Where words blossom.
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
বৃষ্টির দিনে
Write
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Be read
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Earn
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
দুর্দিন ঘনায়ে এল ঘন অন্ধকারে
দুর্দিন ঘনায়ে এল ঘন অন্ধকারে হে প্রাণেশ! দিগ্বিদিক বৃষ্টিবারিধারে ভেসে যায়, কুটিল কটাক্ষে হেসে যায় নিষ্ঠুর বিদ্যুৎ-শিখা— উতরোল বায় তুলিল উতলা করি অরণ্য কানন। আজি তুমি ডাকো অভিসারে হে মোহন, হে জীবনস্বামী। অশ্রুসি...
আমাকে তুমি
আমাকে তুমি দেখিয়েছিলে একদিন: মস্ত বড়ো ময়দান— দেবদারু পামের নিবিড় মাথা— মাইলের পর মাইল; দুপুরবেলার জনবিরল গভীর বাতাস দূর শূন্যে চিলের পাটকিলে ডানার ভিতর অস্পষ্ট হ’য়ে হারিয়ে যায়; জোয়ারের মতো ফিরে আসে আবার; জানালায়...
তোমায় আমায় মিলন হবে বলে
তোমায় আমায় মিলন হবে বলে আলোয় আকাশ ভরা। তোমায় আমায় মিলন হবে ব’লে ফুল্ল শ্যামল ধরা। তোমায় আমায় মিলন হবে ব’লে রাত্রি জাগে জগৎ লয়ে কোলে, উষা এসে পূর্বদুয়ার খোলে কলকণ্ঠস্বরা॥ চলছে ভেসে মিলন-আশা-তরী অনাদি স্রোত বেয়ে।...
উনবিংশ পরিচ্ছেদ
১৯ সেই দিন অপরাহ্নে একটা অচিন্তনীয় ঘটনা ঘটিল। আদালতের বিচার উপেক্ষা করিয়া কৈলাস নাপিত এবং সেখ মতিলাল সাক্ষীসাবুদ সঙ্গে লইয়া রমেশের শরণাপন্ন হইল। রমেশ অকৃত্রিম বিস্ময়ের সহিত প্রশ্ন করিল,—“আমার বিচার তোমরা মান্বে কেন...
অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ
১৮ কারাপ্রাচীরের বাহিরেই যে তাহার সমস্ত দুঃখ ভগবান্ এমন করিয়া সার্থক করিয়া দিবার আয়োজন করিয়া রাখিয়াছিলেন, ইহা বোধ করি রমেশের উন্মত্ত-বিকারেও আশা করা তাহার পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। ছয়মাস সশ্রম অবরোধের পর মুক্তিলাভ করি...
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ
১৭ বিশ্বেশ্বরী ঘরে ঢুকিয়া অশ্রুভরা রোদনের কণ্ঠে প্রশ্ন করিলেন,—“আজ কেমন আছিস্ মা রমা?” রমা তাঁহার মুখের পানে চাহিয়া একটুখানি হাসিয়া বলিল,—“আজ ভাল আছি জ্যাঠাইমা।” বিশ্বেশ্বরী তার শিয়রে আসিয়া বসিলেন এবং মাথায় মুখে হ...
ষোড়শ পরিচ্ছেদ
১৬ প্রতি বৎসর রমা ঘটা করিয়া দুর্গোৎসব করিত এবং প্রথম পূজার দিনেই গ্রামের সমস্ত চাষাভুষা প্রভৃতিকে পরিতোষ পূর্ব্বক ভোজন করাইত। ব্রাহ্মণ-বাটীতে মায়ের প্রসাদ পাইবার জন্য এমনি হুড়ামুড়ি পড়িয়া যাইত যে, রাত্রি একপ্রহর পর্...
পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ
১৫ এমনি একটা আশঙ্কা যে রমেশের মাথায় একেবারেই আসে নাই, তাহা নহে। তথাপি, পরদিন সন্ধ্যার সময়ে গোপাল সরকার সদর হইতে ফিরিয়া আসিয়া যখন সত্য সত্যই জানাইল যে, ভৈরব আচার্য্য তাহাদের মাথার উপরেই কাঁঠাল ভাঙিয়া ভক্ষণ করিয়াছে,...
