ঘাসের ভিতরে যেই চড়ায়ের শাদা ডিম ভেঙে আছে—আমি ভালোবাসি নিস্তব্ধ করুণ মুখ তার এই—কবে যেন ভেঙেছিল—ঢের ধূলো খড় লেগে আছে বুকে তার—বহুক্ষণ চেয়ে থাকি;—তারপর ঘাসের ভিতর শাদা শাদা ধূলোগুলো প’ড়ে আছে, দেখা যায়; খইধান দেখি একরাশি ছড়ায়ে রয়েছে চুপে; নরম বিষণ্ন গন্ধ পুকুরের জল থেকে উঠিতেছে ভাসি; কান পেতে থাক যদি, শোনা যায়, সরপুঁটি চিতলের উদ্ভাসিত স্বর মীনকন্যাদের মতো; সবুজ জলের ফাঁকে তাদের পাতালপুরী ঘর দেখা যায়—রহস্যের কুয়াশায় অপরূপ—রূপালি মাছের দেহ গভীর উদাসী চ’লে যায় মন্ত্রিকুমারের মতো, কোটাল-ছেলের মতো, রাজার ছেলের মতো মিলে কোন্ এক আকাঙ্ক্ষার উদ্ঘাটনে কত দূরে;—বহুক্ষণ চেয়ে থাকি একা; অপরাহ্ণ এল বুঝি?—রাঙা রৌদ্রে মাছরাঙা উড়ে যায়—ডানা ঝিলমিলে; এখুনি আসিবে সন্ধ্যা,—পৃথিবীতে ম্রিয়মাণ গোধূলি নামিলে নদীর নরম মুখ দেখা যাবে—মুখে তার দেহে তার কত মৃদু, রেখা তোমারি মুখের মতো:তবুও তোমার সাথে কোনোদিন হবে নাকো দেখা। — রূপসী বাংলা (1957)