তত্ত্বজ্ঞানহীন
যার খুশি রুদ্ধচক্ষে করো বসি ধ্যান, বিশ্ব সত্য কিম্বা ফাঁকি লভ সেই জ্ঞান। আমি ততক্ষণ বসি তৃপ্তিহীন চোখে বিশ্বেরে দেখিয়া লই দিনের আলোকে। ২৭ চৈত্র, ১৩০২ — চৈতালি (1896)
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
যার খুশি রুদ্ধচক্ষে করো বসি ধ্যান, বিশ্ব সত্য কিম্বা ফাঁকি লভ সেই জ্ঞান। আমি ততক্ষণ বসি তৃপ্তিহীন চোখে বিশ্বেরে দেখিয়া লই দিনের আলোকে। ২৭ চৈত্র, ১৩০২ — চৈতালি (1896)
তারাগুলি সারারাতি কানে কানে কয়। সেই কথা ফুলে ফুলে ফুটে বনময়। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
পাষাণে পাষাণে তব শিখরে শিখরে লিখেছ, হে গিরিরাজ, অজানা অক্ষরে কত যুগযুগাস্তের প্রভাতে সন্ধ্যায় ধরিত্রীর ইতিবৃত্ত অনন্ত-অধ্যায়। মহান সে গ্রন্থপত্র, তারি এক দিকে কেবল একটি ছত্রে রাখিবে কি লিখে— তব শৃঙ্গশিলাতলে দুদিনের খে...
জড়ায়ে আছে বাধা, ছাড়ায়ে যেতে চাই, ছাড়াতে গেলে ব্যথা বাজে। মুক্তি চাহিবারে তোমার কাছে যাই চাহিতে গেলে মরি লাজে। জানিহে তুমি মম জীবনে শ্রেয়তম, এমন ধন আর নাহি যে তোমাসম, তবু যা ভাঙাচোরা ঘরেতে আছে পোর; ফেলিয়া দিতে পারি...
সুখেতে আসক্তি যার আনন্দ তাহারে করে ঘৃণা। কঠিন বীর্যের তারে বাঁধা আছে সম্ভোগের বীণা৷ — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মর্তবাসীদের তুমি যা দিয়েছ প্রভু, মর্তের সকল আশা মিটাইয়া তবু রিক্ত তাহা নাহি হয়। তার সর্বশেষ আপনি খুঁজিয়া ফিরে তোমারি উদ্দেশ। নদী ধায় নিত্যকাজে, সর্ব কর্ম সারি অন্তহীন ধারা তার চরণে তোমারি নিত্য জলাঞ্জলিরূপে ঝরে অনিব...
মনে হয় এর চেয়ে অন্ধকারে ডুবে যাওয়া ভালো। এইখানে পৃথিবীর এই ক্লান্ত এ অশান্ত কিনারার দেশে এখানে আশ্চর্য সব মানুষ রয়েছে। তাদের সম্রাট নেই, সেনাপতি নেই; তাদের হৃদয়ে কোনো সভাপতি নেই; শরীর বিবশ হ’লে অবশেষে ট্রেড-ইউনিয়নে...
এই লভিনু সঙ্গ তব, সুন্দর, হে সুন্দর। পুণ্য হল অঙ্গ মম, ধন্য হল অন্তর, সুন্দর, হে সুন্দর। আলোকে মোর চক্ষু দুটি মুগ্ধ হয়ে উঠল ফুটি, হৃদ্গগনে পবন হল সৌরভেতে মন্থর, সুন্দর, হে সুন্দর॥ এই তোমারি পরশ-রাগে চিত্ত হল রঞ্জিত, এই...
না চেয়ে যা পেলে তার যত দায় পুরাতে পার না তাও, কেমনে বহিবে চাও যত কিছু সব যদি তার পাও! — স্ফুলিঙ্গ (1945)
মানের আসন, আরাম শয়ন নয় ত তোমার তরে সব ছেড়ে আজ খুসি হয়ে চল পথের পরে। এস বন্ধু তোমরা সবে এক সাথে সব বাহির হবে, আজকে যাত্রা করব মোরা অমানিতের ঘরে। নিন্দা পরব ভূষণ করে কাঁটার কণ্ঠহার, মাথায় করে তুলে লব অপমানের ভার; দুঃখ...
মুকুলের বক্ষোমাঝে কুসুম আঁধারে আছে বাঁধা, সুন্দর হাসিয়া বহে প্রকাশের সুন্দর এ বাধা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
তোমার মাঠের মাঝে, তব নদীতীরে, তব আম্রবনে-ঘেরা সহস্র কুটিরে, দোহনমুখর গোষ্ঠে, ছায়াবটমূলে, গঙ্গার পাষাণঘাটে দ্বাদশ-দেউলে, হে নিত্যকল্যাণী লক্ষ্মী, হে বঙ্গজননী, আপন অজস্র কাজ করিছ আপনি অহর্নিশি হাস্যমুখে। এ বিশ্বসমাজে তোমা...
দুর্বল পৃথিবী কাঁদে জটিল বিকারে, মৃত্যুহীন ধমনীর জ্বলন্ত প্রলাপ; অবরুদ্ধ বক্ষে তার উন্মাদ তড়িৎ: নিত্য দেখে বিভীষিকা পূর্ব অভিশাপ। ভয়ার্ত শোণিত-চক্ষে নামে কালোছায়া, রক্তাক্ত ঝটিকা আনে মূর্ত শিহরণ— দিক্প্রান্তে শোকাতুরা...
চৈতীরাতের হঠাৎ হাওয়া আমায় ডেকে বলে, "বনানী আজ সজীব হ’ল নতুন ফুলে ফুলে। এখনও কি ঘুম-বিভোল? পাতায় পাতায় জানায় দোল বসন্তেরই হাওয়া। তোমার নবীন প্রাণে প্রাণে, কে সে আলোর জোয়ার আনে? নিরুদ্দেশের পানে আজি তোমার তরী বাওয়া...
গায়ে আমার পুলক লাগে, চোখে ঘনায় ঘোর, হৃদয়ে মোর কে বেঁধেছে রাঙা রাখীর ডোর! আজিকে এই আকাশ-তলে জলে স্থলে ফুলে ফলে কেমন করে মনোহরণ ছড়ালে মন মোর! কেমন খেলা হল আমার আজি তোমার সনে! পেয়েছি কি খুঁজে বেড়াই ভেবে না পাই মনে! আন...
ঝিঁঝিট দুইটি হদয়ে একটি আসন পাতিয়া বোসো হে হৃদয়নাথ। কল্যাণকরে মঙ্গলডোরে বাঁধিয়া রাখো হে দোঁহার হাত। প্রাণেশ, তোমারি প্রেম অনন্ত জাগাক জীবনে নববসন্ত, যুগল প্রাণের নবীন মিলনে করো হে করুণনয়নপাত। সংসারপথ দীর্ঘ দারুণ, বাহ...
হে অনন্ত, যেথা তুমি ধারণা-অতীত সেথা হতে আনন্দের অব্যক্ত সংগীত ঝরিয়া পড়িছে নামি— অদৃশ অগম হিমাদ্রিশিখর হতে জাহ্নবীর সম। সে ধ্যানাভ্রভেদী শৃঙ্গ, যেথা স্বর্ণলেখা জগতের প্রাতঃকালে দিয়েছিল দেখা আদি অন্ধকার-মাঝে, যে...