সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬–১৯৪৭) · Sukanta Bhattacharya
কিশোর বিদ্রোহী কবি — মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রয়াত। ক্ষুধা, শোষণ ও মানুষের মুক্তির কথা বলেছেন জ্বলন্ত ভাষায়। 'ছাড়পত্র', 'ঘুম নেই', 'পূর্বাভাস' তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
এ আকাশ, এ দিগন্ত, এই মাঠ, স্বপ্নের সবুজ ছোঁয়া মাটি, সহস্র বছর ধ’রে একে আমি জানি পরিপাটি, জানি এ আমার দেশ অজস্র ঐতিহ্য দিয়ে ঘেরা, এখানে আমার রক্তে বেঁচে আছে পূর্বপুরুষেরা। যদিও দলিত দেশ, তবু মুক্তি কথা কয় কানে, যুগ যু...
বলতে পারো বড়মানুষ মোটর কেন চড়বে? গরীব কেন সেই মোটরের তলায় চাপা পড়বে? বড়মানুষ ভোজের পাতে ফেলে লুচি-মিষ্টি, গরীবরা পায় খোলামকুচি, একী অনাস্থষ্টি? বলতে পারো ধনীর বাড়ি তৈরি যারা করছে, কুঁড়েঘরেই তারা কেন মাছির মতো মরছ...
এদেশ বিপন্ন আজ; জানি আজ নিরন্ন জীবন মৃত্যুরা প্রত্যহ সঙ্গী, নিয়ত শত্রুর আক্রমণ রক্তের আল্পনা আঁকে, কানে বাজে আর্তনাদ সুর; তবুও সুদৃঢ় আমি, আমি এক ক্ষুধিত মজুর। আমার সম্মুখে আজ এক শত্রু: এক লাল পথ, শত্রুর আঘাত আর বুভুক্ষ...
১লা মে-র কবিতা ‘৪৬ লাল আগুন ছড়িয়ে পড়েছে দিগন্ত থেকে দিগন্তে, কী হবে আর কুকুরের মতো বেঁচে থাকায়? কতদিন তুষ্ট থাকবে আর অপরের ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট হাড়ে? মনের কথা ব্যক্ত করবে। ক্ষীণ অস্পষ্ট কেঁউকেঁউ শব্দে? ক্ষুধিত পেটে...
“শিয়ালদা-জোড়া-মন্দির-শিয়ালদা” তীব্র কণ্ঠে বার কয়েক চিৎকার করেই সুরেন ঘণ্টি দিল ‘ঠন ঠন’ করে। বাইরে এবং ভেতরে, ঝুলন্ত এবং অনন্ত যাত্রী নিয়ে বাসখানা সুরেনের ‘যা-ও, ঠিক হ্যায়’ চিৎকার শুনেই অনিচ্ছুক ও অসুস্থ নারীর মতো গ...
এক যে ছিল আপনভোলা কিশোর, ইস্কুল তার ভাল লাগত না, সহ্য হত না পড়াশুনার ঝামেলা আমাদের চলতি লেখাপড়া সে শিখল না কোনোকালেই, অথচ সে ছাড়িয়ে গেল সারা দেশের সবটুকু পাণ্ডিত্যকে। কেমন ক’রে? সে প্রশ্ন আমাকে করো না॥ বড়মানুষীর মধ্...