হাতুড়ে
একবার দেখে যাও ডাক্তারি কেরামৎ— কাটা ছেঁড়া ভাঙা চেরা চট্পট্ মেরামৎ। কয়েছেন গুরু মোর, “শোন শোন বৎস, কাগজের রোগী কেটে আগে কর মক্স।” উৎসাহে কি না হয়? কি না হয় চেষ্টায়? অভ্যাসে চট্পট্ হাত পাকে শেষটায়। খেটে খুটে জল...
Share your poems|
Find readers who feel them. Earn from every read and every gift.
Publish poems, stories and essays in your own language. Line breaks stay exactly as you wrote them.
Readers react, comment, follow and share. Climb the weekly leaderboard.
Every unique read earns coins, and readers can send you gifts. Withdraw your earnings anytime.
একবার দেখে যাও ডাক্তারি কেরামৎ— কাটা ছেঁড়া ভাঙা চেরা চট্পট্ মেরামৎ। কয়েছেন গুরু মোর, “শোন শোন বৎস, কাগজের রোগী কেটে আগে কর মক্স।” উৎসাহে কি না হয়? কি না হয় চেষ্টায়? অভ্যাসে চট্পট্ হাত পাকে শেষটায়। খেটে খুটে জল...
বাবুরাম সাপুড়ে, কোথা যাস্ বাপুরে? আয় বাবা দেখে যা, দুটো সাপ রেখে যা— যে সাপের চোখ্ নেই, শিং নেই, নোখ্ নেই, ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না, করে নাকো ফোঁস্ফাঁস্, মারে নাকো ঢুঁশ্ঢাঁশ, নেই কোন উৎপাত, খায় শুধু...
আরে আরে, ওকি কর প্যালারাম বিশ্বাস? ফোঁস্ ফোঁস্ অত জোরে ফেলো নাকো নিঃশ্বাস। জানো না কি সে-বছর ও-পাড়ার ভূতোনাথ, নিঃশ্বাস নিতে গিয়ে হয়েছিল কুপোকাৎ? হাঁপ ছাড় হ্যাঁস্ফ্যাঁস্ ও রকম হাঁ করে— মুখে যদি ঢুকে বসে পোকা মাছি...
(যদি) কুম্ড়োপটাশ নাচে— খবরদার এসো না কেউ আস্তাবলের কাছে; চাইবে নাকো ডাইনে বাঁয়ে চাইবে নাকো পাছে; চার পা তুলে থাকবে ঝুলে হট্টমূলার গাছে! (যদি) কুম্ড়োপটাশ কাঁদে— খবরদার! খবরদার! বসবে না কেউ ছাদে; উপুড় হয়ে মাচায় শ...
আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা— ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্র হল ব্যথা! ছায়া ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি, রোদের ছায়া, চাঁদের ছায়া, হরেক রকম পুঁজি! শিশির ভেজা সদ্য ছায়া, সকাল বেলায় তাজা! গ্রীষ্মকালে শুকনো...
ওই আমাদের পাগলা জগাই, নিত্যি হেথায় আসে; আপন মনে গুনগুনিয়ে মুচকি-হাসি হাসে। চলতে গিয়ে হঠাৎ যেন থমক লেগে থামে, তড়াক করে লাফ দিয়ে যায় ডাইনে থেকে বামে। ভীষণ রোখে হাত গুটিয়ে সামলে নিয়ে কোঁচা, ‘এইয়ো’ বলে ক্ষ্যাপার মতো...
কল করেছেন আজবরকম চণ্ডীদাসের খুড়ো— সবাই শুনে সাবাস্ বলে পাড়ার ছেলে বুড়ো। খুড়োর যখন অল্প বয়স—বছর খানেক হবে— উঠ্ল কেঁদে ‘গুংগা’ বলে ভীষণ অট্টরবে। আর তো সবাই ‘মামা’ ‘গাগা’ আবোল তাবোল বকে, খুড়োর মুখে ‘গুংগা’ শুনে চম্...
গান জুড়েছেন গ্রীষ্মকালে ভীষ্মলোচন শর্মা— আওয়াজখানা দিচ্ছে হানা দিল্লী থেকে বর্মা! গাইছে ছেড়ে প্রাণের মায়া, গাইছে তেড়ে প্রাণপণ, ছুটছে লোকে চারদিকেতে ঘুরছে মাথা ভন্ভন্। মরছে কত জখম হয়ে করছে কত ছট্ফট্— বলছে হেঁকে,...
