হরগৌরীর বিবাদসূচনা। বিধি মোরে লাগিল রে বাদে ॥ বিধি যার বিবাদী কি সাদ তার সাদে ॥ এ বড় বিষম ধন্দ যত করি ছন্দ বন্দ ভাল ভাবি হয় মন্দ পড়িনু প্রমাদে ॥ ধর্ম্মে জানি সুখ হয় তবু মন নাহি লয় অধর্ম্মে বিবিধ ভয় তবু তাই স্বাদে ॥ মিছা দারা সুত লয়ে মিছা সুখে সুখী হয়ে যে রহে আপনা কয়ে সে মজে বিষাদে ॥ সত্য ইচ্ছা ঈশ্বরের আর সব মিছা ফের ভারত পেয়েছে টের গুরুর প্রসাদে ॥ শঙ্কর কহেন শুন শুনহ শঙ্করি। ক্ষুধায় কাঁপয়ে অঙ্গ বলহ কি করি॥ নিত্য নিত্য ভিক্ষা মাগি আনিয়া যোগাই। সাদ করে এক দিন পেট ভরে খাই॥ সকলের ঘরে ঘরে নিত্য ফিরি মেগে। সরম ভরম গেল উদরের লেগে॥ ভিক্ষা মাগি ভিক্ষা মাগি কাটিলাম কাল॥ তবু ঘুচাইতে নারিলাম বাঘছাল॥ আর সবে ভোগ করে কত মত সুখ। কপালে আগুন মোর না ঘুচিল দুখ॥ নীচ লোকে উচ্চ ভাষে সহিতে না পারি। ভিক্ষা মাগি নাম হৈল শঙ্কর ভিখারি॥ বিধাতার লিখন কাহার সাধ্য খণ্ডি। গৃহিণী ভাগ্যের মত পাইয়াছি চণ্ডী। সর্ব্বদা কন্দল বাজে কথায় কথায়। রস কথা কহিতে বিরস হয়ে যায়॥ কিবা শুভক্ষণে হৈল অলক্ষণ ঘর। খাইতে না পানু কভু পূরিয়া উদর॥ আর আর গৃহির গৃহিণী আছে যারা। কত মতে স্বামির সেবন করে তারা॥ অনির্ব্বাহে নির্ব্বাহ করয়ে কড় দায়। আহা মরি দেখিলে চক্ষুর পাপ যায়॥ পরম্পরা পরস্পর শুনি এই সুত্র। স্ত্রীভাগ্যে ধন পুরুষের ভাগ্যে পুত্ত্র॥ এই রূপে দুই জনে বাড়িছে বাক্‌ছল। ভারতে বিদিত ভাল দুঃখের কন্দল॥