এ পারে সে ফুট্ল‌ নারে ফুটল না— ও পারে যে গন্ধে করে মাত;— ও পারে যার রূপ কখনো টুট্ল‌ না,— নামটি—ও যার নামটি পারিজাত! এ পারে তার গন্ধ আসে উচ্ছ্বাসি’,— মুগ্ধ হিয়ায় হাওয়ায় মেলি হাত; ও পারে তায় মাল্য রচে উর্ব্বশী,— স্বপন-মাখা মৌন আঁখিপাত! স্বৰ্গ-ভুবন মগ্ন-গো তার সুগন্ধে, ফুটেছে সে মন্দারেরি সাধ; ইন্দ্র তারে বক্ষে ধরে আনন্দে, অনিন্দ্য সে পারের পারিজাত! এ পারে তায় হরণ ক’রে আনবে কে?— মৃত্যু-সাগর করবে পারাপার? তাহার লাগি’ বজ্রে কুসুম মানবে কে?— স্বর্গে হানা দিবে বারম্বার? ঐরাবতের মাথায় অসি হানবে কে?— প্রিয়ায় দিতে পারিজাতের হার? পারের পারিজাতের মরম জানবে কে? কে ঘুচাবে প্রাণের হাহাকার? এ পারে কি কল্পনাতেই থাকবে সে!— নাগাল তারে পাবে না এই হাত? সোনার স্বপন—মরণ শেষে ঢাকবে সে, চির সাধের পারের পারিজাত!