দরদালানের ভিড়—পৃথিবীর শেষে যেইখানে প’ড়ে আছে– শব্দহীন— ভাঙা— সেইখানে উঁচু-উঁচু হরিতকী গাছের পিছনে হেমন্তের বিকেলের সূর্য গোল— রাঙা— চুপে-চুপে ভুলে যায়— জ্যোৎস্নায়। পিপুলের গাছে ব’সে পেঁচা শুধু একা চেয়ে দ্যাখে; সোনার বলের মতো সূর্য আর রুপার ডিবের মতে চাঁদের বিখ্যাত মুখ দেখা। হরিতকী শাখাদের নিচে যেন হীরের স্ফুলিঙ্গ আর স্ফটিকের মতো শাদা জলের উল্লাস; নৃমুণ্ডের আবছায়া— নিস্তব্ধতা— বাদামী পাতার ঘ্রাণ— মধুকূপী ঘাস। কয়েকটি নারী যেন ঈশ্বরীর মতো: পুরুষ তাদের: কৃতকর্ম নবীন; খোঁপার ভিতরে চুলে: নরকের নবজাত মেঘ, পায়ের ভঙ্গির নিচে হঙকঙের তৃণ। সেখানে গোপন জল ম্লান হ’য়ে হীরে হয় ফের, পাতাদের উৎসরণে কোনো শব্দ নাই; তবু তা’রা টের পায় কামানের স্থবির গর্জনে বিনষ্ট হতেছে সাংহাই। সেইখানে যূথচারী কয়েকটি নারী ঘনিষ্ঠ চাঁদের নিচে চোখ আর চুলের সংকেতে মেধাবিনী; দেশ আর বিদেশের পুরুষেরা যুদ্ধ আর বাণিজ্যের রক্তে আর উঠিবে না মেতে। প্রগাঢ় চুম্বন ক্রমে টানিতেছে তাহাদের তুলোর বালিশে মাথা রেখে আর মানবীয় ঘুমে স্বাদ নেই; এই নিচু পৃথিবীর মাঠের তরঙ্গ দিয়ে ওই চূর্ণ ভূখণ্ডের বাতাসে— বরুণে ক্রূর পথ নিয়ে যায় হরিতকী বনে— জ্যোৎস্নায়। যুদ্ধ আর বাণিজ্যের বেলোয়ারি রৌদ্রের দিন শেষ হ’য়ে গেছে সব; বিনুনিতে নরকের নির্বচন মেঘ, পায়ের ভঙ্গির নিচে বৃশ্চিক— কর্কট— তুলা— মীন। — শ্রেষ্ঠ কবিতা (1954)