আমার শঙ্কর করুণাকর গো। নিন্দা কর না ত্রিভুবনে মহেশ্বর॥ কালকূট পিয়া বিশ্ব বাঁচাইয়া মৃত্যুঞ্জয় হৈলা হয়। কপালে অনল শিরে গঙ্গাজল অনলে জলে সোঁসর॥ ভালে সুধাকর গলে বিষভর সুধা বিষে বরাবর। ভারত কহিছে মোরে না সহিছে এ শিবে নিন্দে পামর শিবনিন্দা করিয়া মেনকা যত কহে। দক্ষেরে হইল মনে উমায়ে না সহে« যে দুঃখে দক্ষের ঘরে ত্যজিলাম কায়। এখানে মেনকা বুঝি ফেলে সেই দায়॥ হর লয়ে নরলীলা করিবারে চাই। তাহে হয় শিবনিন্দা এ বড় বালাই॥ কি জানি শিবের মনে পাছে হয় ক্রোধ। কৃপা করি মেনকারে উমা দিলা বোধ॥ মেনকার হৈল জ্ঞান দেবীর দয়ায়। মনোহর বর হরে দেখিবারে পায়॥ জটাজূট মুকুট দেখিলা ফণি মণি। বাঘছাল দিব্য বস্ত্র দিব্য পৈতা ফণি॥ ছাই দিব্য চন্দন বদন কোটি চাঁদ। মুগ্ধ হৈল সর্ব্বজন দেখিয়া সুছাঁদ॥ হরগুণ বরগুণ হৈল এক ঠাঁই। মেনকা আনন্দে ঘরে লইলা জামাই॥ এই রূপে হরগৌরীবিবাহ হইল। হিমালয় মেনকার আনন্দ বাড়িল॥ কুতূহলে হুলাহুলি দেয় এয়োগণ। ঋষিগণ বেদগানে পূরিল ভুবন॥ কিন্নর করয়ে গান নাচয়ে অপ্সর। অশেষ কৌতুক করে যত বিদ্যাধর॥ উমা লয়ে উমাপতি গেলেন কৈলাস। বিধি বিষ্ণু আদি সবে গেলা নিজ বাস॥ নিত্যসখী আসি জয়া বিজয়া মিলিল। ডাকিনী যোগিনী আদি যে যেখানে ছিল॥ আজ্ঞা দিলা কৃষ্ণচন্দ্র ধরণী ঈশ্বর। রচিল ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর॥