বড় আনন্দ উদয়। বহু দিনে ভগবতী আইলা আলয়॥ শঙ্খ ঘণ্টা রব মহামহোৎসব ত্রিভুবনে জয় জয়॥ নাচিছে নাটক গাইছে গায়ক রাগ তাল মান লয়॥ যত চরাচর হরিষ অন্তর পরমানন্দময়॥ রায় গুণাকর কহে পুটকর মোরে যেন দয়া হয়॥ উমা পেয়ে মহেশের বাড়িল আনন্দ। নন্দিরে কহেন কথা হাসি মৃদু মন্দ ॥ শুন শুন অরে নন্দি তুমি বড় ভক্ত। সিদ্ধি ঘুটি দিতে মোরে তুমি বড় শক্ত এত বেলা হৈল দেখ সিদ্ধি নাহি খাই। বুদ্ধি হারা হইয়াছি শুদ্ধি নাহি পাই॥ ফাঁফর হইনু দেখ মুখে উড়ে ফেকো। ভেতাচাকা লাগিল ভুলিয়া হৈমু ভেকো॥ নূতন ঘোটনা কুঁড়া দিয়াছে বিশাই। আজি বড় শুভ দিন বার কর তাই॥ এমন আনন্দ মোর কবে হবে আর। সতী নিবসতি এল গেল অন্ধকার॥ যদবধি এই সতী দক্ষযজ্ঞে গিয়া। ছাড়ি গিয়াছিল মোরে শরীর ছাড়িয়া॥ তদবধি গৃহ শূন্য সিদ্ধি নাহি জানি। আজি হৈল ইষ্টসিদ্ধি সিদ্ধি দেহ আনি॥ অল্প করি সিদ্ধি লহ মন লক্ষ বার। ধুতুরার ফল তাহে যত দিতে পার॥ মহুরী মরীচ লঙ্গ প্রভৃতি মসলা। অধিক করিয়া দিয়া করহ রসলা॥ দুগ্ধ দিয়া ঘন করি ঘুরাও ঘোটনা। দুধ কুসুম্ভায় আজি হয়েছে বাসনা॥ ভৃঙ্গী মহাকাল ভূত ভৈরবাদি যত। সকলে প্রসাদ পাবে ঘোট তারি মত॥ শুনি নন্দী মহানন্দে বন্দি পঞ্চাননে। নূতন ঘোটনা কুঁড়া আনিল যতনে॥ বাছিয়া সিদ্ধির রাশি উড়াইয়া গুঁড়া। ধুইয়া গঙ্গার জলে পূর্ণ কৈল কুঁড়া॥ দুই হাতে ঘোটনা দুপায়ে কুঁড়া ধরি। ত্রিপুরমর্দ্দন নাম মনে মনে স্মরি ॥ তাকে পাকে ঘোটনায় আরম্ভিলা পাক। ঘর্ঘর ঘুরান ঘোর ঘন ঘন ডাক॥ রাশি রাশি তাল তাল পর্ব্বতপ্রমাণ। গঙ্গাজলে ঘুলি কৈল সমুদ্র সমান ॥ সিদ্ধি ঘোটা হৈল হর হাসেন হরিষে। বস্ত্র বিনা ব্যস্ত হৈলা ছাকিবেন কিসে ॥ হৈমবতী হাসিছেন বদনে অঞ্চল। ভারত কহিছে আর ছাকিয়া কি ফল॥