সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) · Sukanta Bhattacharya কিশোর বিদ্রোহী কবি — মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রয়াত। ক্ষুধা, শোষণ ও মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন জ্বলন্ত ভাষায়। 'ছাড়পত্র', 'ঘুম নেই', 'পূর্বাভাস' তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
একুশে নভেম্বর: ১৯৪৬
আবার এবার দুর্বার সেই একুশে নভেম্বর— আকাশের কোণে বিদ্যুৎ হেনে তুলে দিয়ে গেল মৃত্যুকাঁপানো ঝড়। আবার এদেশে মাঠে, ময়দানে সুদূর গ্রামেও জনতার প্রাণে হাসানাবাদের ইঙ্গিত হানে প্রত্যাঘাতের স্বপ্ন ভয়ঙ্কর। আবার এসেছে অবাধ্য এ...
চট্টগ্রাম: ১৯৪৩
ক্ষুধার্ত বাতাসে শুনি এখানে নিভৃত এক নাম— চট্টগ্রাম: বীর চট্টগ্রাম! বিক্ষত বিধ্বস্ত দেহে অদ্ভুত নিঃশব্দ সহিষ্ণুতা আমাদের স্নায়ুতে স্নায়ুতে বিদ্যুৎপ্রবাহ আনে, আনে আজ চেতনার দিন; চট্টগ্রাম: বীর চট্টগ্রাম! এখনো নিস্তব্ধ ত...
একটি মোরগের কাহিনী
একটি মোরগ হঠাৎ আশ্রয় পেয়ে গেল বিরাট প্রাসাদের ছোট্ট এক কোণে, ভাঙা প্যাকিং বাক্সের গাদায়— আরো দু’তিনটি মুরগীর সঙ্গে। আশ্রয় যদিও মিলল, উপযুক্ত আহার মিলল না। সুতীক্ষ্ণ চিৎকারে প্রতিবাদ জানিয়ে গলা ফাটাল সেই মোরগ ভোর থেক...
রেশন কার্ড
রঘুবীর একদিন দিতে গিয়ে আড্ডা, হারিয়ে ফেলল ভুলে রেশনের কার্ডটা; তারপর খোঁজাখুঁজি এখানে ও ওখানে, রঘু ছুটে এল তার রেশনের দোকানে, সেখানে বলল কেঁদে, হুজুর, চাই যে আটা— দোকানী বলল হেঁকে, চলবে না কাঁদা-কাটা, হাটে মাঠে ঘাটে যা...
বিয়ে বাড়ির মজা
বিয়ে বাড়ি: বাজছে সানাই, বাজছে নানান বাদ্য একটি ধারে তৈরি হচ্ছে নানা রকম খাদ্য; হৈ-চৈ আর চেঁচামেচি, আসছে লুচির গন্ধ, আলোয় আলোয় খুশি সবাই, কান্নাকাটি বন্ধ, বাসরঘরে সাজছে ক’নে, সকলে উৎফুল্ল, লোকজনকে আসতে দেখে কর্তার মুখ...
আলো-অন্ধকার
দৃষ্টিহীন সন্ধ্যাবেলা শীতল কোমল অন্ধকার স্পর্শ ক’রে গেল মোরে। স্বপনের গভীর চুম্বন, ছন্দ-ভাঙা স্তব্ধতায় ভ্রান্তি এনে দিল চিরন্তন, অহর্নিশি চিন্তা মোর বিক্ষুব্ধ হয়েছে; প্রতিবার স্নায়ুতে স্নায়ুতে দেখি অন্ধকারে মৃত্যুর ব...
প্রথম বার্ষিকী
আরবার ফিরে এল বাইশে শ্রাবণ। আজ বর্ষশেষে হে অতীত, কোন সম্ভাষণ জানাব অলক্ষ্য পানে? ব্যথাক্ষুব্ধ গানে, ঝরাব শ্রাবণ বরিষণ। দিনে দিনে, তিলে তিলে যে বেদনা উদাস মধুর হয়েছে নিঃশব্দ প্রাণে ভরেছে বিপুল টানে, তারে আজ দেব কোন সুর?...
আজিকার দিন কেটে যায়
অনলস মধ্যাহ্ন বেলায় যাহায় অক্ষয় মূর্তি পেয়েছিনু খুঁজে তারি পানে আছি চক্ষু বুজে। আমি সেই ধনুর্ধর যার শরাসনে অস্ত্র নাই, দীপ্তি মনে মনে, দিগন্তের স্তিমিত আলোকে পূজা চলে অনিত্যের বহ্নিময় স্রোতে। চলমান নির্বিরোধ ডাক, আজ...
জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী
কত যুগ, কত বর্ষান্তের শেষে জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী: আকাশে মেঘের তাড়াহুড়ো দিকে দিকে বজ্রের কানাকানি। সহসা ঘুমের তল্লাট ছেড়ে শান্তি পালাল আজ। দিন ও রাত্রি হল অস্থির কাজ, আর শুধু কাজ! জনসিংহের ক্ষুব্ধ নখর হয়েছে তীক...