- তুমি বাঁধছ নূতন বাসা
তুমি বাঁধছ নূতন বাসা, আমার ভাঙছে ভিত। তুমি খুঁজছ লড়াই, আমার মিটেছে হার-জিত। তুমি বাঁধছ সেতারে তার, থামছি সমে...
- জীবনে তব প্রভাত এল
জীবনে তব প্রভাত এল নব-অরুণকান্তি। তোমারে ঘেরি মেলিয়া থাক শিশিরে-ধোওয়া শান্তি। মাধুরী তব মধ্যদিনে শক্তিরূপ ধর...
- ফুল ছিঁড়ে লয়
ফুল ছিঁড়ে লয় হাওয়া, সে পাওয়া মিথ্যে পাওয়া– আনমনে তার পুষ্পের ভার ধুলায় ছড়িয়ে যাওয়া। যে সেই ধুলার ফুলে...
- মিছে ডাক'–মন বলে, আজ না
মিছে ডাক'–মন বলে, আজ না— গেল উৎসবরাতি, ম্লান হয়ে এল বাতি, বাজিল বিসর্জন-বাজনা। সংসারে যা দেবার মিটিয়ে দিমু এ...
- ক্লান্ত মোর লেখনীর
ক্লান্ত মোর লেখনীর এই শেষ আশা— নীরবের ধ্যানে তার ডুবে যাবে ভাষা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- লুকায়ে আছেন যিনি
লুকায়ে আছেন যিনি জগতের মাঝে আমি তাঁরে প্রকাশিব সংসারের কাজে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- অপরাজিতা ফুটিল
অপরাজিতা ফুটিল, লতিকার গর্ব নাহি ধরে— যেন পেয়েছে লিপিকা আকাশের আপন অক্ষরে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বেছে লব সব-সেরা
বেছে লব সব-সেরা, ফাঁদ পেতে থাকি— সব-সেরা কোথা হতে দিয়ে যায় ফাঁকি। আপনারে করি দান, থাকি করজোড়ে— সব-সেরা আপনি...
- বরষে বরষে শিউলিতলায়
বরষে বরষে শিউলিতলায় ব’স অঞ্জলি পাতি, ঝরা ফুল দিয়ে মালাখানি লহ গাঁথি এ কথাটি মনে জান’— দিনে দিনে তার ফুলগুলি...
- যে ফুল এখনো কুঁড়ি
যে ফুল এখনো কুঁড়ি তারি জন্মশাখে রবি নিজ আশীর্বাদ প্রতিদিন রাখে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- কহিল তারা, “জ্বালিব আলোখানি
কহিল তারা, “জ্বালিব আলোখানি। আঁধার দূর হবে না হবে, সে আমি নাহি জানি।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- হেলাভরে ধুলার ’পরে
হেলাভরে ধুলার ’পরে ছড়াই কথাগুলো। পায়ের তলে পলে পলে গুঁড়িয়ে সে হয় ধুলো। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- পশ্চিমে রবির দিন
পশ্চিমে রবির দিন হলে অবসান তখনো বাজুক কানে পুরবীর গান। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বিদায়রথের ধ্বনি
বিদায়রথের ধ্বনি দূর হতে ওই আসে কানে। ছিন্নবন্ধনের শুধু কোনো শব্দ নাই কোনোখানে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- যাওয়া-আসার একই যে পথ
যাওয়া-আসার একই যে পথ জান না তা কি অন্ধ। যাবার পথ রোধিতে গেলে আসার পথ বন্ধ। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বসন্ত যে লেখা লেখে
বসন্ত যে লেখা লেখে বনে বনান্তরে নামুক তাহারি মন্ত্র লেখনীর ‘পরে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- যুগে যুগে জলে রৌদ্রে বায়ুতে
যুগে যুগে জলে রৌদ্রে বায়ুতে গিরি হয়ে যায় ঢিবি। মরণে মরণে নুতন আয়ুতে তৃণ রহে চিরজীবী। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বাহিরে বস্তুর বোঝা
বাহিরে বস্তুর বোঝা, ধন বলে তায়। কল্যাণ সে অন্তরের পরিপূর্ণতায়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বাতাসে নিবিলে দীপ
বাতাসে নিবিলে দীপ দেখা যায় তারা, আঁধারেও পাই তবে পথের কিনারা। সুখ-অবসানে আসে সম্ভোগের সীমা, দুঃখ তবে এনে দেয়...
