কেবা এমন ঘরে থাকিবে। জয়া। এ দুঃখ সহিতে কেবা পারিবে॥ আপনি মাখেন ছাই আমারে কহেন তাই কেবা বালাই ছাই মাখিবে॥ দামাল ছাবাল দুটি অন্ন চাহে ভূমে লুটি কথায় ভুলায়ে কেবা রাখিবে॥ বিষ পানে নাহি ভয় কথা কৈতে ভয় হয় উচিত কহিলে দ্বন্দ্ব বাড়িবে॥ মা বাপ পাষাণ হিয়া হেন ঘরে দিল বিয়া ভারত এ দুখে ঘর ছাড়িবে॥ শিবার হইল ক্রোধ শিবের বচনে। ধক ধক জ্বলে অগ্নি ললাটলোচনে॥ শুনিলি বিজয়া জয়া বুড়াটির বোল। আমি যদি কই তবে হবে গণ্ডগোল॥ হায় হায় কি কহিব বিধাতা পাষণ্ডী। চণ্ডের কপালে পড়ে নাম হৈল চণ্ডী॥ গুণের না দেখি সীমা রূপ ততোঽধিক। বয়সে না দেখি গাছ পার্থর বল্মীক॥ সম্পদের সীমা নাই বুড়া গরু পুঁজি। রসনা কেবল কথাসিন্দুকের কুঁজি॥ কড়া পড়িয়াছে হাতে অন্ন বস্ত্র দিয়া। কেন সব কটু কথা কিসের লাগিয়া॥ আমার কপাল মন্দ তাই নাই ধন। উহাঁর কপালে সবে হয়েছে নন্দন ॥ কেমনে এমন কন লাজ নাহি হয়। কহিবারে পারি কিন্তু উপযুক্ত নয়॥ অলক্ষণা সুলক্ষণা যে হই সে হই। মোর আসিবার পূর্ব্বকালি ধন কই॥ গিয়াছিলে বুড়াটি যখন বর হয়ে। গিয়াছিলে মোর তরে কত ধন লয়ে॥ বুড়া গরু লড়া দাঁত ভাঙ্গা গাছ গাড়ু। ঝুলি কাঁথা বাঘছাল সাপ সিদ্ধি লাড়ু॥ তখন যে ধন ছিল এখন সে ধন। তবে মোরে অলক্ষণা কন কি কারণ॥ উহাঁর ভাগ্যের বলে হইয়াছে বেটা। কারে কব এ কৌতুক বুঝিবেক কেটা॥ বড় পুত্ত্র গজমুখ চারি হাতে খান। সবে গুণ সিদ্ধি খেতে বাপের সমান॥ ভিক্ষা মাগি খুদ কোণ যে পান ঠাকুর। তাহার ইন্দূরে করে কাটুর কুটুর॥ ছোট পুত্র কার্ত্তিকেয় ছয় মুখে খায়। উপায়ের সীমা নাই ময়ূরে উড়ায়॥ উপযুক্ত দুটি পুত্ত্র আপনি যেমন। সবে ঘরে আমি মাত্র এই অলক্ষণ॥ করেতে হইল কড়া সিদ্ধি বেটে বেটে। তৈল বিনা চুলে জটা অঙ্গ গেল ফেটে॥ শাঁখা শাড়ী সিন্দূর চন্দন পান গুয়া। নাহি দেখি আয়তি কেবল আচাভুয়া॥ ভারত কহিছে মা গো কত বল আর শিবের যে তিরস্কার সেই পুরস্কার॥