চলেছে তরণী মোর শান্ত বায়ুভরে। প্রভাতের শুভ্র মেঘ দিগন্তশিয়রে। বরষার ভরা নদী তৃপ্ত শিশুপ্রায় নিস্তরঙ্গ পুষ্ট-অঙ্গ নিঃশব্দে ঘুমায়। দুই কূলে স্তব্ধ ক্ষেত্র শ্যাম শস্যে ভরা, আলস্যমন্থর যেন পূর্ণগর্ভা ধরা। আজি সর্ব জলস্থল কেন এত স্থির! নদীতে না হেরি তরী, জনশূন্য তীর। পরিপূর্ণ ধরা-মাঝে বসিয়া একাকী চিরপুরাতন মৃত্যু আজি ম্লান-আঁখি সেজেছে সুন্দর বেশে, কেশে মেঘভার; পড়িছে মলিন আলো ললাটে তাহার। গুঞ্জরিয়া গাহিতেছে সকরুণ তানে, ভুলায়ে নিতেছে মোর উতলা পরানে। ৭ শ্রাবণ ১৩০৩ — চৈতালি (1896)