আই আই ওই বুড়া কি এই গৌরীর বর লো। বিয়ার বেলা এয়োর মাঝে হৈল দিগম্বর লো॥ উমার কেশ চামরছটা তামার শলা বুড়ার জটা তায় বেড়িয়া ফোঁফায় ফণী দেখে আসে জ্বর লো। উমার মুখ চাঁদের চূড়া বুড়ার দাড়ী শণের লুড়া ছারকপালে ছাইকপালে দেখে পায় ডর লো॥ উমার গলে মণির হার বুড়ার গলে হাড়ের ভার কেমন করে ও মা উমা করিবে বুড়ার ঘর লো। আমার উমা মেয়ের চূড়া ভাঙ্গড় পাগল ওই না বুড় ভারত কহে পাগল নহে ওই ভুবনেশ্বর লো॥ কান্দে রাণী মেনকা চক্ষুর জলে ভাসে। নখে নখ বাজায়ে নারদ মুনি হাসে॥ কন্দলে পরমানন্দ নারদের ঢেঁকী। আঁকশলী পোয়া মোনা গড়ে মেকামেকি॥ পাখা নাহি তবু ঢেঁকী উড়িয়া বেড়ায়। কোণের বহুড়ী লয়ে কন্দলে জড়ায়॥ সেই ঢেঁকী চড়ে মুনি কান্ধে বীণ যন্ত্র। দাড়ী লড়ে ঘন পড়ে কন্দলের মন্ত্র॥ আয় রে কন্দল ভোরে ডাকে সদাশিব। মেয়ে গুলা মাথা কোড়ে তোরে রক্ত দিব॥ বেনা ঝোড়ে ঝুটি বান্ধি কি কর বসিয়া। এয়ে সুয়া এক ঠাঁই দেখ রে আসিয়া॥ ঘুরূলে বাতাস লয়ে জলের ঘুরলে। সেহাকুল কাঁটা হাতে ঝাট এসে চলে॥ এক ঠাই এত মেয়ে দেখা নাহি যায়। দোহাই চণ্ডীর তোরে আয় আয় আয়॥ নারদের মন্ত্র তন্ত্র না হয় নিষ্ফল। পরম্পর এয়োগণে বাজিল কন্দল॥ এ বলে উহারে সই ওটা বড় ঠেঁটা। আর জন বলে সই এই বটে সেটা॥ যেই মাত্র বুড়া বর হইল লেঙ্গটা। আই মা লো চেয়ে রৈল ফেলিয়া ঘোমটা॥ সে বলে লো বটে বটে আমি বড় ঠেঁটা। গোবিন্দে সুন্দর দেখি চেয়ে রৈল কেটা॥ তার সই বলে থাক জানি লো উহারে। পথিকেরে ভুলাইয়া আনে আঁখি ঠারে॥ ইহার হইয়া কহে উহার মকর। গোবিন্দেরে দেখিয়াছে এ বড় পামর॥ চারিমুখা রাঙ্গাটা বরের ভাই হেন। তার দিকে তোর দিদী চেয়ে রৈল কেন॥ সে বলে নাফানী আলো না জান আপনী। চাঁদে দেখি দেখিয়াছি তোর সতীপনা॥ এই রূপে কন্দলে লাগিল ঝুটাঝুটি। ডাকাডাকি গালাগালি মাথা কুটাকুটি॥ দাঁড়াইয়া পিঁড়ায় হাসেন পশুপতি। হেটমুখে মৃদু মন্দ হাসেন পার্ব্বতী॥ হর হর বলিয়া ডাকিছে ভূত যত। হরিষ বিষাদে হিমালয় জ্ঞানহত। ভূতভয়ে এয়োগণ নীরব রহিছে। ডুকরিয়া ফুকরিয়া মেনকা কহিছে॥ আহা মরি ও মা উমা সোণার পুতুল। বুড়ারে কে বলে বর কেবল বাতুল॥ পায়ে পড়ে আমার উমার কেশ পাশ। বুড়ার বিকট জটা পরশে আকাশ॥ আমার উমার দন্ত মুকুতাগঞ্জন। বায়ে লড়ে ভাঙ্গা বেড়া বুড়ার দশন॥ উমার বদন চাঁদে পরকাশে রাকা। বুড়ার বিকট মুখে দাড়ী গোঁফ পাকা॥ কি শোভা উমার গায়ে সুগন্ধি চন্দন। ছাই মাখে অঙ্গে বুড়া এ কি অলক্ষণ॥ উমার গলায় জাতী মালতীর মালা। বুড়ার গলায় হাড়মালা এ কি জ্বালা॥ বিচিত্র বসন উমা পরে কত বন্ধে। বাঘছাল পরে বুড়া আঁত উঠে গন্ধে॥ উমার রতনকাঞ্চী ভ্রমর গুঞ্জরে। বুড়ার কোমরবন্ধ ফণী ফোঁস ধরে॥ নিছনি করিতে গেলু লয়ে তৈল কুড়। সাপে খেয়ে ছিল প্রায় বাঁচালে গরুড়॥ আই মা এ লাজ কি রাখিতে ঠাঁই আছে। কেমনে উলঙ্গ হৈল শাশুড়ীর কাছে॥ আলো নিবাইনু সবে দারুণ লজ্জায়। কপালে আগুন তার আলো করে তায়॥ আ হা মরি বাছা উমা কি তপ করিলে। সাপুড়ের ভূতুড়ের কপালে পড়িলে॥ বরযাত্র প্রেত ভূত দাঁড়াইয়া মুতে। ভাগ্যবলে এয়োগণে না পাইল ভূতে॥ কহিছে ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর। দক্ষযজ্ঞ মনে করি নিন্দহ শঙ্কর॥