Poetry
বাতাস শুধায়, “বলে তো, কমল
বাতাস শুধায়, “বলে তো, কমল, তব রহস্য কী যে।” কমল কহিল, “আমার মাঝারে আমি রহস্য নিজে।” — স্ফুলিঙ্গ (1945)
নীরব তন্ত্রী
“তোমার বীণায় সব তার বাজে, ওহে বীণ্-কার, তারি মাঝে কেন নীরব কেবল একখানি তার”? “ভব-নদীতীরে হৃদি মন্দিরে দেবতা বিরাজে, পুজা সমাপিয়া এসেছি ফিরিয়া আপনার কাজে। বিদায়ের ক্ষণে শুধাল পূজারী,— দেবীরে কি দিলে? তব জুনমের শ্রেষ্...
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে
যত বড়ো হোক ইন্দ্রধনু সে সুদূর-আকাশে-আঁকা, আমি ভালোবাসি, মোর ধরণীর প্রজাপতিটির পাখা। — স্ফুলিঙ্গ (1945)
শতাব্দীর সূর্য আজি রক্তমেঘ-মাঝে
শতাব্দীর সূর্য আজি রক্তমেঘ-মাঝে অস্ত গেল; হিংসার উৎসবে আজি বাজে অস্ত্রে অস্ত্রে মরণের উন্মাদ রাগিনী ভয়ংকরী। দয়াহীন সভ্যতানাগিনী তুলেছে কুটিল ফণা চক্ষের নিমেষে গুপ্ত বিষদন্ত তার ভরি তীব্র বিষে। স্বার্থে স্বার্থে বেধেছে...
দিনবদলের পালা
দিলবদলের পালা আর এক যুদ্ধ শেষ, পৃথিবীতে তবু কিছু জিজ্ঞাসা উন্মুখ। উদ্দাম ঢাকের শব্দে সে প্রশ্নের উত্তর কোথায়? বিজয়ী বিশ্বের চোখ মুদে আসে, নামে এক ক্লান্তির জড়তা। রক্তাক্ত প্রান্তর তার অদৃশ্য দুহাতে নাড়া দেয় পৃথিবীক...
ভারতীয় জীবনত্রাণ-সমাজের মহাপ্রয়াণে
অকস্মাৎ মধ্যদিনে গান বন্ধ ক’রে দিল পাখি, ছিন্নভিন্ন সন্ধ্যাবেলা প্রাত্যহিক মিলনের রাখী; ঘরে ঘরে অনেকেই নিঃসঙ্গ একাকী। ক্লাব উঠে গিয়েছে সফরে, শূন্য ঘর, শূন্য মাঠ, ফুল ফোটা মালঞ্চ প’ড়ে ত্যক্ত এ ক্লাবের কক্ষে নিষ্প্রদীপ অ...
অল্প লইয়া থাকি তাই মোর
অল্প লইয়া থাকি তাই মোর যাহা যায় তাহা যায়। কণাটুকু যদি হারায় তা লয়ে প্রাণ করে হায়-হায়। নদীতটসম কেবলি বৃথাই প্রবাহ আঁকড়ি রাখিবারে চাই, একে একে বুকে আঘাত করিয়া ঢেউগুলি কোথা ধায়। অল্প লইয়া থাকি তাই মোর যাহা যায় ত...
ধান কাটা হ’য়ে গেছে
ধান কাটা হ’য়ে গেছে কবে যেন— খেতে মাঠে প’ড়ে আছে খড় পাতা কুটো ভাঙা ডিম— সাপের খোলস নীড় শীত। এই সব উৎরায়ে ওইখানে মাঠের ভিতর ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক আজ— কেমন নিবিড়। ওইখানে একজন শুয়ে আছে— দিনরাত দেখা হ’তো কতো কতো দ...