ভাঙা মন্দির
(১) পুণ্য-লোভীর নাই হ’লো ভীড় শূন্য তোমার অঙ্গনে, জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়। অর্ঘ্যের আলো নাই বা সাজালো পুষ্পে প্রদীপে চন্দনে, যাত্রীরা তব বিস্মৃত-পরিচয়। সম্মুখ পানে দেখো দেখি চেয়ে, ফাল্গুনে তব প্রাঙ্গণ ছেয়ে বন-ফুল...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
(১) পুণ্য-লোভীর নাই হ’লো ভীড় শূন্য তোমার অঙ্গনে, জীর্ণ হে তুমি দীর্ণ দেবতালয়। অর্ঘ্যের আলো নাই বা সাজালো পুষ্পে প্রদীপে চন্দনে, যাত্রীরা তব বিস্মৃত-পরিচয়। সম্মুখ পানে দেখো দেখি চেয়ে, ফাল্গুনে তব প্রাঙ্গণ ছেয়ে বন-ফুল...
দেবতা জেনে দূরে রই দাঁড়ায়ে, আপন জেনে আদর করিনে। পিতা বলে প্রণাম করি পায়ে, বন্ধু বলে দু হাত ধরিনে। আপনি তুমি অতি সহজ প্রেমে আমার হয়ে এলে যেথায় নেমে সেথায় সুখে বুকের মধ্যে ধরে সঙ্গী বলে তোমায় বরি নে। ভাই তুমি যে ভাই...
এই হেমন্তে কাটা হবে ধান, আবার শূন্য গোলায় ডাকবে ফসলের বান— পৌষপার্বণে প্রাণ-কোলাহলে ভরবে গ্রামের নীরব শ্মশান। তবুও এ হাতে কাস্তে তুলতে কান্না ঘনায়: হালকা হাওয়ায় বিগত স্মৃতিকে ভুলে থাকা দায়; গত হেমন্তে মরে গেছে ভাই,...
হাজার বছর শুধু খেলা করে হাজার বছর শুধু খেলা করে অন্ধকারে জোনাকির মতো: চারিদিকে পিরামিড— কাফনের ঘ্রাণ; বালির উপরে জ্যোৎস্না— খেজুর-ছায়ারা ইতস্তত বিচূর্ণ থামের মতো: এশিরিয়— দাঁড়ায়ে রয়েছে মৃত, ম্লান। শরীরে মমির ঘ্রাণ...
পঁচিশে বৈশাখের উদেশে আমার প্রার্থনা শোনো পঁচিশে বৈশাখ, আর একবার তুমি জন্ম দাও রবীন্দ্রনাথের। হতাশায় স্তব্ধ বাক্য; ভাষা চাই আমরা নির্বাক, পাঠাব মৈত্রীর বাণী সারা পুথিবীকে জানি ফের। রবীন্দ্রনাথের কণ্ঠে আমাদের ভাষা যাবে শো...
নিন্দা দুঃখে অপমানে যত আঘাত খাই তবু জানি কিছুই সেথা হারাবার ত নাই। থাকি যখন ধূলার পরে ভাবতে হয় না আসন তরে, দৈন্যমাঝে অসঙ্কোচে প্রসাদ তব চাই। লোকে যখন ভাল বলে, যখন সুখে থাকি, জানি মনে তাহার মাঝে অনেক আছে ফাঁকি। সেই ফাঁকি...
যাওয়া-আসার একই যে পথ জান না তা কি অন্ধ। যাবার পথ রোধিতে গেলে আসার পথ বন্ধ। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
রাত্রি হ’লো ভোর। আজি মোর জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী, প্রভাতের রৌদ্রে লেখা লিপিখানি হাতে ক’রে আনি’, দ্বারে আসি দিল’ ডাক পঁচিশে বৈশাখ। দিগন্তে আরক্ত রবি; অরণ্যের ম্লান ছায়া বাজে যেন বিষন্ন ভৈরবী শাল তাল শিরীষের মিলিত মর্ম্মরে...
ছাড়িস্নে, ধরে থাক্ এঁটে, ওরে হবে তোর জয়! অন্ধকার যায় বুঝি কেটে, ওরে আর নেই ভয়। ওই দেখ পূর্ব্বাশার ভালে নিবিড় বনের অন্তরালে শুকতারা হয়েছে উদয় ওরে আর নেই ভয়! এরা যে কেবল নিশাচর— অবিশ্বাস আপনার পর হতাশ্বাস, আলস্য,...
দিক্প্রান্তে ভাঙন নেপথ্য পৃথিবীতে: অদৃশ্য কালের শত্রু প্রচ্ছন্ন জোয়ারে, অনেক বিপন্ন জীব ক্ষয়িষ্ণু খোঁয়াড়ে উন্মুখ নিঃশেষে কেড়ে নিতে, দুর্গম বিষণ্ণ শেষ শীতে। বীভৎস প্রাণের কোষে কোষে নিঃশব্দে ধ্বংসের বীজ নির্দিষ্ট আয়...
আমার কণ্ঠ তাঁরে ডাকে, তখন হৃদয় কোথায় থাকে। যখন হৃদয় আসে ফিরে আপন নীরব নীড়ে আমার জীবন তখন কোন্ গহনে বেড়ায় কিসের পাকে॥ যখন মোহ আমায় ডাকে তখন লজ্জা কোথায় থাকে। যখন আনেন তমোহারী আলোক-তরবারি তখন পরান আমার কোন্ কোণে যে...
ম্লান হয়ে এল কণ্ঠে মন্দার মালিকা, হে মহেন্দ্র, নির্ব্বাপিত জ্যোতির্ম্ময় টীকা মলিন ললাটে;—পুণ্যবল হল ক্ষীণ, আজি মোর স্বর্গ হতে বিদায়ের দিন হে দেব হে দেবীগণ! বর্ষ লক্ষশত যাপন করেছি হর্ষে দেবতার মত দেবলোকে। আজি শেষ বিচ্ছ...
গর্ব্ব করে নিইনে ও নাম, জান অন্তর্যামী, আমার মুখে তোমার নাম কি সাজে? যখন সবাই উপহাসে তখন ভাবি আমি আমার কণ্ঠে তোমার গান কি বাজে? তোমা হতে অনেক দূরে থাকি সে যেন মোর জানতে না রয় বাকি, নামগানের এই ছদ্মবেশে দিই পরিচয় পাছে ম...
বিদায়রথের ধ্বনি দূর হতে ওই আসে কানে। ছিন্নবন্ধনের শুধু কোনো শব্দ নাই কোনোখানে। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
কার হাতে এই মালা তোমার পাঠালে আজ ফাগুন-দিনের সকালে। তার বর্ণে তোমার নামের রেখা, গন্ধে তোমার ছন্দ লেখা, সেই মালাটি বেঁধেছি মোর কপালে আজ ফাগুন-দিনের সকালে॥ গানটি তোমার চলে এল আকাশে আজ ফাগুন-দিনের বাতাসে। ওগো আমার নামটি তোম...
বিপদে মোরে রক্ষা কর, এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়। দুঃখ-তাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা, দুঃখে যেন করিতে পারি জয়। সহায় মোর না যদি জুটে নিজের বল না যেন টুটে, সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি লভিলে শুধু বঞ্চন...