পঞ্চম পরিচ্ছেদ
৫ এ পাড়ায় একমাত্র মধু পালের মুদির দোকান নদীর পথে হাটের একধারে। দশ বার দিন হইয়া গেল, অথচ সে বাকী দশ টাকা লইয়া যায় নাই বলিয়া, রমেশ কি মনে করিয়া নিজেই একদিন সকালবেলা দোকানের উদ্দেশে বাহির হইয়া পড়িল। মধু পাল মহাসমাদ...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
৫ এ পাড়ায় একমাত্র মধু পালের মুদির দোকান নদীর পথে হাটের একধারে। দশ বার দিন হইয়া গেল, অথচ সে বাকী দশ টাকা লইয়া যায় নাই বলিয়া, রমেশ কি মনে করিয়া নিজেই একদিন সকালবেলা দোকানের উদ্দেশে বাহির হইয়া পড়িল। মধু পাল মহাসমাদ...
৪ বাহিরে এইমাত্র শ্রাদ্ধ শেষ হইয়া গেছে। আসন হইতে উঠিয়া রমেশ অভ্যাগতদিগের সহিত পরিচিত হইবার চেষ্টা করিতেছে—বাড়ীর ভিতরে আহারের জন্য পাতা পাড়িবার আয়োজন হইতেছে, এমন সময় একটা গোলমাল হাঁকাহাঁকি শুনিয়া রমেশ ব্যস্ত হইয়া,...
৩ “জ্যাঠাইমা?” ডাক শুনিয়া বিশ্বেশ্বরী ভাঁড়ার ঘর হইতে বাহিরে আসিলেন। বেণীর বয়সের সঙ্গে তুলনা করিলে তাহার জননীর বয়স পঞ্চাশের কম হওয়া উচিত নয়; কিন্তু দেখিলে কিছুতেই চল্লিশের বেশী বলিয়া মনে হয় না। রমেশ নির্নিমেষচক্ষে...
২ এই কুঁয়াপুরের বিষয়টা অর্জ্জিত হইবার একটু ইতিহাস আছে, তাহা এইখানে বলা আবশ্যক। প্রায় শতবর্ষ পূর্ব্বে মহাকুলীন বলরাম মুখুয্যে, তাঁহার পিতা বলরাম ঘোষালকে সঙ্গে করিয়া, বিক্রমপুর হইতে এদেশে আসেন। মুখুয্যে শুধু কুলীন ছিলে...
১ বেণী ঘোষাল মুখুয্যেদের অন্দরের প্রাঙ্গণে পা দিয়াই সম্মুখে এক প্রৌঢ়া রমণীকে পাইয়া প্রশ্ন করিলেন, “এই যে মাসি, রমা কই গা?” মাসী আহ্নিক করিতেছিলেন, ইঙ্গিতে রান্নাঘর দেখাইয়া দিলেন। বেণী উঠিয়া আসিয়া রন্ধনশালার চৌকাঠের...
দেখ, এই মোটা লোকটাকে দেখ অভাব জানে না লোকটা, যা কিছু পায় সে আঁকড়িয়ে ধরে লোভে জ্বলে তার চোখটা। মাথা-উঁচু করা প্রাসাদের সারি পাথরে তৈরি সব তার, কত সুন্দর, পুরনো এগুলো! অট্টালিকা এ লোকটার। উঁচু মাথা তার আকাশ ছুঁয়েছে চেয...
দশম কল্পনা নৈরাশক্ষেত্র—মধ্যভাগে মরুপ্রদেশ—তাহাতে চিরপ্রদীপ্ত অনলকুণ্ড—হতাশের মূর্ত্তিদর্শন ও নিদ্রাভঙ্গ। ধীরে ধীরে ঋষি চলে আগে আগে, পশ্চাতে করি গমন; শোকারণ্য ছাড়ি অন্য ধারে তার উপনীত দুই জন। কঠিন মৃত্তিকা, নিম্ন উচ্চ...
বিবেকের সহিত সাক্ষাৎ—আশার অন্তৰ্দ্ধান—বিবেকের অমুবর্তী হইয়া কাননের প্রান্তভাগ দর্শন। শোকারণ্য—তাহাতে প্রবেশ ও ভ্রমণ-শোকের মুর্ত্তি দর্শন ও তাহার পরিচয়। আশার পশ্চাতে প্রাসাদ হইতে আসিয়া কিঞ্চিং দূর, জিজ্ঞাসি তাহারে কোন্...
অষ্টম কল্পনা ব্রহ্মবন্দনা ও সরস্বতী-অর্চ্চনা। ব্রহ্মাণ্ড ভুবন সৃজন যাঁহার, প্রাণী বিরচিত যাঁর, যে জন হইতে জগত পালন, যিনি জীব-মূলাধার; রবি, শশধর, পবন, আকাশ, জ্যোতিষ্ক, নক্ষত্রদল, জীমূত, জলধি, পর্ব্বত, অরণ্য, হ্রদিনী, ধরি...