চতুর্দশ পরিচ্ছেদ
১৪ বর্ষা শেষ হইয়া আগামী পূজার আনন্দ এবং ম্যালেরিয়াভীতি বাঙ্লার পল্লী-জননীর আকাশে, বাতাসে এবং আলোকে উঁকি-ঝুঁকি মারিতে লাগিল। রমেশও জ্বরে পড়িল। গত বৎসর এই রাক্ষসীর আক্রমণকে সে উপেক্ষা করিয়াছিল; কিন্তু, এ বৎসর আর পারিল...
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ
১৩ আজ দুই মাস হইতে চলিল, কয়েকজন ডাকাতির আসামীর সঙ্গে ভজুয়া হাজতে। সেদিন খানাতল্লাসিতে রমেশের বাড়ীতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায় নাই, এবং ভৈরব আচার্য্য সাক্ষ্য দিয়াছিল, সে রাত্রে ভজুয়া তাঁহার সঙ্গে তাঁহার মেয়ের পাত্...
দ্বাদশ পরিচ্ছেদ
১২ ছেলেবেলায় একদিন রমেশ রমাকে ভালবাসিয়াছিল। নিতান্ত ছেলেমানুষি ভালবাসা, তাহাতে সন্দেহ নাই; কিন্তু সে যে কত গভীর, তাহা তারকেশ্বরে সে প্রথম অনুভব করিতে পারিয়াছিল। এবং আরও কত গভীর, সেইদিন সব চেয়ে বেশী টের পাইয়াছিল, যে...
একাদশ পরিচ্ছেদ
১১ দুইদিন অবিশ্রান্ত বৃষ্টিপাত হইয়া অপরাহ্ন-বেলায় একটু ধরণ হইয়াছে। চণ্ডীমণ্ডপে গোপাল সরকারের কাছে বসিয়া রমেশ জমীদারীর হিসাবপত্র দেখিতেছিল; অকস্মাৎ প্রায় কুড়িজন কৃষক আসিয়া কাঁদিয়া পড়িল—“ছোটবাবু, এ যাত্রা রক্ষে কর...
দশম পরিচ্ছেদ
১০ মাস তিনেক পরে একদিন সকালবেলা তারকেশ্বরের যে পুষ্করিণীটিকে দুধপুকুর বলে, তাহারই সিঁড়ির উপর একটি রমণীর সহিত রমেশের একেবারে মুখোমুখি দেখা হইয়া গেল। ক্ষণকালের জন্য সে এম্নি অভিভূত, অভদ্রভাবে তাহার অনাবৃত মুখের পানে চাহ...
নবম পরিচ্ছেদ
৯ যত রাগ করিয়াই রমেশ চলিয়া আসুক, বাড়ী পৌঁছিতে না পৌঁছিতে তাহার সমস্ত উত্তাপ যেন জল হইয়া গেল। সে বার বার করিয়া বলিতে লাগিল—“এই সোজা কথাটা না বুঝিয়া কি কষ্টই না পাইতেছিলাম। বাস্তবিক, রাগ করি কাহার উপর? যাহারা এতই সঙ্...
অষ্টম পরিচ্ছেদ — “জ্যাঠাইমা!”
৮ “জ্যাঠাইমা!” “কে, রমেশ? আয় বাবা, ঘরে আয়।” বলিয়া আহ্বান করিয়া বিশ্বেশ্বরী তাড়াতাড়ি একখানি মাদুর পাতিয়া দিলেন। ঘরে পা দিয়াই রমেশ চমকিত হইয়া উঠিল। কারণ, জ্যাঠাইমার কাছে যে স্ত্রীলোকটি বসিয়াছিল, তাহার মুখ দেখিতে...
সপ্তম পরিচ্ছেদ
৭ “হাঁরে যতীন্, খেলা কর্ছিস, ইস্কুলে যাবিনে?” “আমাদের যে আজ কাল দু’দিন ছুটি দিদি!” মাসী শুনিতে পাইয়া কুৎসিত মুখ আরও বিশ্রী করিয়া বলিলেন, “মুখপোড়া ইস্কুলের মাসের মধ্যে পনরদিন ছুটি! তুই তাই ওর পিছনে টাকা খরচ করিস্, আ...
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
৬ বিশ্বেশ্বরীর সেদিনের কথাটা সেইদিনেই দশখানা গ্রামে পরিব্যাপ্ত হইয়া গিয়াছিল। বেণী লোকটা নিজে কাহারও মুখের উপর রূঢ় কথা বলিতে পারিত না; তাই সে গিয়া রমার মাসীকে ডাকিয়া আনিয়াছিল। সেকালে নাকি তক্ষক দাঁত ফুটাইয়া এক বিরা...