মৃত্তিকা সাথে বাঁধা আছি আমি জলেরো সঙ্গে আছি, তবু আলোকের মুক্তি-লোকেতে পৌঁছিয়া যেন বাঁচি! মৃণালের ক্ষীর সম্বল করি’ সলিল ফুঁড়িয়া উঠি,— নিশ্বাস রুধি’ দীর্ঘ যামিনী কঠিন করিয়া মুঠি। অরুণের মৃদু পাণির পরশে পরাণ ভরিয়া ওঠে, শিথিলিয়া মুঠি আলোকের দান শতদল হ’য়ে ফোটে! ধ্যানের দেবতা প্রাণে আসে মোর ধারণায় মিশে ধ্যান, অনুভবে জানি পাঠায়েছে রবি আলোর অভিজ্ঞান! ঊষারাণী আসি আল্‌তা পরায় ডালিমের রাঙা রসে, শফরী লীলায় সমীর প্রবাহ শরীরে পরাণে পশে! সবুজ টগর টোপা পানা গুলি দীঘির বুকেতে সাজে, হিল্লোল-তালে সলিল-আালয়ে হিন্দোল রাগ বাজে! ঢেলে যায় রবি ধ্যানের সুস্বরভি গভীর এ মম মনে,— অসেচ হরষ অমূর্ত্ত রস আলোর আলিঙ্গনে। অতি অদ্‌ভুত মৃদু বিদ্যুৎ উঠে মুহু রণরণি’ হৃদয়ে চরণ রাখেন দেবতা,— পদ্মের মাঝে মণি! তার পরে ধীরে আকাশ মুকুরে আলো হ’য়ে আসে আলা, ঝরে যায় দল, জীবনের শুধু অবশেষ জপমালা। ভকতি-সাধন আমি গো তখন পুষ্পের মহারাণী, প্রেমিকের লীলাকমল, মরাল- মধুপের রাজধানী। মাটির সঙ্গে বাঁধা আছি আমি আাছি গো জলের সাথে, তবু আলোকের অভিসারে, করি যাত্রা তিমির রাতে!