আর যেখানে যাও না রে ভাই সপ্তসাগর পার, কাতুকুতু বুড়োর কাছে যেও না খবরদার! সর্বনেশে বৃদ্ধ সে ভাই যেও না তার বাড়ি— কাতুকুতুর কুল্পি খেয়ে ছিঁড়বে পেটের নাড়ি। কোথায় বাড়ী কেউ জানে না, কোন্ সড়কের মোড়ে, একলা পেলে জোর ক’...
প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি! শুনে শুনে আন্মন নাচে মোর প্রাণমন! মাজা–গলা চাঁচা সুর আহ্লাদে ভরপুর! গলা–চেরা গমকে গাছ পালা চমকে, সুরে সুরে কত প্যাঁচ গিট্কিরি ক্যাঁচ্ ক্যাঁচ্! যত ভয় যত দুখ দুরু দুরু ধুক্ ধুক...
শুনতে পেলুম পোস্তা গিয়ে— তোমার নাকি মেয়ের বিয়ে? গঙ্গারামকে পাত্র পেলে? জানতে চাও সে কেমন ছেলে? মন্দ নয়, সে পাত্র ভালো— রঙ যদিও বেজায় কালো; তার উপরে মুখের গঠন অনেকটা ঠিক প্যাঁচার মতন। বিদ্যে বুদ্ধি? বলছি মশাই— ধন্যি...
হেড অফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত, তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জান্ত? দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে, একলা বসে ঝিম্ঝিমিয়ে হঠাৎ গেলেন ক্ষেপে! আঁৎকে উঠে হাত-পা ছুঁ’ড়ে চোখটি ক’রে গোল, হটাৎ বলেন, “গেলুম গেল...
হাঁড়ি নিয়ে দাড়িমুখো কে-যেন কে বৃদ্ধ, রোদে বসে চেটে খায় ভিজে কাঠ সিদ্ধ। মাথা নেড়ে গান করে গুন্ গুন্ সংগীত— ভাব দেখে মনে হয় না-জানি কি পণ্ডিত! বিড়্ বিড়্ কি যে বকে নাহি তার অর্থ— “আকাশেতে ঝুল ঝোলে, কাঠে তাই গর্...
হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না), হয়ে গেলে ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না। বক কহে কচ্ছপে—“বাহবা কি ফুর্তি! অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।” টিয়ামুখো গিরগিটি মনে ভারি শঙ্কা— পোকা ছেড়ে শেষে কিগো খাবে কাঁচা লঙ্কা? ছাগলের প...
ঘাটে বসে আছি আনমনা, যেতেছে বহিয়া সুসময়। এ বাতাসে তরী ভাসাব না তোমা-পানে যদি নাহি বয়। দিন যায় ওগো দিন যায়, দিনমণি যায় অস্তে। নাহি হেরি বাট, দূরতীরে মাঠ ধূসর গোধূলি-ধূলি-ময়। ঘরের ঠিকানা হল না গো, মন করে তবু যাই-যাই।...
একটি মাছি একজন মানুষের কাছে উড়ে এসে বলল: তুমি সব জানোয়ারের মুরুব্বি, তুমি সব কিছুই করতে পার, কাজেই আমাকে একটি লেজ করে দাও। মানুষটি বললে: কি দরকার তোমার লেজের? মাছিটি বললে: আমি কি জন্যে লেজ চাইছি? যে জন্যে সব জাননায়ারে...
জানি জানি কোন আদি কাল হতে ভাসালে আমারে জীবনের স্রোতে, সহসা হে প্রিয় কত গৃহে পথে রেখে গেছ প্রাণে কত হরষণ। কতবার তুমি মেঘের আড়ালে এমনি মধুর হাসিয়া দাঁড়ালে, অরুণ কিরণে চরণ বাড়ালে, ললাটে রাখিলে শুভ পরশন। সঞ্চিত হয়ে আছে...
চিরজনমের বেদনা, ওহে চিরজীবনের সাধনা৷ তোমার আগুন উঠক হে জ্বলে’, কৃপা করিয়ো না দুর্ব্বল বলে’, যত তাপ পাই সহিবারে চাই, পুড়ে হোক ছাই বাসনা অমোঘ যে ডাক সেই ডাক দাও আর দেরি কেন মিছে? যে আছে বাঁধন বক্ষ জড়ায়ে ছিড়ে পড়ে যাক...