রসাল ও স্বর্ণ-লতিকা রসাল কহিল উচ্চে স্বর্ণলতিকারে;— “শুন মোর কথা, ধনি, নিন্দ বিধাতারে! নিদারুণ তিনি অতি; নাহি দয়া তব প্রতি; তেঁই ক্ষুদ্র-কায়া করি সৃজিলা তোমারে! মলয় বহিলে, হায়, নতশিরা তুমি তায়, মধুকর-ভরে তুমি পড় লো ঢলিয়া; হিমাদ্রি সদৃশ আমি, বন-বৃক্ষ-কুল-স্বামী, মেঘলোকে উঠে শির আকাশ ভেদিয়া! কালাগ্নির মত তপ্ত তপন তাপন,— আমি কি লো ডরাই কখন? দূরে রাখি গাভী-দলে, রাখাল আমার তলে বিরাম লভয়ে অনুক্ষণ,— শুন, ধনি, রাজ-কাজ দরিদ্র পালন! আমার প্রসাদ ভুঞ্জে পথ-গামী জন। কেহ অন্ন রাঁধি খায় কেহ পড়ি নিদ্রা যায় এ রাজ-চরণে। শীতলিয়া মোর ডরে সদা আসি সেবা করে মোর অতিথির হেথা আপনি পবন! মধু-মাখা ফল মোর বিখ্যাত ভুবনে! তুমি কি তা জান না, ললনে? দেখ মোর ডাল-রাশি, কত পাখী বাঁধে আসি বাসা এ আগারে। ধন্য মোর জনম সংসারে। কিন্তু তব দুখ দেখি নিত্য আমি দুখী; নিন্দ বিধাতায় তুমি, নিন্দ, বিধুমুখি!” * * * মধুর স্বরে * * * * রে * * * * * * * *; * * * * * * * * * * * * প্রভু * * * দয়ামি * * * * * যথা * * যুদ্ধার্থ গম্ভীরতার বাণী তব পানে! সুধা-আশে আসে অলি, দিলে সুধা যায় চলি,— কে কোথা কবে গো দুখী সখীর মিলনে?” “ক্ষুদ্র-মতি তুমি অতি” রাগি কহে তরুপতি, “নাহি কিছু অভিমান? ধিক্‌ চন্দ্রাননে!” নীরবিলা তরুরাজ; উড়িল গগনে যমদূতাকৃতি মেঘ গম্ভীর স্বননে; আইলেন প্রভঞ্জন, সিংহনাদ করি ঘন, যথা ভীম ভীমসেন কৌরব-সমরে। আইল খাইতে মেঘ দৈত্যকুল রড়ে; ঐরাবত পিঠে চড়ি রাগে দাঁত কড়মড়ি, ছাড়িলেন বজ্র ইন্দ্র কড় কড় কড়ে! ঊরু ভাঙ্গি কুরুরাজে বধিলা যেমতি ভীম যোধপতি; মহাঘাতে মড় মড়ি রসাল ভূতলে পড়ি, হায়, বায়ুবলে হারাইলা আয়ু-সহ দর্প বনস্থলে! উর্দ্ধশির যদি তুমি কুল মান ধনে; করিও না ঘৃণা তবু নীচশির জনে! এই উপদেশ কবি দিলা এ কৌশলে।