সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) · Sukanta Bhattacharya কিশোর বিদ্রোহী কবি — মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রয়াত। ক্ষুধা, শোষণ ও মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন জ্বলন্ত ভাষায়। 'ছাড়পত্র', 'ঘুম নেই', 'পূর্বাভাস' তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
এই নিবিড় বাদল দিনে
এই নিবিড় বাদল দিনে কে নেবে আমায় চিনে, জানিনে তা। এই নব ঘন ঘোরে, কে ডেকে নেবে মোরে কে নেবে হৃদয় কিনে, উদাসচেতা? পবন যে গহন ঘুম আনে, তার বাণী দেবে কী কানে, যে আমার চিরদিন অভিপ্রেতা! শ্যামল রঙ বনে বনে, উদাস সুর মনে মনে,...
“নব জ্যামিতি”র ছড়া
Food Problem (একটি প্রাথমিক সম্পাদ্যের ছায়া অবলম্বনে) সিদ্ধান্ত: আজকে দেশে রব উঠেছে, দেশেতে নেই খাদ্য; ‘আছে’, সেটা প্রমাণ করাই অধুনা ‘সম্পাদ্য’। কল্পনা: মনে করো, আসছে জাপান অতি অবিলম্বে সাধারণকে রাখতে হবে লৌহদৃঢ় ‘লম্বে...
ও কে যায় চলে কথা না বলে দিও না যেতে
ও কে যায় চলে কথা না বলে দিও না যেতে, তাহারই তরে আসন ঘরে রেখেছি পেতে। কেন সে মৃধার পাত্র ফেলে চলে যেতে চায় আজ অবহেলে রামধনু রথে বিদায়ের পথে উঠিছে মেতে॥ রঙে রঙে আজ গোধুলি গগন, নহেকো রঙিন, বিলাপে মগন। আমি কেঁদে কই যেয়ো...
দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে
দাঁড়াও ক্ষণিক পথিক হে যেয়ো না চলে, অরুণ-আলো কে যে দেবে যাও গো বলে। ফেরো তুমি যাবার বেলা, সাঁঝ আকাশে রঙের মেলা দেখেছ কী কেমন ক’রে। আগুন হয়ে উঠল জ্বলে। পূব গগনের পানে বারেক তাকাও, বিরহেরই ছবি কেন আঁকাও? আঁধার যেন প্লাবন...
বিদ্রোহের গান
বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি? এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি, আমরা সবাই যে যার প্রহরী উঠুক ডাক। উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে জ্বলুক আগুন গরিবের হাড়ে কোটি করাঘাত পৌঁছোক দ্বারে; ভীরুরা থাক। মানবো না বাধা, মানবো না ক্ষতি, চোখে যুদ্ধের দৃঢ...
সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন
সাঁঝের আঁধার ঘিরল যখন শাল-পিয়ালের বন, তারই অভিাস দিল আমায় হঠাৎ সমীরণ। কুটির ছেড়ে বাইরে এসে দেখি আকাশকোণে তারার লেখালেখি শুরু হয়ে গেছে বহুক্ষণ। আজকে আমার মনের কোণে কে দিল যে গান, ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠি রোমাঞ্চিত প্রাণ।...
মার্শাল তিতোর প্রতি
কমরেড, তুমি পাঠালে ঘোষণা দেশান্তরে, কুটিরে কুটিরে প্রতিধ্বনি,— তুলেছে মুক্তি দারুণ তুফান প্রাণের ঝড়ে তুমি শক্তির অটুট খনি। কমরেড, আজ কিষাণ শ্রমিক তোমার পাশে তুমি যে মুক্তি রটনা করো, তারাই সৈন্য: হাজারে হাজারে এগিয়ে আসে...
মেয়েদের পদবী
মেয়েদের পদবীতে গোলমাল ভারী, অনেকের নামে তাই দেখি বাড়াবাড়ি; ‘আ’কার অন্ত দিয়ে মহিলা করার চেষ্টা হাসির। তাই ভূমিকা ছড়ার। ‘গুপ্ত’ ‘গুপ্তা’ হয় মেয়েদের নামে, দেখেছি অনেক চিঠি, পোস্টকার্ড, খামে। সে নিয়মে যদি আজ ‘ঘোষ’ হয...
মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে
মেঘ-বিনিন্দিত স্বরে— কে তুমি আমারে ডাকিলে শ্রাবণ বাতাসে? তোমার আহ্বান ধ্বনি— পরশিয়া মোরে গরজিল দূর আকাশে। বেদনা বিভোল আমি ক্ষণেক দুয়ারে থামি বাহিরে ধূসর দিনে— ছুটে চলি পথে মদির-বিবশ নিশাসে। মেঘে মেঘে ছাওয়া মলিন গগনে,...