- সব চেয়ে ভক্তি যার
সব চেয়ে ভক্তি যার অস্ত্রদেবতারে অস্ত্র যত জয়ী হয় আপনি সে হারে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- জানার বাঁশি হাতে নিয়ে
জানার বাঁশি হাতে নিয়ে না-জানা বাজান তাঁহার নানা সুরের বাজানা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বাহিরে যাহারে খুঁজেছিনু দ্বারে দ্বারে
বাহিরে যাহারে খুঁজেছিনু দ্বারে দ্বারে পেয়েছি ভাবিয়া হারায়েছি বারে বারে— কত রূপে রূপে কত-না অলংকারে অন্তরে ত...
- মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের
মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয় সে প্রাণ অমৃতলোকে মৃত্যু করে জয়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- ধরণীর খেলা খুঁজে
ধরণীর খেলা খুঁজে শিশু শুকতারা তিমিররজনীতীরে এল পথহারা। উষা তারে ডাক দিয়ে ফিরে নিয়ে যায়, আলোকের ধন বুঝি আলো...
- এই সে পরম মূল্য
এই সে পরম মূল্য আমার পুজার— না পূজা করিলে তবু শাস্তি নাই তার। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- দিনের আলো নামে যখন
দিনের আলো নামে যখন ছায়ার তাতলে আমি আসি ঘট ভরিবার ছলে একলা দিঘির জলে। তাকিয়ে থাকি, দেখি, সঙ্গীহারা একটি সন্ধ্...
- তরঙ্গের বাণী সিন্ধু
তরঙ্গের বাণী সিন্ধু চাহে বুঝাবারে। ফেনায়ে কেবলি লেখে, মুছে বারে বারে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- ফুলের অক্ষরে প্রেম
ফুলের অক্ষরে প্রেম লিখে রাখে নাম আপনার— ঝ’রে যায়, ফেরে সে আবার। পাথরে পাথরে লেখা কঠিন স্বাক্ষর দুরাশার ভেঙে য...
- দিগন্তে পথিক মেঘ
দিগন্তে পথিক মেঘ চলে যেতে যেতে ছায়া দিয়ে নামটুকু লেখে তাকাশেতে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- যে করে ধর্মের নামে
যে করে ধর্মের নামে বিদ্বেষ সঞ্চিত ঈশ্বরকে অর্ঘ্য হতে সে করে বঞ্চিত। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- চাও যদি সত্যরূপে
চাও যদি সত্যরূপে দেখিবারে মন্দ– ভালোর আলোতে দেখো, হোয়ো নাকো অন্ধ। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- পুষ্পের মুকুল
পুষ্পের মুকুল নিয়ে আসে অরণ্যের আশ্বাস বিপুল। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- প্রভাতের ফুল ফুটিয়া উঠক
প্রভাতের ফুল ফুটিয়া উঠক সুন্দর পরিমলে। সন্ধ্যাবেলায় হোক সে ধন্য মধুরসে-ভরা ফলে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- সেই আমাদের দেশের পদ্ম
সেই আমাদের দেশের পদ্ম তেমনি মধুর হেসে ফুটেছে, ভাই, অন্য নামে অন্য সুদূর দেশে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- সেতারের তারে
সেতারের তারে ধানশি মিড়ে মিড়ে উঠে বাজিয়া। গোধূলির রাগে মানসী স্বরে যেন এল সাজিয়া। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- দিগ্বলয়ে
দিগ্বলয়ে নব শশীলেখা টুকরো যেন মানিকের রেখা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- বিমল আলোকে আকাশ সাজিবে
বিমল আলোকে আকাশ সাজিবে, শিশিরে ঝলিবে ক্ষিতি, হে শেফালি, তব বীণায় বাজিবে শুভ্রপ্রাণের গীতি। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
- সোনায় রাঙায় মাখামাখি
সোনায় রাঙায় মাখামাখি, রঙের বাঁধন কে দেয় রাখি পথিক রবির স্বপন ঘিরে। পেরোয় যখন তিমিরনদী তখন সে রঙ মিলায় যদি...
- চলার পথের যত বাধা
চলার পথের যত বাধা পথবিপথের যত ধাঁধা পদে পদে ফিরে ফিরে মারে, পথের বীণার তারে তারে তারি টানে সুর হয় বাঁধা। রচে...
- দিবসরজনী তন্দ্রাবিহীন
দিবসরজনী তন্দ্রাবিহীন মহাকাল আছে জাগি— যাহা নাই কোনোখানে, যারে কেহ নাহি জানে, সে অপরিচিত কল্পনাতীত কোন আগামীর...