একদিন মনে হ’তো জলের মতন তুমি। সকালবেলার রোদে তোমর মুখের থেকে বিভা— অথবা দুপুরবেলা— বিকেলের আসন্ন আলোয়— চেয়ে আছে— চ’লে যায়— জলের প্রতিভা। মনে হ’তো তীরের উপরে ব’সে থেকে। আবিষ্ট পুকুর থেকে সিঙাড়ার ফল কেউ-কেউ তুলে নিয়ে চ’লে গেলে— নিচে তোমার মুখের মতন অবিকল নির্জন জলের রং তাকায়ে রয়েছে; স্থানান্তরিত হ’য়ে দিবসের আলোর ভিতরে নিজের মুথের ঠাণ্ডা জলরেখা নিয়ে পুনরায় শ্যাম পরগাছা সৃষ্টি করে; এক পৃথিবীর রক্ত নিপতিত হ’য়ে গেছে জেনে এক পৃথিবীর আলো সব দিকে নিভে যায় ব’লে রঙিন সাপকে তার বুকের ভিতরে টেনে নেয়; অপরাহ্ণে আকাশের রং ফিকে হ’লে। তোমার বুকের ’পরে আমাদের পৃথিবীর অমোঘ সকাল; তোমার বুকের ’পরে আমাদের বিকেলের রক্তিল বিন্যাস; তোমার বুকের ’পরে আমাদের পৃথিবীর রাত: নদীর সাপিনী, লতা, বিলীন বিশ্বাস। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)