স্নেহ-উপবন—মাতৃস্নেহ—সান্ত্বনা-মন্দির—দ্বারদেশে ভ্রান্তির সহিত সাক্ষাৎ। আশার আশ্বাসে চলিনু পশ্চাতে প্রণয়-অঞ্চল মাঝে; আসি কিছু দূর দিব্য বাণী এক সম্মুখে হেরি বিরাজে। মনোহর বাণী গভীর সুন্দর থই থই করে জল; স্থির শান্ত নীর স...
প্রণয়োদ্যান—তাহাতে ভ্রমণ—অপূর্ব্ব তরু-পুষ্প দর্শন—সতী-নির্ঝর—প্রণয়ের মূর্ত্তি—তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ ও আলাপ। যথা যবে ঋতু সরস বসন্ত প্রবেশে ধরণী-মাঝে, শোভে তরু লতা ধরি চারু বেশ নবীন পল্লব সাজে; ঝরে ধীরে ধীরে পত্র পুরাতন ছা...
স্নেহ, ভক্তি, বাৎসল্য, প্রণয় প্রভৃতির নিবাসে প্রবেশ করিবার পূর্ব্বে এই অঞ্চল অতিক্রম করিয়া যাইতে হয়—কর্ম্মক্ষেত্র এবং স্নেহাদি অঞ্চলের মধ্যবর্ত্তিনী নদী—তদুপরিস্থিত পরিণয় সেতু—তাহাতে প্র্যণিগণের গতিবিধি। কর্ম্মক্ষেত্...
যশঃশৈল—নিম্নভাগে প্রাণিসমাগম—আরোহণ-প্রথা—ভিন্ন ভিন্ন শিখর দর্শন—ভিন্ন ভিন্ন যশস্বী প্রাণিমণ্ডলীর কীর্ত্তিকলাপ দর্শন—বাল্মীকির সহিত সাক্ষাং। নিকটে আসিয়া নিরখি সুন্দর অপূর্ব্ব শিখর-শ্রেণী; শিখরে শিখরে কনক প্রদীপ যেন কিরণে...
রত্নস্তান—আকাঙ্ক্ষা-তবন—তধ্নিবাসীদিগের নৃশংস ব্যবহার ও কঠোর রীতি নীতি। চলিতে চলিতে হেরি এক স্থানে অপূর্ব্ব নব অঞ্চল, তরুশিরে ফল অতি মনোহর কনকের পত্রদল। ছুটেছে সে দিকে কত শত প্রাণী কত শত আসি কাছে, ফল পত্র হেরি তরুর শিখরে...
[কর্ম্মক্ষেত্র—ছয় দ্বার—ছয় জন প্রহরী কর্ত্তৃক রক্ষিত—পুরী-পরিক্রম—প্রতি দ্বারে প্রহরীর আকৃতি ও প্রকৃতি দর্শন। ১ম দ্বারে শক্তি, ২য় দ্বারে অধ্যবসায়, ৩য় দ্বারে সাহস, ৪র্থ ধারে ধৈর্য্য, ৫ম দ্বারে শ্রম, ৬ষ্ঠ দ্বারে উৎসাহ...
আশার সহিত সাক্ষাৎ ও পরিচয়, তাঁহার সঙ্গে আশাকাননে প্রবেশ ভিন্ন ভিন্ন দিক্ হইতে কর্ম্মক্ষেত্রাভিমুখে প্র্যণিসংপ্রবাহ। বঙ্গে সুবিখ্যাত দামোদর নদ ক্ষীর সম স্বাদু নীর; বৃক্ষ নানা জাতি বিবিধ লতায় সুশোভিত উভ তীর; বিন্ধ্যগিরি-...
হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে জাগরে ধীরে- এই ভারতের মহা-মানবের সাগর-তীরে। হেথায় দাঁড়ায়ে দু বাহু বাড়ায়ে নমি নর-দেবতারে, উদার ছন্দে পরমানন্দে বন্দন করি তাঁরে। ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর, নদী-জপমালা-ধৃত প্রান্তর, হেথায় নিত্...
আলোয় আলোকময় করেহে এলে আলোর আলো। আমার নয়ন হতে আঁধার মিলালো মিলালো। সকল আকাশ সকল ধরা আনন্দে হাসিতে ভরা, যে দিক পানে নয়ন মেলি ভালো সবি ভালো। তোমার আলো গাছের পাতায় নাচিয়ে তোলে প্রাণ, তোমার আলো পাখীর বাসায় জাগিয়ে তোলে...