৬১ (হিড়িম্বা।) উজলি চৌদিক এবে রূপের কিরণে, বীরেশ ভীমের পাশে কর যোড় করি দাঁড়াইলা, প্রেম-ডোরে বাঁধা কায় মনে হিড়িম্বা; সুবর্ণ-কান্তি বিহঙ্গী সুন্দরী কিরাতের ফাঁদে যেন! ধাইল কাননে গন্ধামোদে অন্ধ অলি, আনন্দে গুঞ্জরি,— গাইল বাসন্তামোদে শাখার উপরি মধুমাখা গীত পাখী সে নিকুঞ্জ-বনে। সহসা নড়িল বন ঘোর মড়মড়ে, মদ-মত্ত হস্তী কিম্বা গণ্ডার সরোষে পশিলে বনেতে, বন যেই মতে নড়ে! দীর্ঘ-তাল-তুল্য গদা ঘুরায়ে নির্ঘোষে, ছিন্ন করি লতা-কুলে, ভাঙি বৃক্ষ রড়ে, পশিল হিড়িম্ব রক্ষঃ—রৌদ্র ভগ্নী-দোষে। ৬২ (ঐ।) ক্রোধান্ধ মেঘের চক্ষে জ্বলে যথা খরে ক্রোধাগ্নি তড়িত-রূপে; রকত-নয়নে ক্রোধাগ্নি! মেঘের মুখে যেমতি নিঃসরে ক্রোধ-নাদ বজ্রনাদে, সে ঘোর ঘোষণে ভয়ার্ত্ত ভূধর ভূমে, খেচর অম্বরে, ঘন হুহুঙ্কার-ধ্বনি বিকট বদনে,— “রক্ষঃ-কুল-কলঙ্কিনি, কোথা লো এ বনে তুই? দেখি, আজি তোরে কে বা রক্ষা করে!” মূর্ত্তিমান্ রৌদ্র-রসে হেরি রসবতী, সভয়ে কহিলা কাঁদি বীরেন্দ্রের পদে,— “লৌহ-নখ চিল ওই; সফরীর গতি দাসীর! ছুটিছে দুষ্ট ফাটি বীর-মদে, অবলা অধীনা জনে রক্ষ, মহামতি, বাঁচাই পরাণ ডুবি তব কৃপা-হ্রদে!”