কেমন॥ মায়া কৈলা মহামায়া মায়ের কারণ। পূরিল মেলানীভার পূর্ব্বের যেমন॥ দেখিয়া সানন্দ ভূত ভৈরব সকল। খাইতে লাগিল সবে মহাকুতূহল॥ জয় জয় হর গৌরি বলিয়া বলিয়া। নাচিয়া বেড়ায় সবে করতালি দিয়া॥ আজ্ঞা দিলা কৃষ্ণচন্দ্র ধরণী ঈশ্বর। রচিল ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর॥